22/05/2026
রাসুলের প্রতি দরুদ পাঠের ১০টি অনন্য ফজিলত ও উপকারিতা। (সহিহ হাদীস থেকে সংকলিত)
✍️ ১. দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি ও প্রয়োজন পূরণ:
এক সাহাবি (রাযি.) নবীজিকে বললেন— আমি সবসময় আপনার উপর দরুদ পাঠ করবো।
তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, যদি তুমি তাই করো, তবে তোমার সব দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা দূর করা হবে এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।
📖[তিরমিযি: ২৪৫৭, হাকিম: ২/৪৫৭ — সহিহ]
✍️ ২. রহমত, গুনাহ মোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধি:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন।”
📖 [সহিহ মুসলিম: ৪০৮]
✍️ ৩. মুমিনের জন্য দরুদ হলো যাকাত:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমার উপর দরুদ পাঠ করো, কেননা এটি তোমাদের জন্য যাকাতস্বরূপ।
📖 [মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৬৫ — নির্ভরযোগ্য হাদীস]
✍️ ৪. কিয়ামতের মাঠে নবীজির নিকটতা অর্জন:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটে থাকবে, যে আমার উপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছিল।”
📖[তিরমিযি: ৪৮৪ — হাসান]
✍️ ৫. দরুদ সরাসরি নবীজির কাছে পৌঁছে যায়:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমাদের দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমুআ। এই দিনে আমার উপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়।
📖[আবু দাউদ: ১০৪৭, নাসায়ী: ১৩৭৪ — সহিহ]
✍️ ৬. দরুদ পাঠকারী নবীজির শাফায়াত লাভ করবে:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি সকালে ও বিকেলে আমার প্রতি দশবার দরুদ পাঠ করবে, সে কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভ করবে।
📖 [মাজমাউয যাওয়াইদ: ১৭০২২ — হাসান]
✍️ ৭. দরুদ হলো দু‘আ কবুলের মাধ্যম:
একবার ইবনু মাস‘উদ (রাযি.) নামাজ শেষে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা, তারপর নবীর উপর দরুদ পাঠ করে নিজের জন্য দো‘আ করলেন। তখন নবী ﷺ বললেন- এখন চাই, তোমার দো‘আ কবুল হবে।
📖[তিরমিযি: ২/৪৮৮ — হাসান]
অন্যদিকে, যে প্রথমেই নিজের জন্য দো‘আ শুরু করেছিল তাকে নবীজি ﷺ বললেন —
✍️ ৮. দরুদ পাঠকারীর জন্য নবীজির দো‘আ:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আমি তার জন্য দশবার দরুদ পাঠ করি (দো‘আ করি)।
📖[তাবারানি: ২৬৯২, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/১৬৩]
✍️ ৯. দরুদ গুনাহের কাফফারা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমার উপর দরুদ পাঠ করো, কেননা এটি তোমাদের জন্য কাফফারা (গুনাহ মোচন) স্বরূপ।
📖 [ইবনু আবি আসিম, আস-সালাতু ‘আলান নাবিয়্যি: ৭৮ — সহিহ]
✍️ ১০. দরুদ 'মর্যাদাপূর্ণ ও অনন্য একটি আমল।
✅ কুরআনে আল্লাহ বলেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করো। 📖 [সূরা আহযাব: ৫৬] এই আয়াতে এমন কোনো আমল নেই যা আল্লাহ ও ফেরেশতারা একসাথে করেন এবং মুমিনদেরও আদেশ দেন -এটি দরুদের অসামান্য মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সর্বাবস্থায় নবীজির উপর দরুদ পাঠের তাওফিক দিন আমিন।
সাল্লাল্লাহু ‘আলান নাবিয়্যি মুহাম্মাদ।
✍️__ Hafiz Salmin Hasan
Raqi & Consultant - Darus Shifa: Hijama & Ruqyah Centre
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে এই পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎ মোবাইল : 0161 296 7889
🏠 আমাদের ঠিকানা :
আকাবা হাউজ, মডার্ন হসপিটালের পূর্ব পাশে, মধ্যম আশরাফ পুর, লাকসাম রোড, কুমিল্লা।
Google Maps:
https://maps.app.goo.gl/8sNXgxPUZic53KYC8