24/09/2022
অথর্ব বেদঃ
যা কেউ পড়ে না বা হয়ত পড়েনি।
আমি জ্ঞান প্রেমী,সমালোচনা প্রেমিক নই। আমি ধার্মিক নই একথা সত্য, কিন্তু তাই বলে সারাদিন নবীর বিরুদ্ধে গালমন্দ ও কৃষ্ণের কেচ্ছা রটানোকে মুক্ত চিন্তার একমাত্র বিষয় বলে মনে করি না। জ্ঞান অর্জন করাই আমার প্রকৃত লক্ষ্য। মানব সমাজের কল্যাণে প্রকৃত উন্নয়নের লক্ষ্যে যদি কোন ধর্মগ্রন্থে হিতোপদেশ খুঁজে পাওয়া যায়, সেটা আমার কাছে গ্রহনীয়। আধ্যাত্মিকতায় আমি বিশ্বাসী নই।
বৈদিক সমাজে বেদকে ধর্মগ্রন্থ হিসাবে অনুসরণ করলেও যা মানব সমাজ ও জীবন সম্মন্ধে সম্পর্কিত,।বেদ চার প্রকার ঋক,সাম,যজুঃ অথর্ব । তৎকালীন সমাজে চিকিৎসা ব্যাবস্থায় অথর্ব বেদ দারুন কার্যকরি ভূমিকা পালন করেছিল। যার সূত্র ধরে আজ আমরা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রকে পেয়েছি। আমার সংগ্রহে বই গুলো আছে। কিন্ত বই পাঁচ খানা। যদিও গ্রন্থ চার খানা। বিভিন্ন গ্রন্থে সমাজের বিভিন্ন দর্পণ। বেশ আগে ব্রাম্মন ছাড়া এ গ্রন্থ কাউকে দেওয়া হত না। গ্রন্থখানা তারা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। অথর্ব বেদে রয়েছে চিকিৎসা শাস্ত্র।
আয়ুর্বেদ হলো ভারতবর্ষের প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রের এক অঙ্গ। প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে ভারতবর্ষেরই মাটিতে এই চিকিৎসা পদ্ধতির উৎপত্তি হয়। আয়ুর্বেদ শব্দটি হলো দুটি সংস্কৃত শব্দের সংযোগে সৃষ্টি-যথা 'আয়ুষ', অর্থাৎ 'জীবন' এবং 'বেদ' অর্থাৎ 'বিজ্ঞান'। যথাক্রমে আয়ুর্বেদ শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় 'জীবনের বিজ্ঞান'।
অর্থাৎ যে জ্ঞানের মাধ্যমে জীবের কল্যাণ সাধন হয় তাকে আয়ুর্বেদ বা জীববিদ্যা বলা হয়। আয়ুর্বেদ চিকিত্সা বলতে ভেষজ বা উদ্ভিদের মাধ্যমে যে চিকিত্সা দেয়া হয় তাকে বুঝানো হয়। এই চিকিত্সা ৫০০০ বছরের পুরাতন। বেদের একটি ভাগ - অথর্ববেদ এর যে অংশে চিকিৎসা বিদ্যা বর্ণিত আছে তা-ই আয়ুর্বেদ।
আদি যুগে গাছপালার মাধ্যমেই মানুষের রোগের চিকিৎসা করা হতো। এই চিকিত্সা বর্তমানে ‘হারবাল চিকিত্সা’ তথা ‘অলটারনেটিভ ট্রিটমেন্ট’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে এই চিকিত্সা বেশি প্রচলিত। পাশাপাশি উন্নত বিশ্বেও এই চিকিত্সা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কারণ মর্ডান এলোপ্যাথি অনেক ঔষধেরই side effect বা পার্শ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যেমনঃ ঔষধ সিপ্রোফ্লক্রাসিন, ফ্লুক্লক্রাসিলিন, মেট্রোনিডাজল, ক্লক্রাসিলিন প্রভৃতি ঔষধ রোগ সারানোর পাশাপাশি মানব শরীরকে দুবর্ল করে ফেলে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে স্মৃতিশক্তি, যৌনশক্তি, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ইতিহাস পাওয়া যায়।
কিন্তু তবুও দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য মানুষ এগুলো ব্যবহার করে চলেছে। পক্ষান্তরে ডাক্তারও ঔষধ ব্যবসায়ীগণ এসকল পার্শ প্রতিক্রিয়া পরোয়া না করে সুনামের জন্য অনবরত যথেচ্ছহারে রোগীদেরকে এসকল ঔষধ দিয়ে যাচ্ছেন। তাই এখন এ ঔষধের বিকল্প ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত হিসেবে বিশ্বে এখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বর্তমানে আমরা অনেকেই এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাবহার করি। এবং এই চিকিৎসায় সাইড এফেক্ট অনেক কম।
মানুষই আয়ুর্বেদের কথা শুনেছেন। পশ্চিমারাও সম্প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে এর প্রতি। তবে সামান্য জানলেও এ বিষয়টির ওপর সঠিক ধারণা খুব কম মানুষেরই আছে। আর এ সুযোগে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। যার সুযোগ নিতে পারে বিভিন্ন পক্ষ। এ কারণে বিভ্রান্তি দূর করার জন্যও আয়ুর্বেদ সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
১. আয়ুর্বেদ কী আয়ুর্বেদ সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আপনার জানা প্রয়োজন তা হলো, আয়ুর্বেদ কী? না, এটি কোনো ধর্ম নয়। এটি প্রাচীন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। যার মূল ধারণা শারীরিক ব্যবস্থার ভারসাম্য আনা, খাবারের সঠিক ব্যবহার, ভেষজ চিকিৎসা ও যোগাসন। প্রাচীন বিজ্ঞানের ভিত্তিতে শরীরের ভারসাম্য আনাই এর মূল বিষয়।
২. এর মূলে রয়েছে ‘অথর্ব বেদ’ বর্তমানে বিশ্বের নানা স্থানে আয়ুর্বেদ নিয়ে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেলেও এর মূল কিন্তু রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশেই। পাঁচ থেকে ছয় হাজার বছর আগে এর উদ্ভব বলে জানা যায়। আয়ুবেদের মূল উৎস হিসেবে জানা যায় ‘অথর্ব বেদ’-এর নাম। প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রের চতুর্থ বেদ এ ‘অথর্ব বেদ’। তবে তার মানে এই নয় যে, আয়ুর্বেদ ধর্মীয় কোনো বিষয়। এটি মূলত একটি চিকিৎসাশাস্ত্র।
৩. তিনটি দোসা আয়ুর্বেদের অন্যতম প্রধান অংশ এর তিন দোসা থিওরি। এ তিনটি দোসা হলো ভাটা, পিটা ও কাপহা। এগুলো আমাদের সবার অংশ। এগুলো বিভিন্ন সংযুক্ত বিষয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। যেমন আগুন, পানি, বাতাস, পৃথিবী ইত্যাদি। তবে প্রত্যেকেরই কোনো একটি প্রধান দোসা থাকে। এর মাধ্যমে জানা যায়, আপনার শরীরের ধরন কেমন।
আপনার ওপর এটি কতখানি কার্যকর? আয়ুর্বেদ কতখানি কার্যকর তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ এর ওপর নির্ভর করছে আপনি বিষয়টি গ্রহণ করবেন কি না। আয়ুর্বেদ আপনাকে জানাবে আপনার দেহের ধরন। এরপর এ শাস্ত্রে আপনি পাবেন কিভাবে শরীরের ধরন অনুযায়ী আপনি চলবেন। এর মধ্যে থাকতে পারে কোন ধরনের
গেঁয়ো যোগী আসলে ভিখ পায় না। তাই আমাদের ঘরের বাইরে যে চিরঞ্জীব বনৌষধির ভাণ্ডার আছে, আমরা তাকে বিজ্ঞানের আলোকে মানতে রাজি নই। আমাদের মা-ঠাকুমারা যে জীবনধারা, যে দিনচর্যা যাপন করতেন সে সব আজকের যুগের তুলনায় কিছুটা সেকেলে হলেও, তার কিছুটাও যদি আমরা রপ্ত করতে পারি, তা হলে লাভ বই ক্ষতি নেই। বরং বিজ্ঞানের আতস কাচ চোখে সে সব পুরনো আয়ুর্বেদিক উপায়ে আমরা রোগ প্রতিরোধের কঠিন অঙ্ক সহজেই সমাধান করতে পারি।
আয়ুর্বেদ চিকিৎসার মূল লক্ষ্য দু’টি। প্রথমত, ‘স্বস্থস্য স্বাস্থ্য রক্ষনম’— অর্থাৎসুস্থের স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং দ্বিতীয়ত, ‘আতুরস্য বিকার প্রশমনন চ’— অসুস্থের চিকিৎসা করা।
সুস্থ লোকের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে প্রাচীন আয়ুর্বেদ কিছু বিধিনিষেধ বর্ণনা করেছে। যেখানে দৈনন্দিন জীবনধারার নিয়মকে বলা হয় ‘দিনচর্যা’,
যেমন ব্রাহ্ম মুহূর্তে জাগা (সূর্যোদয়ের ৪৮মিনিট আগে), ঊষাপান, শৌচকর্ম, দন্তধাবন (নিম, বকুল, বাবুল, করঞ্জ, খয়ের ইত্যাদির নরম ডাল দিয়ে দাঁত মাজা), নস্য (নারকেল তেল বা তিল তেল দুই ফোঁটা নাকে দেওয়া), কবল/কুলকুচি (তিল তেল, ত্রিফলা ক্বাথ ইত্যাদির দ্বারা), সারা শরীরে খাঁটি তেল দিয়ে মালিশ করা,ব্যায়াম করা,স্নান ও পরিষ্কার বস্ত্রধারণ।
রাত্রিকালীন জীবনধারার নিয়মকে বলা হয় ‘রাত্রিচর্যা’। যেমন, সূর্যাস্তের পর খাদ্যগ্রহণ (নৈশভোজন), আহারের পর একশো কদম পায়ে হাঁটা, পায়ের পাতায় তেল মালিশ ইত্যাদি। আর সর্বশেষ ঋতুভিত্তিক জীবনধারার নিয়মকে বলা হয় ‘ঋতুচর্যা’।
এই তিন জীবনধারা আমাদের নীরোগ রাখে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আয়ুর্বেদের দৈনন্দিন আহার বিধিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চরক সংহিতার সূত্র স্থান, মাত্রাশীতিয় ও অন্নপান বিধি অধ্যায়ে। বৈজ্ঞানিক আঙ্গিকে দৈনন্দিন, রাত্রিকালীন ও ঋতুকালীন জীবনধারার প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা আছে এই শাস্ত্রে। উদাহরণস্বরূপ, আয়ুর্বেদের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, ‘ভাবপ্রকাশ’-এ তামার পাত্রে আগের রাতে রাখা ঢাকা দেওয়া জল পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পান করার কথা উল্লেখ আছে।এই দিনচর্যার নিয়মটিকে বলা হয়, ‘ঊষাপান’।
কায়চিকিৎসা
পরিপাক ও বিপাক ক্রিয়ার সমস্যা থেকে জাত রোগ যেমন জ্বর অতিসার মেহ ইত্যাদির চিকিৎসা। গ্রন্থ-ভেলসংহিতা, জতুকর্ণসংহিতা, নাগার্জুনের যোগসার, চক্রপাণির চিকিৎসারসংগ্রহ, ভাবমল্লের ভাবপ্রকাশ ইত্যাদি।
২) শালাক্যতন্ত্র
মুখমন্ডলের রোগের চিকিৎসা। যেমন বিধেয়তন্ত্র, নিমিতন্ত্র, কাত্যায়নতন্ত্র।
৩) শল্যতন্ত্র
অস্ত্রোপচার। যেমন ভোজতন্ত্র, ভানুকীতন্ত্র,কপিলতন্ত্র।
৪) অগদতন্ত্র
প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম বিষে সংঘটিত রোগের চিকিৎসা।
৫) ভূতবিদ্যা
মনের চিকিৎসা হল ভূতবিদ্যা ।
৬) কুমারভৃত্য
শিশু চিকিৎসা। যেমন রাবণের কুমার ভৃত্য, অজ্ঞাত কারও বাল চিকিৎসা।
৭) রসায়ন
যৌবন ধারকবিদ্যা। যেমন -কুচুমার তন্ত্র।
৮) বাজীকরণ
বংশরক্ষা সম্পর্কিত চিকিৎসা।
দাহবাহিসংহিতা ও কাশ্যপসংহিতায় অন্য অঙ্গগুলির আলোচনা আছে।
ফেসবুকে বেশী বড় করে ও যৌন সংক্রান্ত কিছু না লিখলে বেশীর ভাগ ছেলে মেয়ে পড়ে না। অনেক বড় বই ভাষা যেহেতু,সংস্কৃত থেকে এসেছে তাই পাঠোদ্ধার করা বেশ দুরুহ। তবুও চেষ্টা করেছি। সবাই বইগুলি রাখে না বা যোগান একেবারে নাই বললে চলে। লেখাটা বই থেকে নেওয়া, নিজের সংযোজন করা। অথর্ব বেদ সর্বকালের মানব জীবন ভিত্তিক গ্রন্থ। এটা ধর্মগ্রন্থ ও আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ কিছু নয়। এই লেখা নিয়ে আমাকে কেউ যদি বলে আমি মুক্তচিন্তক নই। তাহলে আমার বা*ল ছেড়া যায় না। আমি চাঁদা তুলে খাই না।