06/09/2026
তিন বছরের ফাইজার সাথে প্রতিদিন দুপুরে একটাই যুদ্ধ হতো তানিয়ার।
"বাবা, ভাত খেয়ে নাও" বললেই মুখ শক্ত করে বসে থাকত ফাইজা। চামচ মুখের কাছে নিলেই মাথা ঘুরিয়ে ফেলত, কখনো কখনো কেঁদেও দিত। প্রতিদিন খাওয়াতে গিয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যেত, তাও অর্ধেক খাবার প্লেটেই পড়ে থাকত।
তানিয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। অফিস থেকে ফিরে সারাদিনের ধকলের পর এই যুদ্ধটা যেন আরও কঠিন মনে হতো।
একদিন প্রতিবেশী এক আন্টি বেড়াতে এসে দেখলেন এই অবস্থা। বললেন, "একটু ঘি মিশিয়ে দাও তো ভাতে।"
তানিয়া হতাশ গলায় বললেন, "আন্টি, ও তো এমনিতেই খায় না, ঘি দিলে হয়তো আরও বিরক্ত হবে।"
আন্টি হেসে বললেন, "আমার নাতনির বেলাতেও এমনই হতো। একদিন ট্রাই করেছিলাম, দেখো কী হয়।"
তানিয়ার মনে তেমন আশা ছিল না, তবুও সেদিন দুপুরে গরম ভাতে এক চামচ ঘি মিশিয়ে সামনে দিলেন।
ফাইজা প্রথমে প্লেটের দিকে তাকিয়ে থাকল, তারপর নাক দিয়ে একটু গন্ধ শুঁকল। তানিয়া নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করছিলেন, ভাবছিলেন হয়তো আবারও প্রত্যাখ্যান করবে।
কিন্তু হঠাৎ ফাইজা নিজেই হাত বাড়িয়ে এক লোকমা মুখে দিল। তারপর আরেকটা, আরেকটা।
তানিয়ার চোখ ছলছল করে উঠল। এতদিনের ক্লান্তি, হতাশা, সব যেন এক নিমেষে হালকা হয়ে গেল।
সেই রাতে স্বামীকে ফোন করে সবার আগে বললেন, "আজ ফাইজা নিজে থেকে পুরো ভাত খেয়েছে!"
পরদিন থেকে প্রতিদিন তানিয়া ভাতে ঘি মিশিয়ে দেন। যুদ্ধটা এখন আর নেই। ফাইজা এখন খাওয়ার সময় হলে নিজেই জিজ্ঞেস করে, "ঘি দিছ আম্মু?"
তানিয়া এখন হাসতে হাসতে বলেন, "একটা চামচ ঘি, কিন্তু পুরো সংসারের দুপুরটাই বদলে দিয়েছে।"
সেই প্রতিবেশী আন্টিকে দেখা হলেই তানিয়া কৃতজ্ঞতা জানান। আন্টি হাসেন, "আমাদের সময়েও তো এভাবেই বাচ্চাদের খাওয়াতাম, শুধু আজকালকার মায়েরা এই ছোট্ট জিনিসটা ভুলে যাচ্ছেন।"
আজ ফাইজা বড় হচ্ছে, কিন্তু সেই অভ্যাসটা এখনো আছে। প্রতিদিনের ভাতে সেই এক চামচ ঘি, মা আর মেয়ের একটা ছোট্ট মিষ্টি রুটিন হয়ে গেছে। 💛
কখনো কখনো সবচেয়ে বড় সমস্যার সমাধান লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে ছোট্ট কোনো জিনিসে।
#বাচ্চাদেরখাবার #খাঁটিঘি