15/08/2026
আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক গ্রেগরীয়ান ড. তাহমিদ আহমেদ (ব্যাচ '৭৪) সম্প্রতি শিশু পুষ্টি এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় তাঁর বিশেষ অবদানের জন্য 'এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০' (Asian Scientist 100) তালিকার লাইফ সায়েন্সেস ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন কর্তৃক প্রকাশিত 'এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০' তালিকাটি এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় গবেষক এবং উদ্ভাবকদের সম্মানিত করে, যাঁদের কাজ এই অঞ্চলের বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছে। মাতৃ ও শিশু পুষ্টির উন্নয়ন এবং তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. তাহমিদ ২০২৫ সালে 'টাইম ১০০ হেলথ' তালিকায় স্বীকৃতি পান এবং গেটস ফাউন্ডেশন কর্তৃক ২০২৪ সালের 'গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন' হিসেবে মনোনীত হন।
তাঁর কাজ বাংলাদেশ এবং অন্যান্য নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে অপুষ্টি, শিশুর বেঁচে থাকা এবং সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ড. তাহমিদ আহমেদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো “Bubble CPAP” প্রযুক্তি - একটি স্বল্পমূল্যের, স্থানীয়ভাবে তৈরি শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক ব্যবস্থা যা নিউমোনিয়া ও হামের জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচাতে নীতিনির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। এটি WHO-এর প্রচলিত অক্সিজেন থেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে এবং বাংলাদেশসহ ইথিওপিয়ার মতো নিম্ন-আয়ের দেশে জাতীয় পর্যায়ে নীতি গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়াও তিনি শিশুদের অ্যাকিউট ম্যালনিউট্রিশন (Severe Acute Malnutrition) ব্যবস্থাপনা সহজীকরণে কাজ করেছেন। WHO-এর গ্লোবাল গাইডলাইন সংশোধনে অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় পুষ্টি নীতি প্রণয়নে ড্রাফটিং কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ড. জেফ্রি গর্ডনের সাথে যৌথভাবে Microbiota Directed Complementary Food (MDCF) উদ্ভাবন করেছেন। এটি শিশু অপুষ্টি মোকাবেলায় নতুন খাদ্যভিত্তিক সমাধান, যা Science জার্নালে ২০১৯ সালের অন্যতম বৈজ্ঞানিক ব্রেকথ্রু হিসেবে স্বীকৃত। নেতৃত্ব দিয়েছেন Environmental Enteric Dysfunction (EED) Study-তে, যেখানে শিশুদের স্টান্টিং-এর কারণ খুঁজতে নন-ইনভেসিভ বায়োমার্কার আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। শিশুদের ডায়রিয়া ও কলেরা ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রোটোকল উন্নয়ন করেছেন। WHO-এর Global Task Force on Cholera Case Control (GTFCC)-এ শিশুদের কেস ম্যানেজমেন্টে পরামর্শ দিয়েছেন। কমিউনিটি-ভিত্তিক ও ক্লিনিক্যাল গবেষণা করেছেন, যা নারীদের ও শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে কার্যকর হয়েছে। প্রোটিওম, মেটাবোলোম ও মাইক্রোবায়োম টুল ব্যবহার করে পুষ্টি সমস্যার চিকিৎসা উন্নত করার চেষ্টা করেছেন। শিশুদের টিউবারকুলোসিস ব্যবস্থাপনা সহজীকরণে গবেষণা করেছেন। সংক্রমণজনিত রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে নতুন মডেল তৈরি করেছেন।