30/07/2026
বদনজরে আক্রান্ত হওয়ার পর নিচে বর্ণিত সঠিক পদ্ধতিতে নিজের, নিজের পরিবারের এবং অন্যের ঝাড়-ফুঁক করুন।
🔰 ঝাড়-ফুঁকের সঠিক নিয়মঃ
ঝাড়-ফুঁককারী ব্যক্তি রোগীর ব্যথার স্থানে ঝাড়বেন বা হাত দিয়ে রোগীকে মাসেহ্ করবেন অথবা পানি ও অনুরূপ তরল পদার্থ দ্বারা রোগীকে মালিশ করে দেবেন কিংবা ঝাড়-ফুঁকের পর রোগীর শরীরে এমনভাবে থুথু দেবেন যেন হালকাভাবে থুথুর কিছু ক্ষুদ্র কণা বের হয় মাত্র, মুখভর্তি থুতু উদ্দেশ্য নয় অথবা শুধু ফুঁ দেওয়াই যথেষ্ট।
💎 দু‘আ নং- ০১,
যখন কেউ অন্যকে ঝাড়-ফুঁক করবেন, তখন এটি বলবেন (তিন বার) ও ঝাড়-ফুঁক করবেন।
بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيْكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اَللّٰهُ يَشْفِيْكَ بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْكَ
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আরক্বী-কা, মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুঅ্-যীকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও ‘আইনি হা-সিদিন, আল্লাহু ইয়াশফী-কা বিসমিল্লাহি আরক্বী-কা।
অর্থঃ আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি, সেসব বিষয় থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দেয়, সকল প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদ নজর থেকে, আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন, আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি।
আর যখন নিজের ঝাড়-ফুঁক নিজে করবেন, তখন বলবেন,
بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِينِيْ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْنِيْ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اَللّٰهُ يَشْفِيْنِيْ بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْنِيْ
বিসমিল্লাহি আরক্বী-নী, মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুঅ্-যীনী, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও ‘আইনি হা-সিদিন, আল্লাহু ইয়াশফী-নী বিসমিল্লাহি আরক্বী-নী।
জিব্রাইল (আঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই বাক্যগুলো দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করেছিলেন।
¤ সহিহ মুসলিম,হাদিস নং-২১৮৬।
💎 দু‘আ নং- ০২,
অন্যকে ঝাড়-ফুঁক করলে, এটি ৩ বার বলবেন এবং তার ঝাড়-ফুঁক করবেন।
أُعِيْذُكَ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
উচ্চারণঃ উ‘ই-যুকা বিকালিমা তিল্লা-হিত তা-ম্মাহ, মিন কুল্লি শায়ত্ব-নিন ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনিন লা-ম্মাহ।
অর্থঃ আমি তোমাকে আল্লাহ্র পরিপূর্ণ বাক্যসমূহের আশ্রয়ে রাখছি প্রত্যেক শয়তান হতে, কষ্টদায়ক বস্তু হতে এবং প্রত্যেক হিংসুটে নজর হতে।
আর যখন এই বাক্যগুলো দিয়ে নিজের ঝাড়-ফুঁক নিজে করবেন, তখন কেবল প্রথম শব্দ (উইযুকা) এর বদলে (আউযু) পড়বেন। বাকি অংশ হুবহু থাকবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয় নাতিদ্বয় হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) কে এই বাক্যগুলো দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করতেন।
¤ সহিহ বুখারি, হাদিস নং-৩৩৭১।
💎 দু‘আ নং- ০৩,
অন্যকে ঝাড়-ফুঁক করলে, এটি বলবেন এবং ঝাড়-ফুঁক করবেন (৩ বার)।
بِسْمِ اللّٰهِ يُبْرِيْكَ وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيْكَ، ومِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِيْ عَيْنٍ
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি য়ুবরী-কা ওয়া মিন কুল্লি দা-ইন ইয়াশফী-কা, ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ, ওয়া শাররি কুল্লি যী ‘আইন।
অর্থঃ আল্লাহর নামে শুরু করছি, তিনি তোমাকে মুক্ত করুন, প্রত্যেক অসুখ থেকে আরোগ্য দান করুন, প্রত্যেক হিংসুকের হিংসা থেকে এবং প্রত্যেক বদ নজর থেকে (মুক্ত করুন)।
আর যখন নিজের ঝাড়-ফুঁক নিজে করবেন, তখন এভাবে বলবেন,
بِسْمِ اللّٰهِ يُبْرِيْنِيْ وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيْنِيْ، ومِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِيْ عَيْنٍ
বিসমিল্লাহি য়ুবরী-নী ওয়া মিন কুল্লি দা-ইন ইয়াশফী-নী, ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ, ওয়া শাররি কুল্লি যী ‘আইনিন।
¤ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২১৮৫।
💎 দু‘আ নং- ০৪,
অন্যকে ঝাড়-ফুঁক করলে, এটি বলবেন এবং তার ঝাড়-ফুঁক করবেন (৩ বার)।
اَللّٰهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبْ الْبَاْسَ، اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِيْ لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা রাব্বান না-স, আযহিবিল বাস, ইশফিহি, ওয়া আনতাশ শা-ফী। লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উক, শিফা-আন লা য়ুগা-দিরু সাক্বামা।
অর্থঃ হে আল্লাহ, মানুষের রব! (তার) কষ্ট দূর করে দাও। তাকে সুস্থ করে দাও, কেবল তুমিই রোগমুক্তির মালিক। তোমার শেফা (রোগমুক্তি) ব্যতীত আর কোন শেফা নেই। তুমি এমন সুস্থ করে দাও, যেন কোনো রোগ না থাকে।
আর যখন এই বাক্যগুলো দিয়ে নিজের ঝাড়-ফুঁক নিজে করবেন, তখন কেবল ‘ইশফিহি’-এর বদলে ‘ইশফি’ পড়বেন। বাকি অংশ হুবহু থাকবে।
¤ বুখারিঃ ৫৬৭৫, মুসলিমঃ ২১৯১।
💎 দু‘আ নং- ০৫,
অন্যকে ঝাড়-ফুঁক করলে, এটি ৩ বার বলবেন এবং ঝাড়-ফুঁক করবেন।
أُعِيْذُكَ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَأَنْ يَحْضُرُوْنِ
উচ্চারণঃ আ‘উযুবি কালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি, মিন গাদ্বাবিহি, ওয়া ‘ইক্বা-বিহি, ওয়া শাররি ‘ইবা-দিহি, ওয়া মিন হামাযা-তিশ শায়া-ত্বীনি, ওয়া আন ইয়াহদ্বুরুন।
অর্থঃ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যসমূহ দ্বারা আশ্রয় চাই, তাঁর রাগ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের উসকানি থেকে এবং আমার কাছে তাদের (শয়তানদের) উপস্থিতি থেকে।
আর যখন এই বাক্যগুলো দিয়ে নিজের ঝাড়-ফুঁক নিজে করবেন, তখন কেবল প্রথম শব্দ (উইযুকা) এর বদলে (আউযু) পড়বেন। বাকি অংশ হুবহু থাকবে।
বদ নজরের পাশাপাশি, বিশেষত ঘুমের মধ্যে জ্বিন কাউকে সমস্যা করলে এটি পড়া উচিত।
¤ তিরমিযি, আস-সুনানঃ ৩৫২৮, হাদিসটি হাসান।
💎 দু‘আ নং- ০৬,
অন্যকে ঝাড়-ফুঁক করলে এটি ৭ বার বলবেন এবং ঝাড়-ফুঁক করবেন।
أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيْمَ، رَبَّ الْعَرْشِ العَظِيْمِ، أَنْ يَشْفِيَكَ
উচ্চারণঃ আস-আলুল্লাহাল আযীম, রাব্বাল আরশিল আযীম, আঁই ইয়াশফিয়াক।
অর্থঃ আমি সুমহান আল্লাহ, মহান আরশের রবের নিকট তোমার আরোগ্য প্রার্থনা করছি।
আর যখন এই বাক্যগুলো যখন নিজে পড়বেন, তখন শেষ শব্দ ‘ইয়াশফিয়াক’-এর বদলে ‘ইয়াশফিনী’ পড়বে। বাকি অংশ হুবহু থাকবে।
¤ আবু দাউদ, আস-সুনানঃ ৩১০৬, তিরমিযি, আস-সুনানঃ ৩০৮৩, হাদিসটি সহিহ।
💎 দু‘আ নং- ০৭,
এই আমলটি নিজেই করবেন। শরীরের যে স্থানে ব্যথা অনুভব হয় সেখানে হাত রেখে প্রথমে তিনবার بِسْمِ اللّٰهِ (বিসমিল্লাহ) পড়বেন।
এরপর ৭ বার পড়বে,
اَعُوْذُ بِاللّٰهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণঃ আ‘উযু বিল্লা-হি ওয়া ক্বুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহা-যিরু।
অর্থঃ যে ব্যথা আমি অনুভব করছি এবং যার আমি আশঙ্কা করছি, তা থেকে আমি আল্লাহ্ এবং তাঁর কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
¤ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২২০২।
💎 দু‘আ নং-০৮,
অন্যকে ঝাড়-ফুঁক করলে এটি ৩ বার বলবেন এবং ঝাড়-ফুঁক করবেন।
أُعِيْذُكَ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণঃ উ‘ইযুকা বিকালিমা তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব।
অর্থঃ আমি তোমাকে আল্লাহ্র পরিপূর্ণ বাক্যসমূহের আশ্রয়ে রাখছি, তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে।
কেউ নিজের ঝাড়-ফুঁক নিজে করলে শুরুতে ‘উ‘ইযুকা’ এর স্থানে ‘আ‘উযু’ পড়বেন। বাকি অংশ হুবহু পড়বে।
¤ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২১৯১।
🌀 এছাড়াও যা করবেনঃ
তিন বা ততোধিক বার সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ তিন বা দুই আয়াত, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পরে ফুঁ দেবেন এবং ডান হাত দিয়ে ব্যথার জায়গা মুছে দেবেন।
¤ ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি।
উপরোল্লিখ সবগুলো দোয়া, আয়াত ও সুরা পড়ে গোসলের পানিতে ফু দিয়ে গোসল করবেন।
💥 বিঃদ্রঃ আরবী উচ্চারণের ক্ষেত্রে আরবীর সঠিক বাংলা উচ্চারণ লিখা সম্ভব না এবং তা সহিহ্ হয় না। তাই আরবী দেখে পড়তে চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ্।
মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদের সঠিকভাবে আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন এবং বদনজরের অনিষ্ট থেকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করুন, আমীন।
Raqi Kamrul Haider
Raqi Kamrul Haider
Raqi & Ruqyah Consultant,
RuqyahTreatment.
01677-440419
➖➖➖➖➖