22/09/2026
এই লেখাটি পড়ে আপনি নিজেই নিজের মধ্যে থাকা এমন কোনো সমস্যা চিহ্নিত করতে পারবেন যা লজ্জায় কাউকে বলতে পারেন না। সমস্যা থেকে বের হতে চান কিন্তু উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। দিন শেষে বারবার নিজেকেই দোষারোপ করেন, নিজেকেই খারাপ মনে হয়। চলুন কিছু কেইস জেনে নেওয়া যাক—
এক.
মেয়েটির বয়স ২৬ বছর, কয়েকদিন আগে দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে। ১৩ বছর বয়স থেকে সে মাস্টারবেশনে আসক্ত। কেন, কীভাবে শুরু হয়েছে নিজেই বলতে পারে না, পর্ন আসক্তিও নেই। কিন্তু এক অজানা অনুভূতি তাকে এই গোপন গুনাহে আসক্ত করে তুলেছে। আজ থেকে কয়েক বছর আগে ১ম বিয়ে হয় তার। মাত্র কয়েকদিন সংসার করার পর সে সংসার ত্যাগ করে, ডিভোর্স হয়ে যায়। কেন সংসার ত্যাগ করেছিল, স্বামীর কোনো সমস্যা ছিল কি না—জানতে চাইলে অকপটে স্বীকারোক্তি দেয় যে, স্বামী ভালো ছিল কিন্তু কেন জানি তার ভালো লাগতো না। কয়েকদিন আগে হওয়া দ্বিতীয় বিয়ের পরও একই অবস্থা। কুফু বিবেচনায় মেয়ে তার চেয়েও উত্তম স্বামী পেয়েছে, কিন্তু কয়েকদিন সংসার করার পর আর স্বামীকে ভালো লাগছে না, নিজেই ডিভোর্স চাচ্ছে। কারণ কী?—জানতে চাইলে একই উত্তর, তার ভালো লাগছে না, স্বামীকে দেখলেই রাগ উঠে যাচ্ছে, স্বামী তার প্রশংসা করলে সহ্য হচ্ছে না।
দুই.
ছেলেটির বয়স ২২-২৩ বছর, এক স্বনামধন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। দ্বীনের ফরজ বিধানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন সুন্নাহসম্মত উপায়ে গড়ে তোলায় আগ্রহী। হঠাৎ করে কয়েক বছর থেকে পর্নে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো, ইদানীং নিজের মাহরাম নারীদের (মা, বোন, খালা, আপন ভাগ্নি ইত্যাদি) প্রতি তার যৌন চাহিদা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে প্রকটভাবে।
তিন.
সদ্য বিবাহিতা এক বোন। বিবাহের প্রথম দিকে যে সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন চাহিদা থাকে প্রবল, সে সময় তার স্বামীর প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই; বরং স্বামী ছাড়া পরপুরুষদের প্রতি তার আগ্রহ প্রকাশ পাচ্ছে। অথচ বিগত জীবনে তার এমন কোনো ঘটনা বা সম্পর্ক ছিল না, যার কারণে তার মধ্যে এমন হারাম চাহিদা তৈরি হওয়ার কোনো কারণ ছিল। অনেক পুরুষদের মধ্যেও এমন সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ বিবাহিত হওয়ার পরও পরনারী/ পরপুরুষের প্রতি আসক্তি/ আকৃষ্টতা প্রকাশ পাচ্ছে, বিচ্ছিন্ন সংখ্যায় নয় বরং প্রকটভাবে।
⭕ যৌনতা শাইত্বনের পুরনো এবং শক্তিশালী এক অস্ত্র। টার্গেট হলো সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়া, মুমিনদের নৈতিক শক্তি ধ্বংস করে ফেলা। দিন যতই গড়াচ্ছে, সমস্যা ততই প্রকট হচ্ছে। তাহলে সমাধান কী?
সমাধান হলো —
এক.
আল্লাহ'র স্মরণ থেকে গাফেল না হওয়া। এমন এক আমলী জিন্দেগির ওপর দৃঢ় হতে থাকা যেন নিজের পরিবারের জন্য অভেদ্য এক দূর্গ তৈরি হতে থাকে—শাইত্বন যা কখনোই ভেদ করতে সক্ষম হবে না ইনশাআল্লাহ।
দুই.
একজন ইসলাহী শায়েখের সোহবতে থাকতে শুরু করুন, তাঁর কাছে নিজের সমস্যা জানিয়ে পরামর্শ নিন।
তিন.
তিব্বে নববীর অন্তর্ভুক্ত রুহানি চিকিৎসার উপায় উপকরণগুলো আঁকড়ে ধরা। যেমন রুক্বইয়াহ শারইয়্যাহ, হিজামা ইত্যাদি।
চার.
প্রয়োজনে অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্টের অধীনে কাউন্সিলিং সেশন নেওয়া।
পাঁচ
বন্ধু-সঙ্গী নির্বাচনে দ্রুত কাটছাঁট করে ফেলা।
✅ লেখাটি শেয়ার করুন, হতে পারে আপনার একটি শেয়ার আপনারই কোনো প্রিয়জন বা শুভাকাঙ্ক্ষীর জন্য উপকারের কারণ হবে ইনশাআল্লাহ।