12/10/2026
- CTS
(কার্পাল টানেল সিনড্রোম)
কার্পাল টানেল সিনড্রোম (Carpal Tunnel Syndrome - CTS) হলো কবজির ভেতরের এক ধরণের সমস্যা, যা কবজির ওপর দিয়ে হাতে যাওয়া প্রধান স্নায়ু (মিডিয়ান নার্ভ) সংকুচিত বা চাপ খাওয়ার কারণে হয়।
🚩প্রধান লক্ষণসমূহ
✅অসাড়তা বা ঝিনঝিন:
বুড়ো আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা এবং অনামিকা আঙুলে ঝিনঝিন করা বা অবশ ভাব হওয়া।
✅ব্যথা:
কবজি বা হাতে ব্যথা হওয়া, যা অনেক সময় কনুই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। রাতে এই ব্যথা বা অস্বস্তি বেড়ে যায়।
✅দুর্বলতা:
কোনো কিছু শক্ত করে ধরতে বা গ্রিপ করতে অসুবিধা হওয়া এবং হাতের আঙুলের সংবেদনশীলতা কমে যাওয়া।
🚩কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়
✅পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ:
একই কাজ বারবার কবজি ব্যবহার করে করা (যেমন দীর্ঘক্ষণ টাইপ করা বা কম্পনশীল বাদ্যযন্ত্র/যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা)।
✅শারীরিক অবস্থা:
গর্ভাবস্থা, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম) এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস।
✅আঘাত:
কবজি মচকে যাওয়া বা হাড় ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা হতে পারে।
🚩রোগ নির্ণয়
✅শারীরিক পরীক্ষা (যেমন ফ্যালেনের কৌশল বা টিনেল টেস্ট)।
✅ইএমজি (EMG) বা নার্ভ কনডাকশন টেস্টের মাধ্যমে এটি নির্ণয় করেন।
🚩চিকিৎসা
✅প্রাথমিক চিকিৎসা:
কবজি স্থির রাখতে স্প্লিন্ট (Splint) ব্যবহার, কাজ করার সময় বিরতি নেওয়া এবং ঠান্ডা সেক দেওয়া।
✅ওষুধ ও থেরাপি:
প্রদাহ কমাতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ (NSAIDs) বা চিকিৎসকের পরামর্শে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন এবং ফিজিক্যাল থেরাপি।
✅অস্ত্রোপচার:
সমস্যা তীব্র হলে এবং স্নায়ু বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হলে অস্ত্রোপচারের (ওপেন বা এন্ডোস্কোপিক সার্জারি) প্রয়োজন হয়।