25/05/2026
রুকইয়াহ বা কুরআনিক চিকিৎসা তার জন্যই সবচেয়ে দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে কাজ করে, যার অন্তর জীবিত ও সুস্থ।
আপনার অন্তরের সুস্থতা পরীক্ষা করার জন্য কোনো ল্যাব বা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
তাহলে উপায়? খুব সহজ। শুধু যাচাই করুন— পবিত্র কুরআন আপনার ওপর কতটুকু প্রভাব বিস্তার করতে পারছে?
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا
“আমি কুরআনে এমন কিছু অবতীর্ণ করেছি, যার মধ্যে মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত রয়েছে। আর তা যালিমদের জন্য কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।” (সূরা ইসরা, আয়াত: ৮২)
আপনার টেস্টের ফলাফল যেভাবে মিলাবেন:
• ফলাফল ১ (পজিটিভ/সুস্থ অন্তর): যদি দেখেন কুরআন তিলাওয়াত শুনলে বা পড়লে আপনার ভেতরটা শান্ত হচ্ছে, চোখের কোণে পানি আসছে, নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার ইচ্ছে জাগছে এবং মনে হচ্ছে আল্লাহর রহমত আপনাকে ঘিরে রেখেছে—তাহলে আলহামদুলিল্লাহ বলুন! আপনার অন্তর জীবিত এবং আপনি একজন মুমিন। কারণ, কুরআন কেবল মুমিনের জন্যই বিশেষ 'শিফা' বা আরোগ্য।
• ফলাফল ২ (নেগেটিভ/অসুস্থ অন্তর): যদি কুরআন শুনলে অন্তরে একঘেয়েমি আসে, বিরক্তি লাগে, মন অন্যদিকে ছুটে যায় বা ভেতরটা শক্ত হয়ে থাকে—তবে বুঝতে হবে অন্তরে গুনাহের জং ধরেছে বা শয়তানের প্রভাব রয়েছে। একে দ্রুত তাওবাহ ও ইস্তিগফার দিয়ে চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
রুকইয়াহ আমলকারীদের জন্য বার্তা:
রুকইয়াহ শুরু করার আগে নিজের অন্তরকে খাঁটি তাওবাহ এবং গুনাহ বর্জনের মাধ্যমে প্রস্তুত করুন। পাত্র পরিষ্কার না হলে যেমন তাতে পবিত্র জিনিস রাখা যায় না, তেমনি অন্তর পরিষ্কার না হলে কুরআনের পূর্ণ বরকত ও শিফা প্রকাশ পায় না।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে 'ক্বালবুন সালীম' বা সুস্থ-জীবিত অন্তরের অধিকারী করুন। আমীন।