30/09/2026
কেন পেটের মেদ Heart Disease-এর ঝুঁকি বাড়ায়?
আজকাল অনেকেই মনে করেন ওজন স্বাভাবিক থাকলেই শরীর সুস্থ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শরীরের মোট ওজনের চেয়ে পেটের ভেতরের অতিরিক্ত চর্বি (Visceral Fat) অনেক বেশি বিপজ্জনক। এই মেদ শুধু কোমরের আকার বাড়ায় না, বরং নীরবে রক্তনালী, Heart, লিভার এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের কোমরের মাপ বেশি, তাদের Heart Disease-এর ঝুঁকি BMI স্বাভাবিক হলেও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই পেটের মেদকে শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা উচিত।
পেটের মেদ মূলত দুই ধরনের। একটি হলো ত্বকের নিচে জমা হওয়া Subcutaneous Fat, যা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। অন্যটি হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চারপাশে জমা হওয়া Visceral Fat। এই Visceral Fat লিভার, অগ্ন্যাশয় ও অন্ত্রের চারপাশে জমে এবং বিভিন্ন প্রদাহজনক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। এসব পদার্থ শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা Heart Disease-এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পেটের মেদ কীভাবে Heart-এর ক্ষতি করে? প্রথমত, এটি রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা বাড়ায়। Visceral Fat-এর কারণে ট্রাইগ্লিসারাইড বৃদ্ধি পায়, ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমে যায় এবং ক্ষতিকর LDL আরও ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে। ফলে ধীরে ধীরে রক্তনালীর ভেতরে চর্বি জমতে শুরু করে, যাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়। এই জমাট বাঁধা চর্বি রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এবং একসময় Heart Attack-এর ঝুঁকি তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, পেটের মেদ উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। অতিরিক্ত Visceral Fat শরীরের হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে রক্তনালী সংকুচিত হয় এবং কিডনিতে লবণ ও পানি ধরে রাখার প্রবণতা বাড়ে। এর ফলে Blood Pressure দীর্ঘদিন উঁচু থাকে। দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ রক্তচাপ Heart-কে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে বাধ্য করে, যা Heart Failure এবং Stroke-এর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, পেটের মেদ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সৃষ্টি করে। যখন শরীর ইনসুলিন ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস ও Heart Disease একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই অনেক সময় একজন ব্যক্তির কোমরের মাপই ভবিষ্যতের কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, “আমার ওজন তো স্বাভাবিক, তাহলে কি আমি নিরাপদ?” উত্তর হলো—সবসময় নয়। American Heart Association-এর বৈজ্ঞানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, BMI স্বাভাবিক হলেও যদি কোমরের মাপ বেশি হয়, তাহলে Heart Disease-এর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কারণ BMI শরীরের মোট ওজন পরিমাপ করে, কিন্তু কোথায় চর্বি জমেছে তা জানায় না। তাই শুধুমাত্র ওজন নয়, কোমরের মাপও নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি।
কোমরের মাপ কেন গুরুত্বপূর্ণ? গবেষণায় দেখা গেছে, Waist Circumference এবং Waist-to-Height Ratio ভবিষ্যতের কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি নির্ধারণে কার্যকর সূচক। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় BMI-এর পাশাপাশি কোমরের মাপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ পেটের অতিরিক্ত চর্বি অনেক সময় বাহ্যিকভাবে খুব বেশি চোখে না পড়লেও শরীরের ভেতরে ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রদাহ। Visceral Fat বিভিন্ন সাইটোকাইন ও প্রদাহজনক উপাদান নিঃসরণ করে, যা রক্তনালীর অভ্যন্তরীণ আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে Endothelial Dysfunction তৈরি হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কোমরের অতিরিক্ত মেদের সঙ্গে Heart Failure-এর সম্পর্কের একটি বড় অংশ দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। অর্থাৎ পেটের মেদ শুধু অতিরিক্ত ওজন নয়, এটি একটি সক্রিয় প্রদাহজনক অঙ্গের মতো আচরণ করে।
সুখবর হলো, পেটের মেদ কমানো সম্ভব এবং এর সুফলও দ্রুত পাওয়া যায়। নিয়মিত দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং বা অন্য কোনো অ্যারোবিক ব্যায়াম Visceral Fat কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন, আঁশসমৃদ্ধ শাকসবজি, ফল, সম্পূর্ণ শস্য এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ উপকারী। চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস কমানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি মোট ওজন খুব বেশি না কমলেও Visceral Fat কমলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং প্রদাহের মাত্রা উন্নত হতে পারে।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, পেটের মেদ কোনো সাধারণ শারীরিক পরিবর্তন নয়; এটি Heart-এর জন্য একটি নীরব সতর্কবার্তা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শুধু ওজন নয়, কোমরের দিকেও নজর দিন। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা আপনার Heart-কে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আজকের ছোট জীবনযাত্রার পরিবর্তনই ভবিষ্যতের বড় Heart ঝুঁকি কমাতে পারে।
References: AHA, ACC, WHO, NIH