17/07/2026
বেনাপোল বর্ডারে ইন্ডিয়ান বাটপারের বিড়ম্বনা ! সতর্ক হোন
আজ বেনাপোল বর্ডার দিয়ে বের হওয়ার সময় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হলো। দিনটা আমার জন্য সত্যিই খুব খারাপ ছিল। তাই সংক্ষেপে পুরো বিষয়টি শেয়ার করছি, যাতে অন্যরা সতর্ক থাকতে পারেন।
বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন শেষ করে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিছুক্ষণ পর শুনলাম অনেকেরই E-Arrival ফরমে ভারতীয় মোবাইল নম্বর যুক্ত হয়নি। যার কারণে তাদের আবার নতুন করে ফরম পূরণ করতে হয়েছে এবং ৩০ রুপি করে দিতে হয়েছে। একই সমস্যায় আমিও পড়েছিলাম। অথচ আমি ভারতীয় নম্বরই দিয়েছিলাম, কিন্তু প্রিন্টের সময় সেটা আসেনি। এটা তো আমার কোনো দোষ নয়।
যাই হোক, ইমিগ্রেশন শেষ করে গেট দিয়ে বের হওয়ার পর প্রায় ১০-১২ জনের একটি দল বিভিন্ন কথা বলে আমাদের প্রায় জোরপূর্বক তাদের অফিসে নিয়ে যায়। তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলে, নির্বাচনের কারণে তারা এখানে নিয়োগপ্রাপ্ত।
প্রথমেই তারা জানতে চাইল হরিদাসপুর ইমিগ্রেশনের ২০০ রুপি পেমেন্ট করেছি কিনা। এরপর আমাদের পাসপোর্টগুলো চেক করল। তারপর জানতে চাইল, আমরা মোট কত টাকা এনেছি এবং সেই টাকা তাদের দেখাতে হবে। আমি বললাম, আমি কত টাকা এনেছি সেটা আমি দেখাব না। যদি দেখাতেই হয়, তাহলে পুলিশের কাছেই দেখাব। এই বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে অনেক তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।
পরে নাস্তা করে টাকা পরিবর্তন করার জন্য একটি দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। কিন্তু বুঝতেই পারিনি, তাদের লোকজন আমাদের পেছনে লাগিয়ে দিয়েছিল। একটি দোকানে বর্তমান রেট জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল ৭৫ টাকা। তখন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বলল, "আমি ৭৬ টাকা করে দিব, কোনো চার্জ লাগবে না।"
সেখানেই তাদের পাতা ফাঁদে আমি পড়ে গেলাম।
প্রথমে তারা ৭৬ টাকা রেটে হিসাব করে আমাকে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা দেখাল। কিন্তু যখন আমি টাকা দিলাম, তখন ৬৮ টাকা রেটে হিসাব করে টাকা দিতে শুরু করল। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, আমি টাকা ভাঙাব না। তখন তারা স্পষ্টভাবে বলে দিল, "টাকা ভাঙান আর না ভাঙান, আপনার কোনো টাকা ফেরত পাবেন না। আপনি যা পারেন করেন।"
আমার সঙ্গে তখন আমার ছোট বাচ্চা ছিল, যার জ্বর ছিল। আমার স্ত্রীও সঙ্গে ছিলেন। সেই অবস্থায় আমি কোথায় যাব? তারা তখন প্রায় ১৫-২০ জন ছিল। আশেপাশে এত মানুষ থাকলেও একজনও আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। মনে হলো সবাই তাদের ভয় পায়।
অবশেষে বাধ্য হয়ে অনেক টাকা লস দিয়ে সেখান থেকে চলে আসি।
আরেকটি বড় ভুল করে ফেলেছিলাম। ঝগড়াঝাঁটির সময় আমার পাসপোর্টগুলো তাদের কাছেই রেখে চলে আসি, আর সেটা বুঝতে পারি কলকাতায় পৌঁছে। তখন আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। কারণ লোকগুলো মোটেও ভালো ছিল না।
পরে কলকাতার হোটেলে আমার স্ত্রী ও বাচ্চাকে রেখে ৪ হাজার টাকা আপ-ডাউন ট্যাক্সি ভাড়া করে আবার হরিদাসপুর বর্ডারে ফিরে যাই। অনেক তর্ক-বিতর্কের পর অবশেষে তারা আমার পাসপোর্টগুলো ফেরত দেয়।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, আমি ইউটিউবে আগে থেকেই এদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জেনেছিলাম। তারপরও শেষ পর্যন্ত তাদের ফাঁদে পড়ে গেলাম। এটা আমার জন্য সত্যিই খুবই দুঃখজনক একটি অভিজ্ঞতা।
যারা আমার এই পোস্টটি পড়বেন, সবাইকে অনুরোধ করছি বিষয়টি অন্যদেরও জানিয়ে দিন। যেন আর কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।
কপিরাইটঃ মাসুদুর রাহমান