08/05/2026
🩺 সাদা কাপড়টা সরানোর পরও বিশ্বাস করা কঠিন ছিল…
এটা একটা Heat Stroke এর কেস।
একটা বাচ্চা।
শরীরে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
না রক্ত, না ভাঙা হাড়।
দেখলে মনে হবে বাচ্চাটা ঘুমিয়ে আছে।
ঠোঁট ফেটে শুকিয়ে গেছে।
ত্বক অস্বাভাবিক লালচে।
পুরো শরীর পানিশূন্যতায় শুকিয়ে গেছে।
মুখে অদ্ভুত ক্লান্তি…
🔥গরমে আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না, একটা শিশুর শরীর ভিতরে কি হচ্ছে!
প্রথমে তাপমাত্রা বাড়ে।
তারপর শরীর আর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে পারে না।
মস্তিষ্ক ফুলে যেতে শুরু করে।
ফুসফুস, কিডনি, লিভার একে একে কাজ বন্ধ করতে থাকে।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সবকিছু হয় দ্রুত।
কারণ তাদের শরীর বড়দের মতো গরম সহ্য করতে পারে না।
Heat Stroke অনেক সময় বাইরে বুঝা যায়না, তাই অনেকে দেরি করে
“গরম লেগেছে…”
“ঘুমাচ্ছে…”
কিন্তু শরীরের ভিতরে irreversible damage শুরু হয়ে গেছে।
এই গরমে বিশেষ করে বাচ্চাদের নিয়ে খুব সতর্ক থাকুনঃ
১/দীর্ঘসময় রোদে রাখবেন না।
২/বন্ধ গাড়ির ভিতরে কখনো একা রাখবেন না, এক মিনিটের জন্যও না।
৩/বারবার পানি ও তরল খাবার দিন।
৪/অতিরিক্ত কাপড় পরাবেন না।
৫/বাচ্চা অস্বাভাবিক চুপ হয়ে গেলে, ঝিমালে, জ্বরের মতো গরম লাগলে দ্রুত হাসপাতালে নিন।
কারণ Heat Stroke এ দ্রুতই বাচ্চা রা কোলপস করে। ছোট্ট শরীর গরমের সাথে যুদ্ধ করতে পারে না।
হিট স্ট্রোক হলে এক সেকেন্ডও অবহেলা করা যাবে না। এটা জরুরি অবস্থা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মস্তিষ্ক, কিডনি, হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
✅ তৎক্ষণাৎ যা করবেনঃ
১/রোগীকে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় বা ছায়ায় নিয়ে যান।
২/অতিরিক্ত কাপড় খুলে দিন।
৩/মাথা, ঘাড়, বগল, কুঁচকিতে ঠান্ডা পানি বা ভেজা কাপড় দিন।
৪/ ফ্যানের বাতাস করুন।
৫/সম্ভব হলে শরীরে ঠান্ডা পানি ঢালুন
৬/ বরফ থাকলে কাপড়ে পেঁচিয়ে বগল ও ঘাড়ে দিন।
যদি রোগী জ্ঞান থাকে ও গিলতে পারে: অল্প অল্প করে ঠান্ডা পানি বা ওরস্যালাইন খাওয়ান।
কিন্তু যদি অজ্ঞান হয়ে যায়, কথা জড়িয়ে যায়, খিঁচুনি হয়, খুব বেশি ঝিমায়, শ্বাসকষ্ট হয়,শরীর খুব গরম কিন্তু ঘাম না হয়
তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
আর অজ্ঞান রোগীর মুখে জোর করে পানি দেবেন না ।
সৌজন্যে:: ডা. আব্দুর রহমান