10/06/2026
শিশুদের ওপর নজর, জাদু ও শয়তানি প্রভাব
উপসর্গ ⬅ কারণ ⬅ চিকিৎসা
✊ শিশুদের মধ্যে নজর ও শয়তানি প্রভাবের লক্ষণ ও উপসর্গ
👈 রাতে অতিরিক্ত কান্নাকাটি করা এবং অজানা কারণে চিৎকার করা।
👈 অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক ভয়।
👈 বারবার জ্বর হওয়া এবং ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া; একটি রোগ শেষ না হতেই আরেকটি রোগে আক্রান্ত হওয়া।
👈 মেজাজ খারাপ থাকা ও বিরক্তিভাব।
👈 ক্ষুধামন্দা।
👈 ওজন কমে যাওয়া।
👈 মুখের রং পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া।
👈 একা একা কথা বলা, যদিও তার পাশে কেউ নেই।
👈 ঘুমে বা জাগ্রত অবস্থায় বিভিন্ন আকৃতি বা দৃশ্য দেখা।
👈 অদ্ভুত ও অস্বাভাবিকভাবে বিছানা থেকে পড়ে যাওয়া।
👈 হাঁটার সময় বারবার হোঁচট খাওয়া বা বিভিন্ন জিনিসে ধাক্কা লাগা‼
👈 বারবার হাই তোলা।
👈 অতিরিক্ত চঞ্চলতা।
👈 অনেক বেশি ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ভয় পেয়ে জেগে ওঠা।
👈 ঘন ঘন ডাক্তারদের কাছে যেতে হওয়া, অথচ দৃশ্যমান কোনো উপকার না পাওয়া।
শিশুদের মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দেওয়ার কারণসমূহ
✔ শিশুর ওপর বা মায়ের ওপর নজর ও হিংসা, অথবা উভয়ের ওপরই।
✔ বাবা-মা অথবা তাদের একজনের আক্রান্ত হওয়া, বিশেষ করে মা।
(যেমন—মা যদি জাদু, জিনের প্রভাব বা নজরে আক্রান্ত থাকেন, তাহলে শিশুও মায়ের সেই প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে যদি চিকিৎসায় অবহেলা থাকে।)
✔ অথবা মা যথাযথ সুরক্ষিত নন, নামাজ ও যিকিরে অবহেলা করেন।
ফলে শিশুরা এর প্রভাব ভোগ করে এবং তা পরবর্তীতে তাদের আক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে।
✔ ঘর সুরক্ষিত নয়, এবং সেখানে এমন কিছু রয়েছে যা আত্মিক সুরক্ষাকে দুর্বল করে। ফলে ফেরেশতারা সরে যান এবং শয়তানরা প্রবেশ করে শিশুদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, যার ফলে এসব উপসর্গ দেখা দেয়।
✔ মানুষের শিশুদের প্রতি জিনদের হিংসা।
✔ পরিবারের কোনো সদস্যের মাধ্যমে জিনদের ক্ষতি হওয়ার কারণে তাদের প্রতিশোধ।
✔ জাদুর কারণে জিনদের প্রভাব, যার উদ্দেশ্য পরিবারকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া।
✋✋ নজরগ্রস্ত শিশুর জন্য রুকইয়ার ৮টি ধাপ ✋✋
১- শিশুকে রুকইয়া পড়া পানি পান করাতে হবে। রুকইয়া হবে কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত বিষয় দিয়ে, যেমন—
• সূরা ফাতিহা
• আয়াতুল কুরসি
• সূরা আল-বাকারার শেষ আয়াতসমূহ
• সূরা ইখলাস
• সূরা ফালাক
• সূরা নাস
যদি শিশু দুধপানকারী হয়, তাহলে তার দুধে রুকইয়া পড়া পানি মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে অথবা সরাসরি দুধের ওপর রুকইয়া পড়া যেতে পারে।
২- প্রতিদিন শিশুকে রুকইয়া পড়া পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে।
৩- রাতে রুকইয়া পড়া জলপাই তেল দিয়ে শরীরে মালিশ করতে হবে।
৪- শিশুর মাথায় হাত রেখে কুরআনের যতটুকু সম্ভব পড়তে হবে, বিশেষ করে সূরা ফাতিহা, মুআউইযাত (সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) এবং আয়াতুল কুরসি।
এর সঙ্গে নিম্নোক্ত দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়তে হবে—
"أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ"
"আমি তোমাকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাণীর মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, ক্ষতিকর প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর নজর থেকে আশ্রয় দিচ্ছি।"
"بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ"
"আল্লাহর নামে, যার নামের সঙ্গে পৃথিবী ও আকাশের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"
"اللَّهُمَّ اصْرِفْ عَنِّي (عَنْهُ) حَرَّ الْعَيْنِ، وَبَرْدَ الْعَيْنِ، وَوَصَبَ الْعَيْنِ"
"হে আল্লাহ! আমার (অথবা তার) থেকে নজরের উত্তাপ, নজরের শীতলতা এবং নজরের কষ্ট দূর করে দিন।"
এর আগে একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে সদকা দেওয়া উত্তম, এই নিয়তে যে আল্লাহ নজর ও হিংসার প্রভাব দূর করে দিন।
এছাড়া মানুষের সামনে শিশুদের সৌন্দর্য, গুণাবলি ও প্রশংসা অতিরিক্তভাবে প্রকাশ না করা, এবং মেয়েদের ছোট বা আঁটসাঁট পোশাক না পরানো—যাতে তাদের প্রতি নজর ও হিংসা আকৃষ্ট না হয়।
মায়েরও নিজের জন্য রুকইয়া করা উচিত। কারণ লেখকের মতে, অধিকাংশ নজরগ্রস্ত শিশুর ক্ষেত্রে মায়ের মধ্যেও নজর বা হিংসার প্রভাব থাকতে পারে।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
আরব রাকি
Reviv • রেভিভ