16/05/2026
নারী ও পুরুষ : প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরিপূরক
২য় পর্ব
আগের পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম— নারী ও পুরুষের কিছু স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে। কেউ আবেগ ও সম্পর্ক বোঝায় শক্তিশালী, কেউ সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালনে। এখন প্রশ্ন হলো— যদি আল্লাহ দুজনকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য দিয়েই সৃষ্টি করে থাকেন, তাহলে সমস্যা কোথায় তৈরি হচ্ছে?
সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন আমরা “সম্মান” আর “একই রকম হওয়া”— এই দুই জিনিসকে এক মনে করি।
ইসলাম নারীকে সম্মান দিয়েছে তার নারীত্ব বজায় রেখেই। তাকে পুরুষ বানিয়ে নয়।
একইভাবে পুরুষকেও সম্মান দিয়েছে তার দায়িত্ব ও নেতৃত্বের জায়গা বুঝিয়ে।
আজকের সমাজের বড় একটি সমস্যা হলো— অনেক নারী নিজের স্বাভাবিক শক্তিকে ছোট মনে করতে শুরু করেছে। একজন মা হওয়া, পরিবার সামলানো, আবেগিক সাপোর্ট দেওয়া, সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখা— এগুলোকে “সাধারণ কাজ” ভাবা হচ্ছে। অথচ একটা পরিবার ভেঙে গেলে বুঝা যায়, এই জিনিসগুলোর মূল্য কত বড় ছিল।
পাশাপাশি কিছু পুরুষও ভুলে গেছে পুরুষত্ব মানে শুধু কঠোরতা না। দায়িত্ব, নিরাপত্তা, দয়া, আত্মনিয়ন্ত্রণ— এগুলোও পুরুষত্বের অংশ। রাসূল ﷺ ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিত্বদের একজন, আবার তিনিই পরিবারের সাথে সবচেয়ে কোমল আচরণ করতেন।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো—
পৃথিবী আজ “ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স” নিয়ে কথা বলছে, যেটা নারীদের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই বেশি দেখা যায়। আবার “লিডারশিপ” ও “রিস্ক টেকিং” নিয়ে কথা বলছে, যেটা পুরুষদের মাঝে বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ আল্লাহ দুজনকেই আলাদা আলাদা শক্তি দিয়ে পাঠিয়েছেন, যেন তারা একে অপরকে পূর্ণ করতে পারে।
কিন্তু শয়তান চায় তুলনা তৈরি হোক।
পুরুষ ভাবুক নারী দুর্বল।
নারী ভাবুক পুরুষের মতো না হতে পারলে তার মূল্য নেই।
ফলাফল— প্রতিযোগিতা, অশান্তি, সম্পর্কের দূরত্ব।
অথচ ইসলাম শেখায়— নারী ও পুরুষ একে অপরের “লিবাস”।
একজন আরেকজনকে আড়াল করে, সৌন্দর্য বাড়ায়, নিরাপত্তা দেয়।
তাই প্রয়োজন নিজের ফিতরাতকে চিনতে শেখা।
নারী যেন নিজের কোমলতাকে দুর্বলতা না ভাবে।
পুরুষ যেন নিজের দায়িত্ব থেকে পালিয়ে স্বাধীনতার নাম না দেয়।
কারণ পৃথিবী শুধু শক্ত মানুষ দিয়ে টিকে থাকে না,
পৃথিবী টিকে থাকে অনুভূতিশীল মানুষ দিয়েও।