19/08/2026
ক্যান্সার কি সবসময় আগেভাগে জানান দেয়?
দুঃখজনক হলেও সত্য—সবসময় নয়। কিছু ক্যান্সার শরীরে নীরবে বেড়ে উঠতে পারে, আর যখন লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়, তখন অনেক সময় রোগটি বেশ দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।
আমার স্ত্রীর পরিবারের একজন অত্যন্ত প্রিয় মানুষ—আমার মামা। তিনি একজন ব্যস্ত ব্যবসায়ী ছিলেন। বাংলাদেশ ও ভারতে ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বড় কোনো অসুস্থতা ছিল না, স্বাভাবিকভাবেই জীবনযাপন করছিলেন।
কয়েক মাস আগে হঠাৎ শুরু হলো পাতলা পায়খানা ও পায়খানার সঙ্গে রক্তপাত। প্রথমে সাধারণ কোনো শারীরিক সমস্যা ভেবে চিকিৎসা নেওয়া হয়। ওষুধে কিছুটা উপকারও হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেননি।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই পায়খানার চাপ, রুচি কমে যাওয়া, ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়া—এসব লক্ষণ দেখা দিতে থাকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেল, তার সিগময়েড কোলনে ক্যান্সার হয়েছে।
পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধার মানুষ ও আইডল ডা. তপেশ কুমার পাল স্যারকে দেখানো হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও PET-CT করার পর জানা গেল, ততদিনে ক্যান্সার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে—কোমর, পেট, বুক, হাতের হিউমেরাস, পায়ের ফিমার ও টিবিয়া, এমনকি মাথার দিকেও।
মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছিল—এই পর্যায়ে অপারেশন নয়; প্রয়োজন কেমোথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসা। চিকিৎসাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, চিকিৎসা চলাকালীনই কিছুদিন পর তিনি মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। 🤲
এই ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি গভীর শিক্ষা।
আমরা অনেক সময় মনে করি—“আমি তো ভালো আছি, আমার কিছু হবে না।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, কিছু রোগ খুব নীরবে শরীরে বেড়ে উঠতে পারে।
ক্যান্সার শুধু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকারী মানুষেরই হয়—এমনটাও নয়। স্বাস্থ্য সচেতন ও নিয়ম মেনে চলা মানুষও কখনো কখনো এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। আবার কেউ দীর্ঘদিন নানা ক্ষতিকর অভ্যাস করেও অনেক বছর সুস্থ থাকতে পারেন।
শেষ পর্যন্ত জীবন-মৃত্যু ও আরোগ্যের মালিক মহান আল্লাহ। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, চিকিৎসা দেন—আর শিফা দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
তবে আল্লাহর ওপর ভরসা করার পাশাপাশি আমাদের দায়িত্ব হলো নিজের শরীরের প্রতি সচেতন থাকা।
দীর্ঘদিন ধরে যদি দেখা যায়— • অস্বাভাবিক রক্তপাত
• পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন
• অকারণে ওজন কমে যাওয়া
• দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা
• অস্বাভাবিক বা দীর্ঘদিনের ব্যথা
• রুচি কমে যাওয়া
তাহলে বিষয়গুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কারণ অনেক রোগের ক্ষেত্রেই সময়মতো শনাক্তকরণ চিকিৎসার সুযোগ অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে।
আল্লাহ আমার মামাকে মাফ করে দিন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। 🤲
আর পৃথিবীর সকল অসুস্থ মানুষকে পূর্ণ শিফা দান করুন।
সচেতন হোন, শরীরের ছোট পরিবর্তনকেও অবহেলা করবেন না। ❤️