Ruqyah Service Bd

Ruqyah Service Bd Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ruqyah Service Bd, Chittagong.

বদনজর ও হাসাদ: পর্ব - ৩ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন:"মানুষ নিজের অজান্তেই নিজের ওপর বদনজর দিয়ে ফেলে। যখন সে নিজের কোনো ...
18/06/2026

বদনজর ও হাসাদ: পর্ব - ৩

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন:
"মানুষ নিজের অজান্তেই নিজের ওপর বদনজর দিয়ে ফেলে। যখন সে নিজের কোনো বিষয় দেখে খুব বেশি আনন্দিত বা বিস্মিত হয়, কিন্তু আল্লাহর বরকতের কথা স্মরণ করে না, তখন তার নিজের দৃষ্টিই বিষাক্ত তীরের মতো নিজের ক্ষতি করে।" তাই নিজের আয়নায় নিজের চেহারা দেখার সময়, নিজের সন্তানকে আদর করার সময় বা নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স/সম্পদ দেখার সময় সর্বদা মুখ ফুটে ‘মাশাআল্লাহ’ বা ‘আল্লাহুম্মা বারিক’ বলা উচিত।
আজকের পর্বে আমরা কুরআন এবং হাদিস থেকে কিছু দলিল জানবো ইনশাআল্লাহ।

#কোরআন থেকে দলিল
১. সূরা ইউসুফ (আয়াত: ৫)
হযরত ইয়াকুব (আ.) যখন বুঝতে পেরেছিলেন যে হযরত ইউসুফ (আ.)-এর একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং তাঁর ভাইদের মনে হিংসার উদ্রেক হতে পারে, তখন তিনি তাঁকে তাঁর স্বপ্নের কথা ভাইদের কাছে বলতে নিষেধ করেছিলেন। মুফাসসিরদের মতে, এর অন্যতম কারণ ছিল হিংসা থেকে সৃষ্ট বদনজর।

قَالَ يَا بُنَيَّ لَا تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلَىٰ إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا ۖ إِنَّ الشَّيْطَانَ لِلْإِنسَانِ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

অর্থ: "তিনি (ইয়াকুব) বললেন, হে আমার প্রিয় বৎস! তোমার এই স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বলো না; তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করবে। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।"

ব্যাখ্যা: ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, মানুষের ভেতরের হিংসা যখন তীব্র রূপ নেয়, তখন তা দৃষ্টির মাধ্যমে তীরের মতো নির্গত হয়। ইয়াকুব (আ.) জানতেন যে ইউসুফের প্রতি ভাইদের ঈর্ষা বদনজরের মাধ্যমে তাঁর ক্ষতি করতে পারে।

২. সূরা আল-কাহফ (আয়াত: ৩৯)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নিজের কোনো নিয়ামত বা অন্যের কোনো সুন্দর জিনিস দেখলে অহংকার না করে আল্লাহর শুকরিয়া ও বরকতের দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন। এটি বদনজর প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ঢাল:

وَلَوْلَا إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

অর্থ: "আর তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন বললে না— ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই’?"

ব্যাখ্যা: হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের অধীনে লিখেছেন, সালাফদের (পূর্বসূরি আলেমদের) নিয়ম ছিল— যখনই তারা নিজেদের সন্তান, সম্পদ বা কোনো চমৎকার অবস্থা দেখতেন, তখন এই আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন, যাতে নিজের অজান্তেও নিজের কোনো জিনিসে বদনজর না লেগে যায়।

৩. সূরা আল-ক্বালাম (আয়াত: ৫১)
আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَإِن يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ

অর্থ: "কাফেররা যখন উপদেশ বাণী (কুরআন) শোনে, তখন তারা যেন তাদের চোখ বা দৃষ্টি দিয়ে আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দেবে (ক্ষতি করবে)। আর তারা বলে, সে তো এক পাগল।"

ব্যাখ্যা: ইবনে আব্বাস (রা.)-সহ বহু মুফাসসিরের মতে, এখানে কাফেরদের হিংসা ও কুদৃষ্টির (বদনজরের) মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষতি করার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে।

৪. সূরা আল-ফালাক (আয়াত: ৫)
বদনজরের মূলে থাকে মানুষের হিংসা বা ঈর্ষাকাতর দৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা এই সূরায় হিংসুকের নজর ও অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন:

وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

অর্থ: "এবং (আমি আশ্রয় চাই) হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।"

ব্যাখ্যা: ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) সহ বহু স্কলার বলেছেন, প্রত্যেক বদনজরকারীই মূলত হিংসুক, কিন্তু প্রত্যেক হিংসুক সরাসরি বদনজর দিতে পারে না। যখন কোনো হিংসুক ব্যক্তি তার হিংসাপূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে কারও দিকে তাকায়, তখন তার আত্মা থেকে একটি বিষাক্ত বা ক্ষতিকর প্রভাব নির্গত হয়, যা অন্য ব্যক্তির ক্ষতি করে।

#হাদীস থেকে দলিল
১. পাহাড়ের চূড়া থেকে আছড়ে ফেলা:
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

«العَيْنُ حَقٌّ، تَسْتَنْزِلُ الحَالِقَ»

অর্থ: "বদনজর একটি ধ্রুব সত্য, এটি (পাহাড়ের) সুউচ্চ চূড়া থেকে (শক্তিশালী মানুষকে) নিচে আছড়ে ফেলে।" — [মুসনাদে আহমাদ, সিলসিলাহ সহীহাহ: ১২৫২]

ব্যাখ্যা: এর অর্থ হলো, একজন পাহাড়ের চূড়ার মতো শক্তিশালী ও নিরাপদ স্থানে থাকা মানুষও বদনজরের তীব্র প্রভাবে মুহূর্তে ধ্বংস বা নিচে পতিত হতে পারে।

২. জিনদের বদনজরও সত্য:
বদনজর শুধু মানুষেরই লাগে না, বরং জিন জাতিও মানুষকে বদনজর দিতে পারে। হাদিসে এ বিষয়ে পরিষ্কার সতর্কতা এসেছে:
উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) তাঁর ঘরে একটি ছোট মেয়েকে দেখলেন যার চেহারায় কালচে দাগ ছিল। তখন তিনি বললেন:

«اسْتَرْقُوا لَهَا، فَإِنَّ بِهَا النَّظْرَةَ»

অর্থ: "তোমরা এই মেয়েটির জন্য রুকইয়াহর ব্যবস্থা করো, কেননা তার বদনজর লেগেছে।" — [সহীহ বুখারী: ৫৭৩৯]

ব্যাখ্যা: ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকর ইবনে আবু শায়বাহর বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তাকে জিনদের বদনজর লেগেছে।" অর্থাৎ, মানুষের মতো জিনদের কুদৃষ্টিও মানুষের ক্ষতি করে।

৩. ভাগ্যকে অতিক্রম করার ক্ষমতা
আল্লাহর রাসূল (সা.) আরও বলেছেন:

لَوْ كَانَ شَىْءٌ سَابَقَ الْقَدَرَ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ

অর্থ: "যদি ভাগ্যকে কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারত, তবে বদনজরই তাকে অতিক্রম করত।" — [সহীহ মুসলিম: ২১৮৮]

৪. উম্মতের মৃত্যুর অন্যতম কারণ
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

أَكْثَرُ مَنْ يَمُوتُ مِنْ أُمَّتِي بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ وَقَضَائِهِ وَقَدَرِهِ بِالْأَنْفُسِ» (يعني بالعين)

অর্থ: "আল্লাহর কিতাব, ফয়সালা এবং তাকদীরের পর আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাবে বদনজরের কারণে।" — [আল-বানি, সহীহুল জামি‘: ১২০৬]

৫. নিয়ামত গোপন রাখার শিক্ষা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

«اسْتَعِينُوا عَلَى إِنْجَاحِ الْحَوَائِجِ بِالْكِتْمَانِ، فَإِنَّ كُلَّ ذِي نِعْمَةٍ مَحْسُودٌ»

অর্থ: "তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য বা হাজতগুলো গোপন রাখার মাধ্যমে তা সফল করার সাহায্য নাও। কারণ, প্রতিটি নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিই (মানুষের) হিংসার শিকার হয়।" — [তাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ: ১৪৫৩]

পশু-পাখি, জড়বস্তু এবং শিশুদের ওপর প্রভাব:
বদনজর যে শুধু মানুষের ওপর কাজ করে তা নয়, পশু-পাখি বা জড়বস্তুর ওপরও এর প্রভাব পড়ে। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

«إن العين لتولج الرجل القبر، وتولج الجمل القدر»

ব্যাখ্যা: মুহাদ্দিসগণ বলেন, সুস্থ-সবল ও তেজী ঘোড়া বা উট হঠাৎ করে তীব্র বেগে ছুটতে ছুটতে আছাড় খেয়ে পা ভেঙে ফেলে বা মারা যায় মানুষের অতিরিক্ত প্রশংসা বা হিংসাত্মক নজর লাগার কারণে।

শিশুদের ওপর প্রভাব:
হযরত আসমা বিনতে আবি বকর (রা.)-এর একটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, মদীনার নারী ও শিশুরা যখন কোনো নবজাতককে দেখতে আসত, তখন তারা খুব সতর্ক থাকত।
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো এক আনসারী সাহাবীর বাড়ি গিয়ে একটি শিশুকে কাঁদতে দেখে বললেন:
"তোমাদের এই শিশুটি কেন এভাবে কাঁদছে? তোমরা কি একে বদনজর থেকে বাঁচানোর জন্য রুকইয়াহ করছ না?" — [মুসনাদে আহমাদ]

ব্যাখ্যা: ছোট শিশুরা কোনো কারণ ছাড়া, পেটে ব্যথা বা ক্ষুধা ছাড়া যদি একটানা কাঁদতে থাকে এবং কিছুতেই শান্ত না হয়, তবে সুন্নাহর দৃষ্টিতে ধরে নেওয়া হয় তার উপর কারও নজর লেগেছে।

আল্লাহ আমাদেরকে সকল বদনজর ও হাসাদ থেকে হেফাজত করুন এবং কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

#নজর #বদনজর #হাসাদ #হিংসা #রুকইয়াহ #কুদৃষ্টি

বদনজর ও হাসাদ: পর্ব - ২গত পর্বে আমাদের আলোচনায় ছিল মানুষের জীবনে বদনজরের ভূমিকা। আর আজকের পর্বে আমরা জানব মানুষ কেন ও ক...
11/06/2026

বদনজর ও হাসাদ: পর্ব - ২
গত পর্বে আমাদের আলোচনায় ছিল মানুষের জীবনে বদনজরের ভূমিকা। আর আজকের পর্বে আমরা জানব মানুষ কেন ও কীভাবে বদনজর এবং হাসাদের শিকার হয় এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব আল্লাহর ইচ্ছায় কোন লেভেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, ইনশাআল্লাহ।

অনেক সময় আমরা নিজের পরিবারের কারও ভালো কিছু দেখলে তা নিজেরা অনেক আনন্দের সাথে একে অপরের কাছে বলতে থাকি; এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের সামনেও তা প্রকাশ করি (কিংবা আত্মীয়রাই আমাদের সামনে তা বলতে থাকে)। অথচ এই প্রশংসার সাথে আল্লাহর কোনো শুকরিয়া বা বরকতের দোয়া (যেমন: ما شاء الله, بارك الله) করা হয় না। ফলে আপনজনদের মাধ্যমেও বদনজর লেগে যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, মানুষ কেন ও কীভাবে বদনজরে আক্রান্ত হয় এবং এর পরিণতি কী।

নিজেদের গুণ বা নেয়ামত প্রদর্শন করা:
আমাদের অন্যতম একটি বড় ভুল হলো—নিজেদের ভালো যে গুণ বা নেয়ামতগুলো রয়েছে, সেগুলো অন্যদের সামনে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় প্রকাশ করে ফেলা। কখনো নিজের খুশিতে, কখনো অন্যকে খুশি করতে, আবার কখনো অন্যের সামনে নিজেকে প্রশংসনীয় করে তুলতে আমরা তা প্রদর্শন করি, যা মানুষের কুদৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার:
বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের ভালো লাগা বা মন্দ লাগা শেয়ার করা। নিজের, পরিবারের কিংবা বন্ধুদের সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর ছবি ও ভিডিও প্রতিনিয়ত শেয়ার করা। এই প্রকাশ্য প্রদর্শনীর কারণে খুব সহজেই মানুষের হিংসা বা বদনজরের শিকার হতে হয়।

নিজের অজান্তেই বদনজর লেগে যাওয়া ও তার পরিণতি: আপনার কোনো কিছু অন্যের কাছে ভালো লেগেছে এবং এর ফলে আপনার ওপর বদনজর লেগে গেল—সেটি ওই ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত হোক কিংবা অনিচ্ছাকৃত। এই ক্ষেত্রে আপনি বুঝতেই পারলেন না যে আপনার ওপর বদনজর লেগেছে। পরবর্তীতে দেখা যায়, আপনার সেই বিশেষ গুণ বা নেয়ামতটিই চিরতরে হারিয়ে গেল (অর্থাৎ মরে গেল)। এখানে আপনি জীবিত থাকলেও আপনার সেই গুণটি আর জীবিত নেই। এই ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বিখ্যাত হাদিসের কথা মনে পড়ে যায়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

«الْعَيْنُ تُدْخِلُ الرَّجُلَ الْقَبْرَ ، وَتُدْخِلُ الْجَمَلَ الْقِدْرَ»

অর্থ: "বদনজর মানুষকে কবর পর্যন্ত এবং উটকে ডেকচি বা পাতিল পর্যন্ত (অর্থাৎ মৃত্যুর মুখোমুখি) নিয়ে যায়।" (আবু নুআইম, সিলসিলাহ সহীহাহ, হাদিস নং- ১২৪৯)

শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উৎফুল্লতা প্রকাশ:
শিশুদের ক্ষেত্রে বদনজর সবচেয়ে বেশি কাজ করে। বাচ্চা হয়তো আগে খুব শান্তশিষ্ট, সুস্থ ও উত্তম আখলাকের অধিকারী ছিল, কান্না কম করত। আমরা নিজেরা খুব উৎফুল্লতার সাথে এগুলো নিয়ে আলোচনা বা গর্ব করেছি এবং অন্যদেরকেও বলেছি। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা গেল বাচ্চার দুষ্টুমি বেড়ে গেল, অকারণে ঘন ঘন অসুস্থ হতে লাগল, প্রচুর কান্না শুরু করল, অতিরিক্ত জেদ করতে লাগল এবং তার আচরণেও ত্রুটি দেখা দিল।

বিয়ের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা (কমন কেইজ):
আমাদের সমাজে আরেকটি চাক্ষুষ উদাহরণ হলো—এমন সুদর্শন নারী, যার সম্পর্কে বালেগা (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়ার পর থেকেই সবার এবং নিজেরও ধারণা ছিল যে এই মেয়েকে বিয়ে দিতে কোনো বেগ পেতে হবে না, সহজেই বিয়ে হয়ে যাবে। অথচ দেখা যায়, মানুষের কুদৃষ্টি ও বদনজরের কারণে অনেক চেষ্টার পরেও তার বিয়ে হচ্ছে না বা বারবার বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে।

সন্ধ্যার সময়ে চলাচল এবং জ্বিনদের বদনজর:
কোনো কারণ ছাড়াই সন্ধ্যার সময়টাতে নারী ও শিশুদের ঘরের বাইরে বের করা হলে বদনজর এবং জ্বিনদের আসরের ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সময়ে শিশুদের ঘরে আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

«إِذَا كَانَ جُنْحُ اللَّيْلِ، أَوْ أَمْسَيْتُمْ، فَكُفُّوا صِبْيَانَكُمْ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْتَشِرُ حِينَئِذٍ، فَإِذَا ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ فَخَلُّوهُمْ»

অর্থ: "যখন রাতের অন্ধকার আগমন করে অথবা তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও, তখন তোমাদের সন্তানদের (বাইরে যাওয়া থেকে) আটকে রাখো। কারণ এ সময়ে শয়তানরা (জ্বিন-শয়তান) চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু অংশ পার হয়ে গেলে তখন তাদের ছাড়তে পারো।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৩২৮০; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ২০১৬)

অসময়ে বের হওয়ার ফলে কোনো বাহ্যিক কারণ ছাড়াই হঠাৎ মুখে ব্রণ ওঠা শুরু হয়, চেহারা কালচে হতে শুরু করে কিংবা হুটহাট রাগ বেড়ে যায়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে, শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে, গায়ের রং হঠাৎ কালো হয়ে যাচ্ছে এবং শরীরের সুন্দর অঙ্গগুলোতে অসুস্থতা লেগেই থাকে। আপনাদের এটিও মাথায় রাখতে হবে যে, মানুষের পাশাপাশি জ্বিনরাও কিন্তু বদনজর দিতে পারে।

ইবাদতে অলসতা, ক্লান্তি ও ভারী ভাব:
বদনজরের আরেকটি বড় লক্ষণ হলো—ইবাদত করতে গেলেই শরীর ভারী লাগা। মনে হয় যেন সব ঘুম নামাজে দাঁড়ালেই এসে হাজির হয়! জিকির করতে বসলেই ঘুমিয়ে যাওয়া। শয়তান সবসময় চাইবে যেন আপনি মনোযোগ দিয়ে ইবাদত করতে না পারেন, আর বদনজরের মাধ্যমে সে এই সুযোগটি লুফে নেয় এবং আপনাকে অলস বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়।

পড়ালেখা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে তুলনা বা হিংসা:
আমাদের দেশের আরেকটি কমন সামাজিক ব্যাধি হলো—"ভাবি, আপনার বাচ্চার রেজাল্ট কেমন হলো? আমার বাচ্চা তো এবার পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছে।" এমন তুলনা বা আলোচনা করতে করতে একটা সময় দেখা যায়, বাচ্চার পরীক্ষার সময় আসলেই সে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে; অথচ অন্য সময় সে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে।

উপরের এই সবগুলো কারণের মধ্যে যদি আপনারা খেয়াল করেন, তবে দেখতে পাবেন বদনজরে আক্রান্ত হওয়ার পেছনের মূল কারণগুলো সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। এভাবে বলতে গেলে আরও অনেক কেইজ বলা যাবে। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, আমাদের সতর্ক হতে হবে যে আমরা নিজেরাই নিজেদের কিংবা এক মুসলিম অপর মুসলিমের ক্ষতি করছি কিনা।

ইনশাআল্লাহ, আগামী পর্বে আমরা এ সম্পর্কিত কুরআন ও হাদিসের কিছু দলিল (প্রমাণ) জেনে নেব।

#নজর #বদনজর #হাসাদ #হিংসা #রুকইয়াহ #কুদৃষ্টি #চট্রগ্রাম

🛑 যে চোখ শিফার পথপ্রদর্শক, সে চোখে যদি বিষ থাকে?রুকইয়াহ্ শারইয়্যাহ কোনো জাদুর মন্ত্র নয়; এটি হলো রাব্বুল আলামিনের কালাম...
04/06/2026

🛑 যে চোখ শিফার পথপ্রদর্শক, সে চোখে যদি বিষ থাকে?

রুকইয়াহ্ শারইয়্যাহ কোনো জাদুর মন্ত্র নয়; এটি হলো রাব্বুল আলামিনের কালামের এক অলৌকিক স্পর্শ। কিন্তু যে হৃদয় এই পবিত্র কালাম উচ্চারণ করছে, সেই হৃদয়ের আয়নাটা কি পরিষ্কার?

একটু কল্পনা করুন। একজন রাকী (যিনি রুকইয়াহ্ করেন) রোগীর সামনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াত করছেন। রোগী হয়তো জিনের আসর, বদনজর বা জাদুর প্রভাবে ছটফট করছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত শিফা বা আরোগ্য যেন কিছুতেই ধরা দিচ্ছে না।

কখনো কি আমরা ভেবে দেখেছি—সমস্যাটা হয়তো তিলাওয়াতে বা আয়াতে নয়, বরং যে ঠোঁট তিলাওয়াত করছে তার পেছনের হৃদয়ে? আর এই হৃদয়কে সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে দ্রুত কলুষিত করে আমাদের ‘চোখ’।

আজকের এই আধুনিক যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রল থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়—সবখানেই দৃষ্টির ফিতনা ছড়ানো। একজন রাকী শয়তান এবং জিনের বিরুদ্ধে এক অদৃশ্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। এই রণাঙ্গনে তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "দৃষ্টি হলো ইবলিসের বিষাক্ত তীরগুলোর মধ্যে একটি তীর।"
একটু ভেবে দেখুন, যে অন্তর প্রতিদিন ইবলিসের ছোঁড়া বিষাক্ত তীরে বিদ্ধ হয়ে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, সেই অন্তর থেকে উচ্চারিত কোরআনের আয়াত দিয়ে ইবলিসের অনুচরদের (জিন বা শয়তান) কীভাবে পরাস্ত করা সম্ভব?

যে চোখ দিয়ে গোপনে গায়র-মাহরামের দিকে তাকানো হয়, সেই একই চোখ দিয়ে যখন কোরআনের দিকে তাকানো হয়, তখন কি সেই পবিত্র নূর অন্তরে প্রবেশ করতে পারে?

নজরের হিফাজত কেবল একটি আমল নয়—এটি অন্তরের পরিচ্ছন্নতার দরজা।
একজন রাকী যখন নিজের চোখকে হিফাজত করে—

• তার দোয়ায় ইখলাস বাড়ে
• কুরআনের তিলাওয়াতে প্রভাব আসে
• অন্তরে নূর সৃষ্টি হয়
• রোগীর প্রতিও তার আচরণে আদব ও সীমারেখা বজায় থাকে

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া, শর্ট ভিডিও, অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন যোগাযোগ—এসব একজন রাকীর আত্মাকে নিঃশব্দে দুর্বল করে দিতে পারে।

যখন একজন রাকী তার নজরের হিফাজত করতে ব্যর্থ হন, তখন তার ভেতরের রূহানিয়াত বা আধ্যাত্মিক শক্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আন-নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন:
> "মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে।"

এই নির্দেশ শুধু সাধারণ মানুষের জন্যই নয়; বরং যারা মানুষের শিফার জন্যে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি অনেক বেশি সংবেদনশীল। একজন রাকী যখন বিপরীত লিঙ্গের কোনো রোগীর চিকিৎসা করেন, তখন শয়তান খুব সূক্ষ্মভাবে তাকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই এখানে হিকমাহ এবং কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণ—উভয়ই অপরিহার্য। প্রখ্যাত তাবেঈ হাসান বসরী (রাহ.) বলতেন, "যে ব্যক্তি তার দৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়, তার অনুশোচনা দীর্ঘস্থায়ী হয়।"

অন্যদিকে, এই কথাগুলো শুধু রাকিদের জন্যই নয়, বরং যারা আরোগ্য খুঁজছেন (রোগী), তাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। আপনি আল্লাহর কাছে নিজের অসুস্থতা থেকে মুক্তি চাইছেন, অথচ আপনার চোখ নিমজ্জিত আছে হারাম মুভি, নাটক, বা সোশ্যাল মিডিয়ার অযাচিত কনটেন্টে। তাহলে আসমান থেকে শিফা কীভাবে নাযিল হবে?

গুনাহের অন্ধকার আর শিফার নূর কখনো এক পাত্রে থাকতে পারে না।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা কেউই ফেরেশতা নই। আমাদের পদস্খলন হতে পারে। কিন্তু একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, সে হোঁচট খেলে আবার উঠে দাঁড়ায়, রবের কাছে ফিরে আসে।

তাওবার দরজা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খোলা। আজ থেকেই আসুন না, আমাদের দৃষ্টিগুলোকে পবিত্র করার এক নতুন সংগ্রাম শুরু করি! রাস্তায়, ক্যাম্পাসে, কর্মক্ষেত্রে বা একাকী ঘরে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে—যখনই হারাম কোনো দৃশ্য সামনে আসবে, চোখটা সাথে সাথে ফিরিয়ে নিই। আর মনে মনে বলি, "হে আল্লাহ! আমি শুধু আপনার ভয়ে এই দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলাম, আপনি আমার অন্তরকে আপনার নূর দিয়ে ভরে দিন।"

প্রিয় রাকী ভাই,
আপনি শুধু একজন থেরাপিস্ট নন। আপনি মানুষের কাছে কুরআনের প্রতিনিধিত্ব করেন। আপনার চোখ, আপনার ভাষা, আপনার আচরণ—সবকিছুই দাওয়াহ।

🤲 আমাদের দোয়া:
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রাকী ভাইদের এবং অসুস্থ রোগীদের চোখগুলোকে সকল প্রকার ফিতনা ও খিয়ানত থেকে রক্ষা করুন। আমাদের অন্তরগুলোকে কোরআনের নূরে আলোকিত করুন এবং আমাদের পূর্ণাঙ্গ আত্মশুদ্ধির তৌফিক দান করুন। আমিন।

❓ আপনার প্রতি একটি প্রশ্ন:
আপনার কি মনে হয়, বর্তমান স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের দৃষ্টি অবনত রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা বা চ্যালেঞ্জ কোনটি?

কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন। হতে পারে আপনার একটি সুন্দর কথা অন্য কারো হেদায়েতের উসিলা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ!

#রাকীদের_ইসলাহ #নজরের_হিফাজত #আত্মশুদ্ধি #রুকইয়াহ্_শারইয়্যাহ #চোখের_হেফাজত

বদনজর ও হাসাদ: পর্ব - ১বদনজর এবং হাসাদ এক জিনিস নয়। মানুষ সাধারণত ইচ্ছাকৃতভাবে একে অপরকে বদনজর দেয় না, কিন্তু হাসাদ বা হ...
17/05/2026

বদনজর ও হাসাদ: পর্ব - ১

বদনজর এবং হাসাদ এক জিনিস নয়। মানুষ সাধারণত ইচ্ছাকৃতভাবে একে অপরকে বদনজর দেয় না, কিন্তু হাসাদ বা হিংসা মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবেই করে থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, অন্যের ক্ষতি না চেয়ে তার মতো নিয়ামত পাওয়ার আশা করাকে আরবিতে 'গিবতাহ' (غبطة) বা ঈর্ষা বলা হয়। আর বদনজর (আইন) হলো কোনো কিছুর দিকে বিস্ময় বা ভালোলাগা নিয়ে তাকানো (তা হিংসা থেকে হতে পারে, আবার ভালোবাসা থেকেও হতে পারে), যার ফলে ওই জিনিসটার ক্ষতি হয়ে যায়। অপরদিকে হাসাদ হলো, আপনার কোনো জিনিস অন্য কারো ভালো লেগেছে এবং সে মনে মনে চায়—ওই গুণটি যেন তার নিজের হয় আর আপনার যেন সেই গুণটি আর না থাকে। এটিই হলো হাসাদ, যাতে স্পষ্ট হিংসা প্রকাশ পায়। অর্থাৎ, একটি হলো অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি, অন্যটি হলো ইচ্ছাকৃত ক্ষতি। তবে এই সব কিছুই ঘটে আল্লাহর ইচ্ছায়।

বদনজর যে শুধু বাইরের মানুষই দেয় তা নয়, এর প্রভাব পরিবার থেকেও একে অপরের ওপর পড়তে পারে। বরং পরিবার থেকেই বদনজরের প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে হাসাদের ব্যাপারটা ভিন্ন, কেননা পরিবারের সদস্যরা সাধারণত কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে হিংসা করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ বাইরের মানুষদের থেকেই হাসাদ বা হিংসার শিকার হয়। জ্বিন বা জাদুর প্রভাবগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বদনজরের প্রভাব অনেক বিস্তর বা ছড়িয়ে থাকা প্রকৃতির হয়ে থাকে।

আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা এমন কিছু কেইজ পরিচালনা করেছি, যেগুলোতে দেখা গেছে সমস্যাটি বাহ্যিকভাবে অল্প হলেও ভেতরে অনেক জটিল; অথচ মাত্র এক-দুই সেশনেই আল্লাহর ইচ্ছায় সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। আবার বদনজরের এমন কিছু রোগী বা পেশেন্ট আছেন, যাদের সমস্যা খুব একটা জটিল নয় কিন্তু সমস্যার সংখ্যা অনেক বেশি। এই (জটীল নয় এমন) কেসগুলোতেই রোগীরা গাফিলতি বেশি করেন। কারণ তারা মনে করেন, এই সাময়িক সমস্যাগুলোর কারণে তো তাদের বড় কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। অথচ তারা জানেন না যে, সঠিকভাবে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে এই সমস্যাটাই ধীরে ধীরে মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

রাক্বী যখন বলেন, "আপনি টানা সেশন নিন" অথবা "নির্দিষ্ট সময় পরপর সেশন নিন", তখন রোগীরা মনে করেন—"আরে, আমার তো তেমন বড় কোনো সমস্যা নেই, তাহলে আমার কেন সেশন লাগবে?" তখন তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন এবং রাক্বীর কথার গুরুত্ব দেন না। অথচ যখন সমস্যাটি ধীরে ধীরে বেড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে, তখন তারা সব রকম চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর আবার রাক্বীর কাছে আসেন; কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তখন আর রাক্বীর বিশেষ কিছু করার থাকে না। তাই বদনজরকে গুরুত্ব দিন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

হাদিসে বর্ণিত একটি ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করি, যা থেকে বুঝতে পারবেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদনজরকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, এটি আপনাদের উপকারে আসবে।

ঘটনা:

একবার সাহাবি সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) গোসল করছিলেন। তাঁর সুন্দর শরীর দেখে আরেক সাহাবি আমির ইবনে রাবিয়া (রা.) প্রশংসা করেন। সাথে সাথেই সাহল (রা.) অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এই খবর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি অত্যন্ত রাগ করে বলেন:

عَلَامَ يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ ؟ هَلَّا إِذَا رَأَيْتَ مَا يُعْجِبُكَ بَرَّكْتَ

অর্থ: "তোমাদের কেউ কেন তার ভাইকে হত্যা করতে চায়? তুমি তার মধ্যে ভালো কিছু দেখলে তার জন্য বরকতের দোয়া (যেমন: বারাকাল্লাহু ফীক) করলে না কেন?" এরপর রাসুল (সা.) আমির (রা.)-কে অজু করার নির্দেশ দেন এবং সেই অজুর পানি সাহল (রা.)-এর গায়ে ঢেলে দেওয়ার পর তিনি আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে যান। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং- ১৫৯৮৩)

গুরুত্ব:

আল্লাহর রাসুল (সা.) আরও বলেছেন:

لَوْ كَانَ شَىْءٌ سَابَقَ الْقَدَرَ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ

অর্থ: "যদি ভাগ্যকে কোনো কিছু অতিক্রম করতে পারত, তবে বদনজরই তাকে অতিক্রম করত।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ২১৮৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন:

الْعَيْنُ تُدْخِلُ الرَّجُلَ الْقَبْرَ ، وَتُدْخِلُ الْجَمَلَ الْقِدْرَ

অর্থ: "বদনজর মানুষকে কবর পর্যন্ত এবং উটকে ডেকচি বা পাতিল পর্যন্ত (অর্থাৎ মৃত্যুর মুখোমুখি) নিয়ে যায়।" (দ্রষ্টব্য: এই হাদিসটি আবু নুয়াইমের আল-হিলয়াহ এবং ইবনে আদির আল-কামিল গ্রন্থে রয়েছে, এটি হাসান পর্যায়ের হাদিস)।

পরবর্তী পর্বে জানাব মানুষ কেন ও কীভাবে বদনজর এবং হাসাদের শিকার হয় এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব আল্লাহর ইচ্ছায় কোন লেভেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, ইনশাআল্লাহ।

#নজর #বদনজর #হাসাদ #হিংসা #রুকইয়াহ Ruqyah Service Bd

30/04/2026

আমাদের পুরনো নাম রুকইয়াহ সার্ভিস বিডিতেই আবার ফিরে গেলাম। আলহামদুলিল্লাহ

Address

Chittagong

Telephone

+8801912375299

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ruqyah Service Bd posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share