01/05/2026
কৃমির সমস্যাকে অনেকে সাধারণ মনে করলেও, সঠিক সময়ে চিকিৎসা বা ওষুধ গ্রহণ না করলে এটি শরীরের জন্য বেশ বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ না খেলে বা সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে যেসব সমস্যা হতে পারে:
১. মারাত্মক পুষ্টিহীনতা ও রক্তস্বল্পতা
কৃমি মানুষের অন্ত্রে বসবাস করে এবং শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামিন শোষণ করে নেয়। এর ফলে:
শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দেয়, যা থেকে রক্তস্বল্পতা (Anemia) হতে পারে।
শরীরে ভিটামিন ও প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হয়, ফলে মানুষ দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।
২. শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
শিশুদের ক্ষেত্রে কৃমি অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠায় বাধা দেয়। দীর্ঘদিনের সংক্রমণের ফলে শিশুদের উচ্চতা ও ওজন কমে যেতে পারে এবং তাদের শেখার ক্ষমতা বা বুদ্ধির বিকাশও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
৩. অন্ত্রে জটিলতা (Intestinal Blockage)
শরীরে কৃমির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেলে সেগুলো দলা পাকিয়ে অন্ত্রের পথ বন্ধ করে দিতে পারে। একে 'ইনটেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন' বলা হয়। এটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের (Surgery) প্রয়োজন হয়।
৪. অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া
কিছু কিছু কৃমি অন্ত্র থেকে রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশে চলে যেতে পারে:
ফুসফুস: কৃমি ফুসফুসে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট বা কাশির সমস্যা তৈরি করতে পারে।
লিভার বা পিত্তথলি: এখানে কৃমি প্রবেশ করলে জন্ডিস বা ইনফেকশন হতে পারে।
মস্তিষ্ক: ফিতা কৃমির লার্ভা মস্তিষ্কে পৌঁছালে খিঁচুনি বা স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
দীর্ঘদিন কৃমির সংক্রমণ থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে অন্য যেকোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পরামর্শ:
#চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর (সাধারণত ৬ মাস) পরিবারের সবাইকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়া উচিত।
#খাবার আগে হাত ধোয়া এবং বিশুদ্ধ পানি পান করার মাধ্যমে এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
#আপনার যদি নিয়মিত পেটে ব্যথা, বদহজম বা অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধের মতো লক্ষণ থাকে, তবে দেরি না করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
©️
চেম্বার:
Bismillah Homeo Hall
বিসমিল্লাহ হোমিও হল
আলীশাহ পাড়া, বন্দরটিলা, চট্টগ্রাম