04/09/2022
ওজন কমাতে গ্রিন কফি কেন উপকারী
ওজন কমাতে সাহায্য করে এরকম সাপ্লিমেন্ট খাবারের মধ্যে গ্রিন কফির নাম অনেকেই শুনেছেন। তবে, ওজন হ্রাস করতে গ্রিন কফি কীভাবে সহায়তা করে এটি বুঝতে, আমাদের নির্দিষ্ট উপাদানগুলি এবং তাদের কার্যকারিতা বুঝতে হবে। এটি জানার আগে আমাদের বুঝতে হবে কেন গ্রিন কফি সাধারণ কফির পরিবর্তে ওজন হ্রাসে সহায়ক হিসাবে বিবেচিত হয়।
প্রকৃতপক্ষে, আমরা সাধারণভাবে যে কফি ব্যবহার করি তা প্রক্রিয়াজাত হয়। এই কারণে, এর স্বাদটি বেশ আকর্ষণীয়, তবে এতে আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলির অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিন কফি কোনওভাবেই প্রক্রিয়াজাত করা হয় না, স্বাভাবিক কফির একটি প্রাকৃতিক রূপ যা সরাসরি ব্যবহৃত হয়। তাই, ওজন হ্রাস জন্য গ্রিন কফি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গ্রিন কফি খাবার আরোও অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমন –
১. ইনসুলিন সক্রিয় করে
প্রকৃতপক্ষে, এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড (Chlorogenic Acids) রয়েছে, যার অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য ইনসুলিন হরমোনকে সক্রিয় করে এবং হৃদয়ের বিভিন্ন রকমের সমস্যা প্রতিরোধ করে। একই সময়ে, এতে ক্যাফিনের পরিমাণ সাধারণ কফির চেয়ে অনেক কম পরিমাণে থাকে। এই কারণে গ্রিন কফি খেলে ক্যাফিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি দেহের বেশী ক্ষতি করতে পারে না। এই কারণেই এটি ওজন হ্রাসের জন্য ভাল ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে গ্রিন কফি স্থূলতার জন্য দায়ী জিনকে হ্রাস করে এবং ইনসুলিনের কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে।
২. চর্বি শোষণ প্রতিরোধ করে
অন্য একটি গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে গ্রিন কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড চর্বি শোষণকেও বাধা দিতে পারে। গ্রিন কফি দেহের মেটাবলিজম রেট বাড়িয়ে শরীরের মেদ ঝড়াতে সাহায্য করে।একই সাথে এটি লিভারের কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে এবং বিপাক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যা দেহে ফ্যাট জমতে বাঁধা দেয়।
আমরা জানি, দেহের ইতি-উতি চর্বি জমে যাওয়াই স্থূলত্বের সমস্যার মূল লক্ষণ।
৩. রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে
গ্রিন কফিতে আরও একটি বিশেষ উপাদান পাওয়া যায় – ট্রাইগোনেলিন (Trigonelline)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড এবং ট্রাইগোনেলিন, এই দুটি উপাদান সম্মিলিতভাবে ইনসুলিন হরমোনকে সক্রিয় করে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারীতা সঠিক মাত্রায় বজায় থাকলে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলেও চিন্তার কোনো বিষয় নেই।
৪. স্থূলত্ব সম্পর্কিত হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে
শুধু এটিই নয়, গ্রিন কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত করে স্থূলত্ব আনতে পারে বা ওজন বৃদ্ধি করে এমন হরমোনগুলির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে, মাঝেমধ্যে হাই-ফ্যাট খাবার খেলেও বিশেষ কোনো সমস্যা হয় না।
৫. ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড শরীরের প্লাজমা ট্রাইগ্লিসারাইড (এক ধরণের ফ্যাট) এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে পারে, যা স্থূলত্ব সমস্যার অন্যতম এক কারণ।