16/05/2026
রেডিওথেরাপির সময় শরীরে যে দাগ বা মার্কিং করা হয়, সেটি শুধু একটি সাধারণ দাগ নয়—এটি চিকিৎসার খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দাগ দেখে প্রতিদিন একই জায়গায়, একই কোণে এবং একই নির্ভুলতায় রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। তাই নিজেরা মার্কার দিয়ে নতুন করে দাগ টানা বা আগের দাগ ঠিক করার চেষ্টা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অনেক সময় দাগ হালকা হয়ে গেলে রোগী বা স্বজনরা ভাবেন, “একটু মার্কার দিয়ে ঠিক করে দিলেই তো হয়।” কিন্তু সমস্যাটা হলো, কয়েক মিলিমিটার এদিক-সেদিক হলেও রেডিওথেরাপির নির্ভুলতায় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এই চিকিৎসায় খুব নির্দিষ্ট জায়গায় রশ্মি দেওয়া হয় যাতে ক্যান্সার আক্রান্ত অংশ চিকিৎসা পায় এবং আশেপাশের সুস্থ অঙ্গ যতটা সম্ভব সুরক্ষিত থাকে।
নিজেরা দাগ টানলে চিকিৎসার জায়গা সামান্য সরে যেতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় অংশ কম ডোজ পেতে পারে বা আশেপাশের স্বাভাবিক টিস্যু অপ্রয়োজনীয় রেডিয়েশন পেতে পারে।
দাগ হালকা হয়ে গেলে বা উঠে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। রেডিওথেরাপি সেন্টারে জানালেই তারা প্রয়োজন হলে সঠিকভাবে আবার মার্কিং করে দেবেন। অনেক সেন্টারে স্থায়ী ছোট ট্যাটু মার্কও ব্যবহার করা হয়, যা সহজে উঠে যায় না।
রেডিওথেরাপির সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা ভালো—
• নিজেরা কলম, মার্কার বা মেহেদি দিয়ে দাগ দেবেন না।
• দাগ মুছে গেলে বা অস্পষ্ট হলে দ্রুত রেডিওথেরাপি টিমকে জানান।
ছোট একটি দাগ দেখতেই সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু এই দাগের ওপরই অনেকটা নির্ভর করে প্রতিদিনের চিকিৎসার নির্ভুলতা।