02/07/2026
মানসিক চাপ নিয়ে রাত ৯ টার পর খাবার খেলে
হজমশক্তি কমে যায় প্রায় ৩৯% !
Digestive Disease Week 2026-এ উপস্থাপিত একটি মাল্টি-কোহর্ট গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের NHANES জরিপের ১১,০০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক এবং American Gut Project-এর ৪,০০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
শুধু দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপই হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি প্রায় ৩২% বাড়িয়েছে। কিন্তু যখন এর সঙ্গে নিয়মিত দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস যুক্ত হয়েছে, তখন ঝুঁকি আরও অনেক বেড়ে গেছে। উচ্চ মানসিক চাপ ও দেরিতে খাওয়া এই দুই বৈশিষ্ট্য যাদের ছিল, তাদের ৩৯.৩% মলত্যাগের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তুলনায়, কম মানসিক চাপ এবং স্বাভাবিক সময়ে খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এই হার ছিল ২৩.২%।
গবেষকেরা দেখেছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে (Chronic Stress) ছিলেন এবং রাত ৯টার পর দৈনিক মোট ক্যালরির ২৫%-এর বেশি গ্রহণ করতেন, তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো অস্বাভাবিক মলত্যাগের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা ১.৭ থেকে ২.৫ গুণ বেশি ছিল।
এই অভ্যাস অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য (Microbial Diversity) পরিমাপ করে গবেষকেরা দেখেছেন, যাদের দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস দুটিই ছিল, তাদের অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই অবস্থাকে গাট ডিসবায়োসিস (Gut Dysbiosis)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। কারণ, কম ব্যাকটেরিয়াল বৈচিত্র্য ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপাকীয় (Metabolic) রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষকেরা এই বিষয়টিকে “ক্রোনোনিউট্রিশন-স্ট্রেস অ্যাক্সিস (Chrononutrition-Stress Axis)” নামে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, আপনি কখন খাবার খান এবং আপনি কতটা মানসিক চাপে আছেন এই দুটি বিষয় একসঙ্গে আপনার অন্ত্রের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।
আমাদের হজমের এনজাইম, অন্ত্রের চলাচল (Gut Motility) এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা (Insulin Sensitivity) সবই শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়ির নিয়ম অনুসরণ করে। তাই গভীর রাতে খাওয়া এই ব্যবস্থাগুলোকে এমন সময় কাজ করতে বাধ্য করে, যখন সেগুলোর কার্যকারিতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এর ওপর যদি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ যুক্ত হয়, তাহলে গবেষণার প্রধান লেখকের ভাষায় এটি শরীরের জন্য “ডাবল হিট” বা দ্বিগুণ নেতিবাচক আঘাতের মতো কাজ করে।
স্ট্রেস শুধু মনকেই প্রভাবিত করে না, এটি মস্তিষ্ক–অন্ত্র (Brain–Gut Axis)-এর মাধ্যমে সরাসরি হজমতন্ত্রের কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করে। স্ট্রেসের সময় শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন বাড়ে। ফলে পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয় থেকে হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম ও রসের নিঃসরণ ব্যাহত হতে পারে। এতে খাবার ঠিকভাবে ভাঙতে সমস্যা হয়।
এর সমাধান হিসেবে রাতে দেরীতে খাবার খাওয়া পরিহার করতে হবে। সম্ভব হলে ঘুমোতে যাবার ২-৩ ঘন্টা পূর্বে খাবার খাওয়া উত্তম। খাবার খাওয়ার পরপরই বিশ্রাম না নিয়ে হাঁটলে ইনসুলিন হরমোনের সেন্সসিটিভিটি বাড়ে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমে। খুব ক্ষুধা লাগলে শর্করা না খেয়ে শুধু প্রোটিন ও চর্বি যুক্ত খাবার যেমন মাছ, মাংস অথবা ডিম খেলেও শরীরে ইনসুলিন স্পাইক হবে না। এর পাশাপাশি পেটের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া সম্বলিত টক দই খেলেও দারুণ উপকার পাওয়া সম্ভব। এই বিষয়গুলো অনুসরণ করলে গভীর ঘুমে যেতেও সহায়তা হবে।