19/05/2026
কোরবানি ঈদ ও জাদু নবায়ন সতর্কতা:
সামনে কোরবানি ঈদ। মুসলমানদের জন্য তা যেমন মহা আনন্দের ঠিক তেমনি অনেকের জন্য মারাত্মক কষ্টেরও বটে। কারণ এ সময় অনেক বেশি জাদু চর্চা হয়। এই সময়টাতে নতুন জাদুর পাশাপাশি পুরোনো জাদুও নবায়ন করা হয়। কবিরাজ ও তান্ত্রিকদের নিকট নতুন জাদু করা এবং জাদু নবায়নের বিশেষ কিছু সময় ও দিন আছে। ইসলামে যেমন দোয়া কবুল ও ইবাদতের বিশেষ কিছু মূহূর্ত এবং সময় আছে; যেমন তাহাজ্জুদের সময়, মাগরিবের আগে পরে, দুই খুতবার মধ্যবর্তী সময় ইত্যাদি। তেমনি যাদুকর ও তান্ত্রিকদের নিকটেও বিশেষ কিছু সময় ও দিনের বিশেষ গুরুত্ব আছে। তারা বিশ্বাস করে যে এসব সময় ও দিনে জাদু করলে জাদু অনেক বেশি কার্যকরী এবং শক্তিশালী হয়। এরকম একটা সময় হচ্ছে কোরবানি ঈদ।
কোরবানি ঈদ মুসলমানদের বিশেষ আনন্দের সময়। আর মুসলমানদের যেকোনো আনন্দ সময়, উৎসব এবং যেকোনো ভালো বিষয় শয়তানের কাছে সেটা কষ্টের। এজন্যই ঈদের দিন অনেক পরিবারেই দেখা যায় সবসময় কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে সামান্যতেই ঝগড়া বেধে যায় এবং বড়ধরনের ঝগড়া হয়। কারণ শয়তান মুসলমানদের ভালো কাজ ও আনন্দ সহ্য করতে পারে না। আর সেই আনন্দ মাটি/নষ্ট করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। দুনিয়াতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হচ্ছে সুন্দর ও মূল্যবান সম্পর্ক। আর শয়তানরাও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘটাতে পারলে ইবলিসের কাছে বিশেষ মর্যাদা এবং প্রমোশন পায়।
এজন্য কোরবানি ঈদে শয়তানরা মানুষ কে অনেক বেশি ডিস্টার্ব করে। জাদুকরেরাও কুরবানী পশুর রক্ত, হাড়, চামড়া, মাথার খুলি এবং শিং ইত্যাদি ব্যবহার করে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও শক্তিশালী জাদু গুলো প্রয়োগ করে এবং পূর্বের জাদু নবায়ন করে। তাই এসময় সকলের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে জ্বীন-জাদু আক্রান্ত জন্য বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা আবশ্যক।
জা’দু নবায়নের বিশেষ সময়সমূহ
—আরবি মাসের মাঝামাঝি (১৩-১৭ তারিখ): এসময় অনেকের সমস্যা বেড়ে যায়।
—নির্দিষ্ট পূজা-পার্বণ: যেমন কা’লি পূজা, বৈশাখী উৎসব ইত্যাদি।
—মাসের শেষ ও শুরুর কিছু সময়: যেমন অমাবস্যায় অনেক বেশি জাদু চর্চা হয়।
—সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন: বিশেষত শনিবার ও মঙ্গলবার।
—নদীর জোয়ার ভাটার সময়। তাবিজ ও জাদুর বিভিন্ন বস্তু পানিতে নিক্ষেপ করে।
—বিশেষ প্রয়োজনের সময়: যেমন স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটানোর আগে, কিংবা পরীক্ষা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে।
তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, জা’দু নবায়ন শুধু নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ নয়— যেকোনো সময়ই হতে পারে। তাই অপেক্ষা না করে সর্বদা সতর্ক থাকা এবং মাসনুন আমল ও হেফাজতের দোয়ায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
জাদু নবায়নের লক্ষণসমূহ
◉ হঠাৎ পোড়া, ধোঁয়া বা অস্বাভাবিক গন্ধ অনুভব করা
◉ আতর, ফুল বা অচেনা কিছুর সুঘ্রাণ পাওয়া।
◉ অস্থিরতা বা আতঙ্ক বেড়ে যাওয়া, মানসিক চাপ অনুভব করা।
◉ হঠাৎ অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা বেড়ে যাওয়া।
◉ হঠাৎ শরীর অবশ হয়ে যাওয়া বা হাত-পা অবশ লাগা।
◉ আবার কখনো দুর্গন্ধ, পচা বা নোংরা গন্ধ অনুভব করা।
◉ দুঃস্বপ্ন বৃদ্ধি পাওয়া, ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা।
◉ স্বপ্নে খেতে দেখা; নিজেই খাওয়া বা জোর করে কেউ খাইয়ে দিতে দেখা।
◉ স্বপ্নে সাপ, কুকুর, বা ভয়ংকর প্রাণী দেখা।
◉ স্বপ্নে কবরস্থান, মৃত মানুষ, আগুন জ্বলতে দেখা।
◉ স্বপ্নে সাগর, নদী, পানি, সাঁতরানো বা ডুবে যেতে দেখা।
◉ স্বপ্নে সাগর বা নদীতে পড়ে গিয়ে খুব কষ্টে পার হতে দেখা।
◉ স্বপ্নে প্রাণীর ধাওয়া করা (বিশেষত কুকুর, সাপ ইত্যাদি)
◉ আকাশে উড়ে যাওয়া বা উপর থেকে পড়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা
◉ সংসারে অকারণ ঝগড়া বৃদ্ধি পাওয়া।
◉ শরীরে হঠাৎ অস্বাভাবিক ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
◉ রুকইয়াহতে উপকারের পর পুনরায় সমস্যা বাড়া।
◉ হঠাৎ পুরোনো লক্ষণগুলো পুনরায় তীব্র হয়ে ওঠা।
জাদু নবায়ন থেকে বাঁচতে করণীয়:
–প্রতিরোধ সব সময় চিকিৎসার চেয়ে উত্তম। অনেকেই আক্রান্ত হলে তবেই রুকইয়াহ করার জন্য আসেন। কিন্তু তখন উপকার পাওয়া গেলেও সময় লাগে বেশি এবং কষ্টও বাড়ে। এরচেয়ে উত্তম হচ্ছে— আগেভাগেই সুরক্ষা গ্রহণ করা। প্রতিরোধমূলকভাবে রুকইয়াহ করা।
–সকালে-সন্ধ্যা, ঘুমের পূর্বের এবং দৈনন্দিন হেফাজতের এবং প্রটেকশনের (শরীর বন্ধের) মাসনুন দোয়া ও যিকির গুলো গুরুত্বের নিয়মিত পালন করুন।
–জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার পর থেকে ঈদের আগে সাতদিনের ডিটক্স রুকইয়াহ অবশ্যই করুন। এতে সমস্যাও যেমন দূর হবে অতিরিক্ত সুরক্ষাও হবে। ইনশাআল্লাহ।
– রুকইয়াহ করা সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করুন
– রুকইয়াহ তেল, পানি ইত্যাদি ব্যবহার করুন। নিয়মিত পড়া তেল মসাজ করুন, বেশি বেশি পড়া পানি করুন।
– পারিবারিক ঝামেলা, ঝগড়াঝাঁটি যেন না হয় সে ব্যপারে খুব বেশি সতর্ক থাকবেন। ঝগড়ার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ এড়িয়ে যাবেন।
– ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে যেখানে সেখানে ঘুরতে যাবেন না। মন্দির, পরিত্যক্ত পুরাতন ভবন দেখতে যাবেন না।
– ঈদের পর থেকে ঈদের আনন্দে মেতে নিরাপত্তার ভুলে যাবেন না। পরিপূর্ণভাবে রুকইয়াহ করা সম্ভব না হলে যতটুকু সম্ভব রুকইয়াহ করবেন। নিরাপত্তার আমলের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে সূরা ফালাক, নাস, আয়াতুল কুরসি ইত্যাদি তিলাওয়াত করবেন।
– সম্ভব হলে ঈদের আগে এবং পরে অভিজ্ঞ রাকির কাছে সরাসরি রুকইয়াহ করুন। সেলফ রুকইয়াহ থেকে সরাসরি রুকইয়াহ অনেক বেশি কার্যকরী। ঈদের পরে তো যত দ্রুত সম্ভব সরাসরি রুকইয়াহ করবেন।
– রুকইয়াহ'র পাশাপাশি হিজামা করতে এক্সট্রা সুরক্ষা হবে ইনশাআল্লাহ। কারণ সমস্যা কমে গেলে জ্বীন সহজে ক্ষতি বৃদ্ধি করতে পারেনা, জাদুও তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা।
– আপনি কুরবানী দিলে অবশ্যই পশুর হাড় ইত্যাদি যেখানে সেখানে ফেলবেন না, বরং ভেঙে বা কেটেকুটে ছোট ছোট করে দূরে কোথাও ফেলে দিবেন। অন্যথায় হয়তো দেখা যাবে যে আপনার কোরবানির পশুর হাড় ইত্যাদি দিয়ে আপনাকেই যাদু করবে।
📌 গুরুত্বপূর্ণ কথা
মনে রাখতে হবে—
প্রতিরোধ সবসময় চিকিৎসার চেয়ে উত্তম।
তবে আতঙ্কিত হওয়া নয়, বরং সতর্কতা কাম্য, একজন মুমিনের কাজ হলো— আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা, শরীয়তের উপর চলা, নিয়মিত আমল করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা। সঠিক সময়ে রুকইয়াহ করে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা।
❝ শিফা একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে। ❞
সমস্যা যাচাই এবং রুকইয়াহ চিকিৎসার জন্য এপয়েন্টমেন্ট বুক করতে যোগাযোগ করুন।
মেসেঞ্জার/হোয়াটসঅ্যাপ
📞 01715-212298