30/07/2026
🔻 পর্ব - ১৫
আলির আম্মু - আয়েশা এভাবে বিভিন্ন কথার মাধ্যমে আমাকে তার দিকে মোটিভেট করার চেষ্টা করে। আমার এই সংসারটি ভাঙার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। বিভিন্নভাবে আমাকে তার মায়ায়, তার ভালোবাসায় নতুন করে জড়ানোর চেষ্টা করেছে। তার এই নোংরামো চেষ্টা আমি সফল হতে দেইনি।
এবং আমার ওস্তাদ-মুরব্বিদের সাথে পরামর্শ করে, সব পরিস্থিতি বুঝে আমি আয়েশাকে বললাম, "তুমি অন্য কোথাও বিয়ে করে নাও। আয়েশা, তুমি অনেক লেট করে ফেলেছ। আমাদের ডিভোর্সের আগে তোমাকে আমি প্রায় বছর খানিক সময় অনেক বুঝিয়েছি। তখন যদি তোমার প্রেমিকের কথা না শুনে আমার কথা শুনতে, তাহলে আজ এ পরিণতি দেখতে হতো না।"
ডিভোর্সের প্রায় দুই বছর পর আমি অন্য জায়গায় বিয়ে করি। ডিভোর্সের দুই বছর পর পর্যন্তও তোমাকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তুমি তখনও বুঝনি, নিজেকে শুধরাওনি। আমাকে তুমি অনেক কষ্ট দিয়েছ, অনেক কাঁদিয়েছ। নিজের দোষ ঢাকতে গিয়ে মানুষের কাছে মিথ্যাচার করে আমার নামে অনেক বদনাম প্রচার করেছ।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, তোমার এই অপকর্মের কারণে আমার ছোট্ট সন্তান আলী-উসামার ভবিষ্যৎকে তুমি ভিন্ন দিকে ঠেলে দিয়েছ। তারপরও তুমি ক্ষান্ত হওনি। আমার সন্তানকে আমার থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছ, আমার আদর থেকে তাকে বঞ্চিত করেছ।
প্লিজ, আমাকে আর এই বিষয় নিয়ে ডিস্টার্ব করো না। আমাকে আর নক দিও না।
আমি সব জায়গা থেকে আয়েশাকে ব্লক করে দেই। পরে আমি আর আমার সাথে যোগাযোগ করার কোনো সুযোগ দেইনি।
👨👩👧👦 সকল অডিয়েন্সকে উদ্দেশ্য করে কিছু প্রশ্ন :
আপনাদের ভাই, অথবা আপনাদের পরিবারের কোনো সদস্য যদি আমার মতো এমন পরিস্থিতিতে পড়তেন, তাহলে আপনারা কী করতেন?
ওই মেয়েকে কী করতেন? যে মেয়ে বিয়ের আগ থেকেই হারাম রিলেশনে জড়িত। যার সাথে প্রেম করেছে, তাকেই বিয়ে করলেই প্রবলেম ছিল না। প্রেম করলো একজনের সাথে, বিয়ে বসলো আমার কাছে। আবার বিয়ের পর তার সেই প্রেমলীলা চালিয়ে গেল, আমাকে হাজারো কষ্ট দিল। প্রেগনেন্ট হলো, তাও নিজেকে শুধরালো না। সন্তান জন্মগ্রহণের পরেও তার মধ্যে তার ভুলের সামান্যতম অনুশোচনাও হলো না।
যাকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়েছিলাম শোধরাবে বলে, নিজেকে শুধরানো তো দূরের কথা, সে ফেসবুকে পোস্ট করে লিখলো, "আজ থেকে আমি মুক্ত।"
নেয়ামতউল্লাহ নামের সেই ছেলেটির সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে আমার সংসারটাকে নষ্ট দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছিলাম।
ডিভোর্সের পর সে আমাকে আবার আমার সন্তান থেকে দূরে রেখে, সন্তানকে না দেখতে দিয়ে, আমার আদর থেকে বঞ্চিত করে আবার আমার হৃদয়টাকে ক্ষতবিক্ষত করেছে।
আলির আম্মু - আয়েশা এত কিছুর পরেও ক্ষান্ত হয়নি। সে আমার এই সংসারে, আমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য যেভাবে আমাকে তার মায়ার জালে নতুনভাবে জড়ানোর ট্রাই করেছে, যেখানে আমার দুটি ফুটফুটে সন্তান রয়েছে, এ সংসারটাকে নষ্ট করার জন্য কতই কিছু না করেছে।
পর্ব ১ থেকে ১৫ পর্ব পর্যন্ত সব ঘটনাই আপনাদের কাছে উল্লেখ করলাম। এখন বলুন, এরকম মেয়েকে কী করা উচিত? এ প্রশ্নের উত্তর আপনাদের কাছে আমি চাই।
👨👩👧👦 অডিয়েন্সের মধ্যে অনেকেই এই কথা বলবেন যে, এতক্ষণ আপনি যে ঘটনাগুলো বললেন এবং আয়েশার প্রতি যে অভিযোগগুলো দায়ের করলেন, তার সত্যতা কতটুকু? প্রতিটা কথা ১০০% সত্য।
১/ আলির আম্মু - আয়েশা মাদ্রাসার হুজুর ইসমাইলের সাথে অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কে জড়িত হওয়ার কারণে, দুজনকেই মাদ্রাসাতুস সাহাবা থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার সাক্ষী আয়েশার অনেক ক্লাসমেট আছেন এবং মাদ্রাসার বড় খালামণি, যিনি নিজ হাতে বিচার করেছেন। তার কাছ থেকেও সত্যটা যাচাই করতে পারবেন।
২/ বিয়ের আগ থেকে নেয়ামতউল্লাহ নামের যে ছেলের সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যার কারণে আমার সংসারটা নষ্ট হয়ে গেল, এই ঘটনার সত্যতার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। তার সাথে মেসেজিংয়ের স্ক্রিনশট, আয়েশার মুখ খুলে তাকে ছবি পাঠানোর স্ক্রিনশট এবং ভিডিও—সব প্রমাণ আমার ল্যাপটপে বিদ্যমান আছে।
৩/ আমি আলির আম্মু - আয়েশাকে ডিভোর্স দেওয়ার পর আবার যেখানে বিয়ে করেছি। নতুন করে সে সংসারটি নষ্ট করার জন্য যা যা কর্মকাণ্ড সে করেছে, সেগুলোর ছবি, স্ক্রিনশট এবং আরও অনেক কিছুই আমার কাছে রয়েছে।
সময় হলে, যদি এমন পরিস্থিতি হয়, অবশ্যই সেগুলো প্রকাশ করব।
আলির আম্মু - আয়েশার এখন দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে। সবাই সেটা জানেন। এখানে আরও একটি প্রমাণ দিয়ে দেই।
আমি পর্ব - ৮ এ বলেছিলাম, আয়েশার মা আমাকে বলেছিল, "আমার মেয়ে সংসার করবে আমার বাসায় থেকে। তুমি ঘর ভাড়া এবং আয়েশার ভরণপোষণের খরচ দিবা। এভাবে যদি সংসার করতে চাও, তাহলে করবে।" আমি সেটা মানিনি।
সে ঘটনার কথা গুলো আপনাদের মনে আছে অবশ্যই।
এখন আলির আম্মু- আয়েশা যে দ্বিতীয় বিয়ে বসেছে, এই ছেলে আগে থেকেই বিবাহিত। এই ছেলেকে শর্ত দিয়েছে,আয়েশা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাবে না। তার নিজের বাসায় থেকেই সে সংসার করবে। এই ছেলে সেই শর্ত মেনে নিয়ে এভাবেই সংসার করছে।
এ কথার সত্যতা হচ্ছে, আয়েশার দ্বিতীয় বিয়ের পর আলীকে আমাদের কাছে পুরোপুরি নিয়ে আসার জন্য আমার আব্বু আয়েশার বাবার কাছে ফোন দিয়েছিলেন। তখন আয়েশার বাবা ছেলে সম্পর্কে এ সংবাদ দেন এবং বলেন, "আলী এখন ছোট। মা ছাড়া থাকতে পারে না, কান্নাকাটি করে। কিছুদিন পর আপনাদের নাতি আপনাদের কাছে চলে যাবে।"
ঘটনার সমাপ্তি কিন্তু এখনো হয়নি।
আলির আম্মু - আয়েশার এমন কিছু তথ্য, যা তার দ্বিতীয় বিয়ের দুই মাস আগের ঘটনা। থাক, এখন আর বলব না। তার দ্বিতীয় সংসারিক জীবনে প্রবলেম হতে পারে, তাই আমি প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। প্রকাশ করা অথবা না করা—সেটা সম্পূর্ণ আয়েশার হাতে। সে যদি এভাবে মিথ্যাচার চালিয়ে যায়, অবশ্যই সেটা প্রকাশ করতে বাধ্য হব।
আলির আম্মুর দ্বিতীয় বৈবাহিক জীবন নিয়ে ভালো থাকুক—সেটাই আমি চাই। আমার সন্তান আলীকে আমাকে দিয়ে দিক, সেটাই আমার চাওয়া।
এখন আমি আমার সাংসারিক জীবন নিয়ে, নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিয়ে অনেক ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ
সবার কাছে দোয়া দরখাস্ত, আল্লাহ হাফেজ
পুরো গল্পটি পড়ে আপনাদের কাছে কেমন অনুভূতি হল আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানাবেন 👇 #মাজলুম_আলীর_বাবার_জীবন_কাহিনী
#শেষ_পর্ব
#বাংলা_গল্প
#ডিভোর্স_জীবনের_সংগ্রাম