24/08/2026
লিভার সিরোসিস কেন হয়, কীভাবে নিরাপদ থাকবেন
লিভার সিরোসিস হলে লিভারের কোষ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তন্তুময় টিস্যু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ এই রোগের ঝুঁকিতে। প্রতিবছর দেশে প্রায় ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় লিভার-সংক্রান্ত রোগে।
কেন হয়?
হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ভাইরাসে লিভারে প্রদাহ হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রদাহ লিভারের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে লিভার সংকুচিত হয়ে যায়। ফ্যাটি লিভার অর্থাৎ লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হলে লিভার কোষে প্রদাহ হয়ে নষ্ট হতে থাকে এবং একসময় সিরোসিস হতে পারে।
সিরোসিস হতে পারে এসব কারণে—
• অতিরিক্ত মদ্যপান
• অটোইমিউন হেপাটাইটিস
• কিছু বংশগত রোগ
• পিত্তথলি বা পিত্তনালির ব্যাধি
• ওষুধের বিষক্রিয়া
লক্ষণগুলো কী?
সিরোসিসের শুরুতে তেমন উপসর্গ থাকে না। খাবারে অরুচি, বমিভাব, শরীর দুর্বলতা, ক্লান্তি ও ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় অন্য রোগের জন্য রক্ত পরীক্ষা, পেটের আলট্রাসাউন্ড বা সার্জারির সময় রোগটি ধরা পড়ে।
রোগের অগ্রসর পর্যায়ে জন্ডিস, পায়ে বা পেটে পানি, রক্তবমি বা কালো পায়খানা হতে পারে। রোগী চেতনা হারিয়ে কোমায় চলে যেতে পারেন।
চিকিৎসাপদ্ধতি
প্রাথমিক সিরোসিসে অন্তর্নিহিত কারণ অনুযায়ী চিকিৎসায় লিভারের ক্ষতি কমানো সম্ভব। মূল কারণ নিয়ন্ত্রণে অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি (হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি), ওজন কমানো ও ব্যায়াম (ফ্যাটিলিভার), মদ্যপান বর্জন ও ক্ষতিকর ওষুধ বন্ধ করার দরকার পড়ে।
সিরোসিসের কারণে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। পা বা পেটে পানি জমলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। রক্তবমি হলে এন্ডোস্কপির মাধ্যমে খাদ্যনালির রক্তক্ষরণ শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ বা রক্তনালি বন্ধ করার চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিভ্রান্তি বা চেতনা কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হয়।
জীবাণু সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হতে পারে। লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে সাধারণত প্রতি ছয় মাস পরপর আলট্রাসনোগ্রাম ও প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করা হয়। সিরোসিসের অবস্থা গুরুতর ও অগ্রসর হলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়:
● হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিতে হবে।
● হেপাটাইটিস সি স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা।
● ইনজেকশন নেওয়ার প্রয়োজন হলে ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার। শেভিংয়ের সময় অপরের ব্যবহৃত ব্লেড ব্যবহার না করা।
● নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা ও সুরক্ষিত যৌন জীবনচর্চা।
● সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।
● অ্যালকোহল বর্জন ও ওষুধ সেবনে সচেতনতা।
Source: Prothom Alo