30/05/2026
একজন পেশেন্টকে দু'টি বিষয়ে যে আক্বীদা পোষণ করতেই হবে —
🔺আক্রান্ত বা অসুস্থ হওয়ার ব্যাপারে আক্বীদাঃ
প্রত্যেক مسحور (যাদুগ্রস্থ), ممسوس (আছরগ্রস্থ), ماعيون (নজরাক্রান্ত), محسود (হাসাদে আক্রান্ত) ব্যক্তিকে সর্বপ্রথমে এই ইয়াক্বীন আনতে হবে, সে যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বা যে অসুস্থতায় ভুগছে জ্বিন/ যাদু কিংবা নজরের কারণে তা একমাত্র আল্লাহতা'আলার ইচ্ছাতেই হয়েছে।
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস কিংবা জ্বিন যাদুর কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো হাত নেই এই ক্ষতিতে। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধিও যদি এই অবস্থা চলে তবুও এটা আল্লাহর ইচ্ছাতেই। যদি কেউ তা থেকে পরিপূর্ণ সুস্থ হয় সেটাও আল্লাহর ইচ্ছাতেই আবার যদি কেউ তা থেকে কখনোই পরিত্রান না পায় সেটাও আল্লাহর ইচ্ছাতেই। আর আক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে যে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া কিংবা মৃত্যু বরণ করা আল্লাহ জাল্লাশানহুর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তাক্বদির।
নিঃসন্দেহে এটি প্রত্যেক আক্রান্তের জন্য পরীক্ষা যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা ঘোষণা করেছেন,
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوْعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْاَمْوَالِ وَالْاَنْفُسِ وَالثَّمَرٰتِ ؕ وَبَشِّرِ الصّٰبِرِيْنَ ۙ
"আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও"
[সূরা বাক্বারাহ: ১৫৫]
এজন্য আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ব্যাপারে আক্রান্ত ব্যক্তির ইয়াক্বিন এটাই হবে যে, তার উপর যা পতিত হয়েছে তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার ইচ্ছা ব্যতিত কখনোই কার্যকর হতো না এবং তার কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারতো না।
কারণ, আল্লাহ আজ্জাওয়াজাল্লাহ ইরশাদ করছেন,
وَ مَا ہُمۡ بِضَآرِّیۡنَ بِہٖ مِنۡ اَحَدٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ
"অথচ তারা তার মাধ্যমে কারো কোন ক্ষতি করতে পারত না আল্লাহর অনুমতি ছাড়া" [বাক্বারাহ: ১০২]
🔺 সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে আক্বীদা
সুস্থতার ব্যাপারে রোগীর ইয়াক্বিন এটাই হবে যে, কোনো রাক্বি বা চিকিৎসক সুস্থ করার ক্ষমতা রাখে না। শিফা একমাত্র আল্লাহতা'আলার ইচ্ছাতেই হবে। তিনি যার মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা উপকৃত করবেন। একজন রাক্বি বা চিকিৎসক তাদের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কেবলমাত্র চেষ্টা করতে সক্ষম (আল্লাহর ইচ্ছায়), কিন্তু কারো চেষ্টার মাধ্যমে রোগী উপকৃত হওয়া বা সুস্থতা লাভ করা একান্তই আল্লাহ জাল্লাশানহুর অনুগ্রহ।
আল্লাহ আজ্জাওয়াজাল্লাহ ইরশাদ করছেন,
وَاِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ ۪ۙ
‘আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন যিনি আমাকে আরোগ্য করেন" [সূরা শু'য়ারা: ৮০]
🚫 অসুস্থ হওয়া থেকে সুস্থ হওয়ার মাঝে রাক্বি বা চিকিৎসকের যে চেষ্টা থাকে তা মূলত তার পরিশ্রম। এজন্য কোনো রাক্বি বা চিকিৎসক কারো সুস্থতার ব্যাপারে যদি কোনো কৃতিত্ব নিতে চায় তাহলে এটা তার স্পষ্ট বিচ্যূতি বলেই বিবেচিত হবে। মূলত এটাই শয়তানের একটি ফাঁদ যাতে কোনো কোনো রাক্বি বা চিকিৎসক ধোঁকা খেয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন, আমীন।