16/08/2026
সিজার করতে ১৭ জন ডাক্তারের টীম লাগে !!
সিজার করতে ২ জন ডাক্তার ই যথেষ্ট। কিন্তু আজকের সিজার করতে ৬ জন মেইন ডাক্তার সহ ১৭ জনের একটা টীম লাগছে। কেনো লাগছে সেটা চলেন বলি
রোগী টা ভর্তি হয়েছিলো ৩২ সপ্তাহের প্রেগন্যান্সি নিয়ে। কিন্তু উনার মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্তপাত হচ্ছিলো।
কারণ ঘাটতে গিয়ে আমরা পাই APH due to Central placenta previa with placenta accreta.
কঠিন লাগতেছে না ?? একটু সহজ করে বলি
১.Central Placenta Previa:
গর্ভাবস্থায় শিশুর খাবার ও অক্সিজেনের জন্য যে প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) থাকে, সেটি সাধারণত জরায়ুর উপরের দিকে অবস্থান করে। কিন্তু এই রোগীর প্লাসেন্টা নিচের দিকে নেমে এসে জরায়ুর মুখ (সার্ভিক্স) পুরোপুরি ঢেকে ফেলে।
ফলে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে বা ডেলিভারির সময় হঠাৎ ব্যথাহীন প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে পারে। এ কারণে স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্ভব হয় না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিজার করতে হয়।
২.Placenta Accreta
স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্মের পর প্লাসেন্টা সহজেই জরায়ু থেকে আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু Placenta Accreta তে প্লাসেন্টা জরায়ুর দেয়ালের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে শক্তভাবে লেগে যায়।
ফলে অপারেশনের সময় প্লাসেন্টা আলাদা করতে গেলে অত্যধিক রক্তক্ষরণ হতে পারে। অনেক সময় মায়ের জীবন বাঁচাতে জরায়ু পর্যন্ত অপসারণ (হিস্টেরেকটমি) করার প্রয়োজন হতে পারে।
এই দুটি সমস্যা একসঙ্গে থাকলে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা । তাই এমন রোগীর অপারেশন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিয়া টিম, পর্যাপ্ত রক্তের ব্যবস্থা দরকার হয়।
আমাদের আজকে এই অপারেশন এর জন্য ৬জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার,২ জন সহযোগী ডাক্তার,১ জন ইঊরোলজি ডাক্তার,৪ জন অজ্ঞানের ডাক্তার,২ জন নার্স,২ জন স্টাফ সহ মোট ১৭ জনের টীম নিয়ে আমরা রেডি ছিলাম।
রোগীর জন্য ৪ ব্যাগ রক্ত রেডি করে তারপর অপারেশন শুরু করেছে আমাদের ম্যামরা।
এ ধরনের অপারেশন সরকারী হাসপাতালেই করা ভালো। কারণ এখানে প্রফেসর থেকে শুরু করে অনেক ডাক্তার থাকেন। যেকোনো ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন হলে সাথে সাথেই সব ডাক্তার ঝাঁপিয়ে পড়ি আমরা।
কিন্তু নামমাত্র ক্লিনিকে এই অপারেশন গুলা করলে না পাবেন এতোগুলা ডাক্তার,না পাবেন ICU, না পাবেন ভালো অজ্ঞানের ডাক্তার।তখন রোগী মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাছাড়া এই ১৭ জনের টীমের ফি বহন করতে পারবেন আপনি প্রাইভেট হাসপাতালে?? পারবেন না।
এজন্য সরকারী হাসপাতাল is the best choice..হ্যা একটু দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। তবে এখানে সর্বোচ্চ চিকিৎসা টা পাবেন আপনি।
এই যে রোগী টা সুস্থ হয়ে যাবে...হয়তো একদিন ভুলেও যাবে যে কতো কষ্ট করে ২/৩ ঘন্টা সময় নিয়ে অপারেশন করে আমরা উনার জীবন বাচিয়েছিলাম (আল্লাহর ইচ্ছায়).... এরপর আমাদের কসাই ডাকবে..... এভাবেই চলছে জীবন।
কতোটুকু কৃতজ্ঞ হতে পারলাম আমরা!!
একটু ভেবে দেখবেন জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই কসাইরা আপনাকে সুস্থ করেছিলো, আপনার জীবন বাচিয়েছিলো,আপনার স্ত্রীর ডেলিভারি করিয়ে আপনাকে বাবা হওয়ার অমলিন আনন্দ পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলো।