Nature Version 3.0

Nature Version 3.0 দেহ ও মনের সুস্থতা'র জন্য উৎসর্গীকৃত 🍃

আপনি বডি ডিজমরফিয়ায় ভুগছেন না তো? আসুননলক্ষণ, কারণ ও সমাধান জেনে রাখি 🙂আমার এক কাজিন ঘরের আয়নাটা ঢেকে রেখেছে। ভালো কথা। ...
23/05/2026

আপনি বডি ডিজমরফিয়ায় ভুগছেন না তো? আসুননলক্ষণ, কারণ ও সমাধান জেনে রাখি 🙂

আমার এক কাজিন ঘরের আয়নাটা ঢেকে রেখেছে। ভালো কথা। বাথরুমে গিয়ে দেখি, সেখানেও বেসিনের আয়না একটা ওড়না দিয়ে ঢাকা। আজব তো! এটা নিয়ে জিজ্ঞেস করতেই বলল, তার নাকি নিজের চেহারা দেখতে ইচ্ছা করে না। নিজের শরীর বা নিজের চেহারা নিয়ে নিজের ভেতরে জন্মানো যে অসন্তোষ, নিজের শরীর দেখতে না পারা বা ঘৃণা করা—এ বিষয়কেই মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘বডি ডিজমরফিয়া’ বা ‘বডি ডিজমরফিক ডিজঅর্ডার’ (বিডিডি)।

আয়নায় তাকালেই মনে হয়—নাকটা ঠিক নেই, ত্বকের অবস্থা খারাপ, শরীরটা ভারী বা অস্বাভাবিক
আয়নায় তাকালেই মনে হয়—নাকটা ঠিক নেই, ত্বকের অবস্থা খারাপ, শরীরটা ভারী বা অস্বাভাবিকছবি: পেক্সেলস
বিডিডি কী
আয়নায় তাকালেই মনে হয়—নাকটা ঠিক নেই, ত্বকের অবস্থা খারাপ, শরীরটা ভারী বা অস্বাভাবিক। মনে হয়, সবাই নিশ্চয়ই আমার শরীরের এই ত্রুটি দেখছে। কিন্তু আশপাশের মানুষ হয়তো সেসব কিছুই ভাবছে না বা খেয়াল করছে না।

এ ধরনের ‘ইনসিকিউরিটি’ যখন নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়িয়ে ভয় ও ঘৃণায় পরিণত হয়, তখন সেটাকে বলে বডি ডিজমরফিয়া বা বডি ডিজমরফিক ডিজঅর্ডার (বিডিডি)।

এই রোগে মানুষ নিজের চেহারা বা শরীর নিয়ে এমন হীনম্মন্যতায় ভোগে, যা তার স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে। এখানে ব্যক্তি নিজের চেহারার একটি ছোট বা প্রায় অদৃশ্য বিষয়কে খুব বড় সমস্যা মনে করে।

সম্প্রতি অনেক সেলিব্রিটিই তাঁদের বিডিডির অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সামনে, যা এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সাহায্য করছে।

নিজের চেহারা ও শরীর নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা এত তীব্র হতে পারে যে—

আত্মবিশ্বাস কমে যায়

সামাজিক জীবন ব্যাহত হয়

কাজ বা পড়াশোনায় প্রভাব পড়ে

মানুষ আয়না, ছবি বা অন্যের মন্তব্য নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ে

নিজের চেহারা বা শরীর আয়নায় দেখতে চায় না, আবার অনেকে আয়নার সামনে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে, নিজের চেহারা বা শরীরের ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়ে ভাবতে থাকে

চেহারা বা শরীর দেখে অন্যে কী মনে করবে, এই চিন্তায় সামাজিক জীবন যাপন থেকে নিজেকে দূরে রাখে

সাধারণ লক্ষণ
১. চেহারা বা শরীর নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা

দিনের অনেকটা সময় কাটে নিজের চেহারার কথা ভাবতে ভাবতে। অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে করতে। নিজের আণুবিক্ষণিক ‘খুঁত’গুলো বড় করে দেখতে দেখতে। সেসব লুকানোর উপায় খুঁজতে খুঁজতে।

২. বারবার আয়না দেখা বা পুরো এড়িয়ে চলা

কেউ বারবার আয়না দেখে, আবার কেউ আয়না এড়িয়ে চলে। কারণ, দেখলেই অস্বস্তি হয় তাদের।

৩. ছবি তুলতে অস্বস্তি

অনেকেই ক্যামেরা এড়িয়ে চলে। ছবি এডিট করতে থাকে। নিজের ছবিতে কেবল ‘ত্রুটি’ দেখতে পায়।

৪. সামাজিক অস্বস্তি

মনে হতে পারে, ‘সবাই তাকাচ্ছে। সবাই বিচার (জাজ) করছে। বা মানুষ নিশ্চয়ই আমার চেহারা নিয়ে ভাবছে।’ ফলে অনেকেই ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেয়।

বডি ডিজমরফিয়ায় ভুগলে কেউ বারবার আয়না দেখে, আবার কেউ আয়না এড়িয়ে চলে
বডি ডিজমরফিয়ায় ভুগলে কেউ বারবার আয়না দেখে, আবার কেউ আয়না এড়িয়ে চলেছবি: পেক্সেলস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ফিল্টার্ড ছবি অনেক সময় অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ড তৈরি করে। মনে মনে নিয়মিত তুলনা করতে করতে মানুষ নিজের স্বাভাবিক চেহারাকেই ‘ভুল’ বা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ মনে করতে শুরু করতে পারে।

কেন হয় বিডিডি
এককভাবে সঠিক কারণ জানা না গেলেও কিছু বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।

ভুল প্যারেন্টিং বা স্কুলে বুলিং অথবা ছোটবেলার বা বড়বেলার কোনো ট্রমা থেকে নিজেকে নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগা।

আত্মসম্মান কম থাকা বা ব্যক্তিত্ব সঠিকভাবে বিকশিত হতে না পারা।

টক্সিক পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ।

নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে না পারা।

শিক্ষাঙ্গন বা কর্মক্ষেত্রে বডি শেমিংয়ের শিকার হওয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল পারফেকশনিজম, নিজেকে ‘চেহারা বা শরীরসর্বস্ব’ মনে করা।

উদ্বিগ্নতা, হতাশা বা অবসেসিভ চিন্তার প্রবণতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কমপারিজন কালচার।

কখন সাহায্য নেওয়া জরুরি
চেহারা বা শরীর নিয়ে চিন্তা যদি আপনার—

দৈনন্দিন জীবন নষ্ট করে

সম্পর্ক, কাজ বা পড়াশোনায় সমস্যা হয়

বাইরে যেতে ভয় লাগে

চেহারার ‘ত্রুটি’ ঢাকতে অতিরিক্ত কসমেটিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করতেই থাকেন

নিজের শরীর বা চেহারাকে ঘৃণা করেন বা এসব নিয়ে হতাশ লাগে

—তাহলে মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নিজেকে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য্য দিয়ে না দেখে দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক, মূল্যবোধ—এসবকে মূল্যায়ন করুন
নিজেকে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য্য দিয়ে না দেখে দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক, মূল্যবোধ—এসবকে মূল্যায়ন করুনছবি: পেক্সেলস
করণীয়
১. নিজের চিন্তাকে ‘সত্য’ ভাববেন না

আপনার মনে হওয়া প্রতিটি চিন্তাই সত্য নয়। বিডিডিতে মস্তিষ্ক অনেক সময় ত্রুটিকে বাস্তবের চেয়ে অনেক বড় করে দেখে।

২. তুলনা বন্ধ করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যকে দেখে নিজেকে বিচার করা বন্ধ করুন। যা দেখেন, তার সবটাই সত্য নয়। আর সত্য হলেও কী আসে যায়! আপনি আপনার মতো, সে তার মতো…এই তো!

৩. আপনি কেবল আপনার চেহারা বা শরীর নন

চেহারা ছাড়া নিজের পরিচয় তৈরি করুন। নিজেকে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য্য দিয়ে না দেখে দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক, মূল্যবোধ—এসবকে মূল্যায়ন করুন। কেননা এসব মিলেই সত্যিকারের ‘আপনি’। চেহারা, শরীর গৌণ।

৪. আপনি যেমন, নিজেকে তেমনভাবেই গ্রহণ করুন

সুন্দর-অসুন্দর মানুষের তৈরি একটা ধারণা। সমাজ ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য, বৈষম্য করার জন্য এমন ধারণা তৈরি করে। কিন্তু সত্যটা হলো, নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করাই সুন্দর। এটা আপনাকে শক্তিশালী আর আত্মবিশ্বাসী করে।

৫. বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলুন, প্রয়োজনে পেশাদারের সাহায্য নিন

নিজের অনুভূতি ভেতরে চেপে না রেখে বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করুন। থেরাপি, বিশেষ করে সিবিটি (কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি) বিডিডি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি আপনার চেহারা আর শরীরের চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে ও ভোগ

দাঁড়িয়ে পানি পান, অজান্তেই ডেকে আনছেন বিপদ 😰আমরা সবাই জানি যে, শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং সঠিকভাবে কাজ করতে পানি পান কতটা গু...
08/05/2026

দাঁড়িয়ে পানি পান, অজান্তেই ডেকে আনছেন বিপদ 😰

আমরা সবাই জানি যে, শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং সঠিকভাবে কাজ করতে পানি পান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কতটুকু পানি পান করছেন তা নয়, কীভাবে পানি পান করছেন—সেটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অনেকেই দাঁড়িয়ে পানি পান করার অভ্যাসে অভ্যস্ত, যা আদৌ সঠিক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডা. বিপুল রুস্তগি ,জেনারেল ফিজিশিয়ান, অ্যাপোলো স্পেক্ট্রা, দিল্লি জানিয়েছেন, দাঁড়িয়ে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় এবং এটি নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।

কেন দাঁড়িয়ে পানি পান করা ক্ষতিকর?
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীর ও টিস্যুগুলো একধরনের টানটান অবস্থায় থাকে। ফলে পানি দ্রুতগতিতে শরীরের ভেতর দিয়ে নেমে যায়, যা শরীরের তরল ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

দাঁড়িয়ে পানি পান করার সম্ভাব্য ক্ষতি

১. হজমে সমস্যা
দাঁড়িয়ে পানি পান করার ফলে পানি খুব দ্রুত খাদ্যনালির মাধ্যমে নিচে নেমে যায় এবং সরাসরি পাকস্থলীতে আঘাত করে। এতে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দ্রুত পানি পান করলে স্নায়ুতন্ত্রে চাপ পড়ে, যা শরীরে টক্সিন বাড়াতে এবং বদহজমের কারণ হতে পারে।

২. আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি
দাঁড়িয়ে পানি পান করার সময় স্নায়ুগুলো টানটান থাকে, ফলে শরীরের তরল ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এতে জয়েন্টে তরল জমতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

৩. ফুসফুসের ঝুঁকি
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পানি খুব দ্রুত শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ঠিকভাবে শোষিত হয় না এবং অক্সিজেনের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে, যা ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. কিডনির সমস্যা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বসে পানি পান করলে কিডনি ভালোভাবে পানি ছেঁকে নিতে পারে। কিন্তু দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পানি দ্রুত নিচে নেমে যায় এবং সঠিকভাবে ফিল্টার হয় না। এতে মূত্রথলিতে অশুদ্ধ পদার্থ জমে কিডনির ক্ষতি বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

-রাইজিংবিডি

কিছু মানুষ কেন সব সময় রেগে থাকেঅনেকেরই ছোট বিষয় নিয়ে রেগে যাওয়ার অভ্যাস আছে। মাঠে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে হয়তো কেউ একটা সহজ ক...
26/04/2026

কিছু মানুষ কেন সব সময় রেগে থাকে

অনেকেরই ছোট বিষয় নিয়ে রেগে যাওয়ার অভ্যাস আছে। মাঠে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে হয়তো কেউ একটা সহজ ক্যাচ মিস করেছে। ব্যস, দলের একজন এমনভাবে রেগে গেল, যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে! কিংবা রাস্তায় একটু জ্যামে পড়লেই কেউ একজন হর্ন বাজিয়ে, চিৎকার করে রীতিমতো তুলকালাম বাধিয়ে দিচ্ছে। তোমার চারপাশেই এমন কিছু মানুষ নিশ্চয়ই আছে, যারা পান থেকে চুন খসলেই রেগে আগুন হয়ে যায়।

তাদের দেখলে মনে হয়, তারা যেন একটা প্রেশার কুকার, ভেতরে শুধু ফুটন্ত রাগ টগবগ করছে! কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছ, কিছু মানুষ কেন সব সময় এত রেগে থাকে? এই রাগের পেছনে কি শুধুই তাদের খারাপ মেজাজ দায়ী, নাকি আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের ভেতরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো হিসাব? চলো, আজ এই রাগী মানুষদের মনের মধ্যে একটু ঢুঁ মারা যাক।

মনোবিজ্ঞানীরা রাগকে একটা আইসবার্গের সঙ্গে তুলনা করেন। টাইটানিক জাহাজ যে আইসবার্গের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল, তার কথা মনে আছে? আইসবার্গের শুধু চূড়াটাই পানির ওপরে ভাসতে দেখা যায়, কিন্তু এর আসল ও বিশাল অংশটা লুকিয়ে থাকে পানির নিচে।

নিউজিল্যান্ডবাসী কেন অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হচ্ছেন
রাগের ব্যাপারটাও ঠিক একই রকম। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ যখন অতিরিক্ত রাগ দেখায়, তখন আমরা শুধু তার রাগী চেহারাটাই দেখতে পাই। কিন্তু পানির নিচে, মানে, তার মনের গভীরে লুকিয়ে থাকে অন্য অনেক অনুভূতি। অনেক মানুষ অতিরিক্ত রাগ দেখায় কারণ তারা ভয়, হতাশা, ব্যর্থতা বা লজ্জার মতো অস্বস্তিকর অনুভূতিগুলোকে ঠিকমতো সামলাতে পারে না। তারা চায় চারপাশের পুরো দুনিয়াটা তাদের কথামতো চলুক। আর যখনই সেটা হয় না, তখন তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সবকিছুর জন্য অন্যকে দোষ দিতে শুরু করে এবং রেগে যায়। তবে সবাই যে শুধু এই কারণেই রেগে যায়, তা কিন্তু নয়। অনেকে আসলেই ভুল করে, এবং তার ভুলের কারণে অন্যরা রেগে যায়। সেই রাগের মধ্যে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর ব্যাপার নেই।

এবার একটুখানি বিজ্ঞানের সহায়তা নেওয়া যাক। আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরে অ্যামিগডালা নামে ছোট্ট আকৃতির একটা অংশ আছে। একে তুমি মস্তিষ্কের অ্যালার্ম বেল বলতে পারো। যখনই আমাদের কোনো বিপদ বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, অ্যামিগডালা সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বাজিয়ে দেয়। তখন শরীর থেকে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বের হতে থাকে। আমাদের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, পেশি শক্ত হয়ে ওঠে।

মস্তিষ্কের আরেকটি অংশ হলো প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। এটি আমাদের পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু যারা সব সময় রেগে থাকে, তাদের অ্যামিগডালা এত দ্রুত ও জোরালোভাবে কাজ করে যে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স কাজ করার সুযোগই পায় না!

পৃথিবীতে কত ধরনের ডাইনোসর ছিল
তবে শুধু যে মানসিক কারণেই মানুষ রেগে যায়, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় শরীরের কিছু জটিল রোগের কারণেও মানুষ খিটখিটে হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, থাইরয়েড গ্রন্থি যদি অতিরিক্ত কাজ করে, তবে মানুষের মেজাজ খুব খিটখিটে হয়ে যায় এবং দ্রুত রেগে যায়। এই রোগকে বলে হাইপারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড বা হাইপারথাইরয়ডিজম।

এ ছাড়া যাদের দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগ আছে, তাদের ভেতরেও রাগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা যখন হঠাৎ ওঠানামা করে, তখন তাদের মেজাজও খুব দ্রুত বিগড়ে যায়। বয়স্ক মানুষেরা যখন ডিমেনশিয়ায় ভোগেন, তখন তাঁরা অনেক কিছুই মনে রাখতে পারেন না। এই বিভ্রান্তি ও অসহায়ত্ব থেকেও তাঁরা অনেক সময় অতিরিক্ত রাগ দেখিয়ে ফেলেন।

আবার রেগে যাওয়ার কারণটা অনেক সময় শৈশবের কারণে হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এর একটি বড় কারণ হতে পারে মা–বাবার লালনপালনের ত্রুটি। অনেক পরিবারে শিশুদের শেখানো হয় না কীভাবে নিজের ও অন্যের আবেগের পরিবর্তনগুলো বুঝতে হয়। ফলে সেই শিশুরা যখন বড় হয়, তখন কোনো কঠিন পরিস্থিতি এলেই তারা কোনো উপায় না পেয়ে রেগে যায়।

তা ছাড়া অতীতের কোনো মানসিক আঘাত মানুষকে সারাক্ষণ একধরনের অজানা সতর্কতায় রাখে। তাদের মস্তিষ্ক চারপাশের সবকিছুকেই হুমকি বলে মনে করে। তাই একটু কিছু হলেই তারা আত্মরক্ষার জন্য রাগের আশ্রয় নেয়।

হাইওয়ের সাইনবোর্ডের রং সবুজ কেন
যে মানুষটা সব সময় রেগে থাকে, সে ভাবে রাগ দেখিয়ে সে চারপাশের সবাইকে শাসন করছে বা নিজের শক্তি দেখাচ্ছে। কিন্তু সত্যিটা হলো, এই রাগ আসলে তাকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। অতিরিক্ত রাগের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। বন্ধু বা প্রিয়জনেরা দূরে সরে যায় তো বটেই!

এখন ভাবতে পারো, রাগ কি তাহলে কমানো সম্ভব? রাগ কমানোর জন্য কোনো জাদুর কাঠি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের রাগকে চিনতে পারা। ঠিক কোন কথাটা শুনলে বা কী ধরনের ঘটনা ঘটলে তোমার রাগ উঠতে শুরু করে, সেই পয়েন্টগুলো খুঁজে বের করা।

যখনই বুঝবে রাগ উঠতে শুরু করেছে, তখন লম্বা করে শ্বাস নিয়ে মনে মনে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে পারো। এই সামান্য কয়েক সেকেন্ড সময় তোমার মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশটাকে জেগে ওঠার সুযোগ করে দেবে। তখন তুমি বুঝতে পারবে, চিৎকার করা বা জিনিসপত্র ভাঙচুর করা কোনো সমাধান নয়।

তাই তোমার সামনে কেউ অকারণে রেগে গেলে তাকে ভয় না পেয়ে বোঝার চেষ্টা করো। মানুষটার মনের ভেতর হয়তো অনেক না বলা কষ্ট বা শারীরিক কোনো সমস্যা লুকিয়ে আছে!

-কাজী আকাশ
সূত্র: হেলথলাইন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ ও বিবিসি সায়েন্স ফোকাস

হিট স্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয় 😥প্রচণ্ড গরমে ভয়াবহ এক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিট স্ট্রোক। যেকোনো বয়সের মানুষই এর শিকার হত...
23/04/2026

হিট স্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয় 😥

প্রচণ্ড গরমে ভয়াবহ এক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিট স্ট্রোক। যেকোনো বয়সের মানুষই এর শিকার হতে পারেন। তবে হুট করে কারও হিট স্ট্রোক হয় না। হিট স্ট্রোকের আগে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এসব উপসর্গ সম্পর্কে সবারই জেনে রাখা প্রয়োজন। হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করাও খুব কঠিন ব্যাপার নয়।

প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপমাত্রা যাতে ঠিক থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন
গরমের সময় আমাদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘাম হওয়া জরুরি। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা হলে ঘামার প্রক্রিয়াটি বাধা পায়। ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কাজটাও ঠিকভাবে হয় না। এ অবস্থায় দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে যায়, যা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হতে পারে।

তখন মস্তিষ্কসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেখা দেয় নানা উপসর্গ। এ অবস্থার নামই হিট স্ট্রোক। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তি এলোমেলো কথা বলতে পারেন। অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। তাঁর খিঁচুনি হতে পারে।

শরীর একেবারে ঘামহীন হয়ে যেতে পারে। হৃৎপিণ্ড অস্বাভাবিক ছন্দে স্পন্দিত হতে পারে। লিভার, কিডনি, মাংসপেশিসহ দেহের নানান অংশের ক্ষতি হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে এর কারণে মৃত্যুও হতে পারে।

হিট স্ট্রোক হওয়ার আগে
দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ যখন বাধা পাওয়া শুরু করে, তখনই বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময় এগুলোকে ছোটখাটো সমস্যা ভেবে অবহেলা করা হয়। এই যেমন, মাথাব্যথা কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তি।

গরমের কারণেই যে মাথাব্যথা হচ্ছে বা অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগছে, অনেকেই তা ভেবে দেখেন না। এ ধরনের উপসর্গকে তেমন গুরুত্ব দেন না কিংবা ধরে নেন এর পেছনে ঘুমের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণ আছে। আর এসব উপসর্গ নিয়েই কাজকর্ম চালিয়ে যান।

গরমে পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে
প্রচণ্ড গরমে শরীর অবসন্ন ও দুর্বল হয়ে পড়ে। গরমে অনেক সময় বমিভাব হয়। বমিও হয়। মাথা ঘোরায় বা ঝিমঝিম করে।

অনেক সময় মনে হয় মাথাটা হালকা হয়ে আসছে। কাজ চালিয়ে গেলেও তখন মনোযোগ থাকে না। অল্পতেই মেজাজ বিগড়ে যেতে থাকে।

পেট কামড়াতে পারে। পায়ের পেশিতে টান লাগতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম হয়। শরীর গরম হয়ে ওঠে। ত্বক লালচে দেখায়। হৃৎপিণ্ডের গতি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। শ্বাসপ্রশ্বাসের গতিও বাড়তে পারে।

মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে। প্রচণ্ড তৃষ্ণা লাগে। পানিশূন্যতার কারণে এমনটা হয়। তখন প্রস্রাবের রং গাঢ় হতে থাকে। একসময় প্রস্রাবের পরিমাণও কমে যায়।

এসব উপসর্গ দেখা দিলে
হিট স্ট্রোক একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা। হিট স্ট্রোকের আগের এসব উপসর্গকে তাই গুরুত্ব দিতে হবে। এসব দেখা গেলে দ্রুততম সময়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে।

কাজে বিরতি দিতে হবে। পানি খেতে হবে। তুলনামূলক ঠান্ডা স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে। মুখে, মাথায়, গলায়, ঘাড়ে পানি ছিটিয়ে নিতে হবে।

ছোট রিচার্জেবল ফ্যান সঙ্গে রাখতে পারেন গরমে
ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে নেওয়া যেতে পারে। বগল, গলা এবং কুঁচকিতে বরফ রাখলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয় সহজে। বরফ না পেলে ঠান্ডা পানিতে ভেজা কাপড় রাখতে চেষ্টা করুন।

শরীরে বাতাস দিতে হবে। হাতপাখা কিংবা রিচার্জেবল পাখা ব্যবহার করা যেতে পারে। সম্ভব হলে পোশাকের কিছু অংশ সরিয়ে নেওয়া উচিত। কিছু বোতাম খুলে দেওয়া যেতে পারে। আঁটসাঁট করে পিন আটকানো থাকলেও ভেতরে বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা করা উচিত।

অতিরিক্ত ঘাম হলে সামান্য লবণ মেশানো পানীয়, ওরস্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক খাওয়া উচিত। ডাবের পানিও কাজে দেবে সেই সময়
ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালান্স যাতে না ঘটে, তার জন্য কী করবেন
কাদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি
বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি এবং কমবয়সী শিশুদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কম থাকে। তাই তাঁদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে কমবয়সী কর্মঠ মানুষ অনেক সময়ই নিজের প্রতি খুব একটা যত্নশীল হন না। গরমে বাইরে কাজ করতে গিয়ে তাঁদেরও হিট স্ট্রোক হতে পারে।

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে সতর্কতা
গরমে বাইরে গেলে সানগ্লাস ও ছাতা সঙ্গে রাখুন
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে সবাইকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা যাতে ঠিক থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতা এড়াতে সচেষ্ট থাকুন। আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই জীবনধারা বেছে নিন।

পানি খাওয়ার জন্য তৃষ্ণা লাগা পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই। এমনিতেই মাঝেমধ্যে একটু করে পানি খেয়ে নিন। তবে গরমে চা-কফি কম খাবেন।

বাইরে গেলে সঙ্গে পানি ও ছাতা রাখুন। ছোট পাখাও রাখতে পারেন। মাঝেমধ্যে মুখে পানি ছিটিয়ে নেওয়া এবং ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ আর শরীর মোছা ভালো।

পানি বহনের জন্য প্লাস্টিকের বোতল নয়, থার্মোফ্লাস্ক বেছে নিন। এতে পানি ঠান্ডা এবং নিরাপদ থাকবে। পানির বোতলে পানি ভরার আগে কয়েক টুকরা বরফ রেখে নিলে ওই পানি লম্বা সময় পর্যন্ত ঠান্ডা থাকে।

গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলুন। এমন খাবার খাবেন, যাতে অনেকটা পানি আছে। রসালো ফল বেছে নিন। এমন সবজি খান, যেটির ভেতরটা সাদা। ঝোলজাতীয় পদ খান। পাতলা ডাল খাওয়া ভালো।

হালকা রঙের এমন পোশাক পরুন, যার ভেতর দিয়ে বাতাস যায়। রোদ ও উত্তপ্ত বাতাস থেকে বাঁচতে ফুলহাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরা ভালো।

প্রচণ্ড রোদের সময় ঘরে থাকতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজন ছাড়া ওই সময় বাইরে যাবেন না। ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে চলতে পারলে ভালো। শরীরচর্চার জন্য এমন সময় নির্ধারণ করুন, যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে।

শেষকথা
তীব্র আবহাওয়ায় শুধু নিজের না, পরিবারের সবার প্রতি খেয়াল রাখুন। শিশুরা যেন স্কুলে গিয়ে রোদে দৌড়ঝাঁপ না করে। কারও পানি খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলে চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন, গরমের সময় তিনি কতটা পানি খেতে পারবেন।

রিকশাচালক রোদে ঘাম ঝরান, গাড়িচালক গরম হয়ে ওঠা গাড়িতে বসে থাকেন। ফেরিওয়ালারা রোদে রোদে পণ্য নিয়ে ঘুরতে থাকেন। নিজ এলাকায় এমন মানুষদের জন্য খাওয়ার পানি এবং হাত-মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে পারেন।

পথের প্রাণীদের জন্যও পানির ব্যবস্থা করুন। বারান্দা ও ছাদে পাখিদের জন্য পানি রাখতে পারেন। আপনার বাড়ির ছায়ায় নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিক অসহায় কোনো প্রাণ।

পানির পাত্রগুলো পরিষ্কার করে তাতে নতুন করে পানি দেবেন রোজ। একটানা কয়েক দিন পানি জমে থাকতে দেবেন না। যেখানেই সুযোগ পান, গাছ লাগান। চারপাশে রাখা পানির উৎস এবং গাছের কারণে পরিবেশের তাপমাত্রা কিছুটা হলেও কমবে। হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে বাঁচবেন আপনি, আপনার প্রিয়জন।

ডা. মো. মতলেবুর রহমান
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক
বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল

ডা. সাইফ হোসেন খান
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,ঢাকা।

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের কিছু কার্যকারিতা কমতে শুরু করে। স্মৃতি হারানো, মনোযোগে দুর্বলতা, শেখার গতি ধীর হওয়া—...
21/04/2026

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের কিছু কার্যকারিতা কমতে শুরু করে। স্মৃতি হারানো, মনোযোগে দুর্বলতা, শেখার গতি ধীর হওয়া—এসব চল্লিশের পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। কিন্তু গবেষণা বলে, সঠিক অভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে তরতাজা রাখা সম্ভব।

১. মগজের ব্যায়াম
পাজল, শব্দ খেলা, মেমোরি গেম, নতুন দক্ষতা শেখা—এসব মস্তিষ্ককে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ফলে নিউরোলজিক্যাল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হয়। যেমন দাবা খেলা মস্তিষ্কের জন্য খুব ভালো ব্যায়াম।

২. শারীরিক ব্যায়াম
হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং—কার্ডিও কার্যকলাপ মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা উন্নত করে।

৩. স্বাস্থ্যকর খাবার
ফল, সবজি, বাদাম, ওমেগা-৩–সমৃদ্ধ খাবার—এসব মস্তিষ্ককে পুষ্টি জোগায়, প্রদাহ কমায়।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম
গভীর ঘুমে মস্তিষ্ক বর্জ্য পদার্থ (অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি, ক্ষতিকর প্রোটিন) বের করে দেয়। স্মৃতি সুন্দরভাবে গুছিয়ে সংরক্ষণে সাহায্য করে।

৫. সামাজিক জীবন
বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সময় মানসিক চাপ কমায়। মস্তিষ্কের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখে।

৬. স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ
ধ্যান, শ্বাস-ব্যায়াম বা রিল্যাক্সেশন মেথড মেজর স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখে।

৭. নতুন কিছু শেখা
নতুন ভাষা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ইউটিউব দেখে নতুন কোনো রান্না বা প্রযুক্তি শেখা মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল সংযোগ তৈরি করে, যা স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।

৮. রুটিনে বৈচিত্র্য আনা
প্রতিটি দিন যাতে একই রকম একঘেয়ে না হয়ে যায়, সে জন্য সেখানে বৈচিত্র্য আনুন। রং যোগ করুন। যেমন হতে পারে নতুন পথে হাঁটা, ভিন্ন হাতে কাজ করা বা নতুন জায়গায় যাওয়া। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। মাঝেমধ্যে বাজার থেকে ক্যানভাস আর রংতুলি এনে পেইন্টিং করাও শুরু করে দিতে পারেন। এতে আক্ষরিক অর্থেই আপনার দিনে যুক্ত হবে নতুন রং। এসবে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।

৯. দীর্ঘ সময় শুয়ে–বসে না থাকা
একটানা বসে থাকা মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন কমায়। প্রতি ৩০–৬০ মিনিট পর উঠে ১০–১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে উপকার পাওয়া যায়।

১০. পর্যাপ্ত পানি খাওয়া
ডিহাইড্রেশন মনোযোগ কমায়, ক্লান্তি ও বিভ্রান্তি বাড়ায়। দিনে পর্যাপ্ত পানি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

১১. শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির যত্ন
কানে কম শোনা বা চোখে কম দেখা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক চাপ বাড়ায়। মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রয়োজনে চশমা বা হিয়ারিং এইড ব্যবহার করুন।

১২. মাছ, গাছ বা পোষা প্রাণীর যত্ন
মানুষ বাদে যেসব প্রাণীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ুন। গাছ, মাছ বা পোষা প্রাণীর যত্ন নিন। প্রতিদিন একটু একটু করে ডায়েরি লিখতে পারেন। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আপনার সেই স্মৃতিকথাই হতে পারে অমূল্য সম্পদ। যেকোনো একটা আনন্দদায়ক শখকে রাখুন নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে। মানসিকভাবে ফুরফুরে থাকুন।
আরও যা
দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা বা নেতিবাচক চিন্তা স্মৃতি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলে। কৃতজ্ঞতা চর্চা, প্রার্থনা ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এ ছাড়া বয়সের ক্যালেন্ডারে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানোর সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও থাইরয়েড সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

সকালের যে ৫ অভ্যাস বাদ দিলে আপনি আরও কর্মক্ষম হয়ে উঠবেনঅনেকে মনে করেন, ব্যস্ত থাকা মানেই উৎপাদনশীল হওয়া; যত দ্রুত দিন শু...
16/04/2026

সকালের যে ৫ অভ্যাস বাদ দিলে আপনি আরও কর্মক্ষম হয়ে উঠবেন

অনেকে মনে করেন, ব্যস্ত থাকা মানেই উৎপাদনশীল হওয়া; যত দ্রুত দিন শুরু করব, তত বেশি কাজ করতে পারব। কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্ক কোনো মেশিন নয় যে তাকে সারাক্ষণ চাপ দিলেই সে ভালো কাজ করবে। মস্তিষ্ক একটি জীবন্ত অঙ্গ, যার বিশ্রাম, ধীর শুরু এবং মনোযোগ ধরে রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট ছন্দ প্রয়োজন।

আমরা অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নিয়ে মুঠোফোনের নোটিফিকেশন দেখি, খবর পড়ি, তাড়াহুড়া করে নাশতা সারি, তারপর অফিস, ক্লাস বা কাজের চিন্তা শুরু করি। দিন শুরু হওয়ার আগেই মাথার ভেতর যেন একটি অদৃশ্য দৌড় শুরু হয়ে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফোন, তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়া আর চাপের কারণে অনেক মানুষ সকাল ৯টার মধ্যেই তাঁদের মানসিক শক্তির বড় একটি অংশ খরচ করে ফেলেন। ফলে দিনের বাকি সময়টা তাঁর ক্লান্তিতে কাটে। যাঁদের ওপর গবেষণা হয়েছে, তাঁরা এই বিষয়গুলো জানার পর অনেকেই সকালবেলার কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করেছেন। চলুন, জেনে নিই সকালের কোন পাঁচটি অভ্যাস আমাদের ত্যাগ করা উচিত।

১. ‘ডোপামিন বুফে’

আজকাল সবারই সকালটা শুরু হয় মুঠোফোন হাতে নিয়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নোটিফিকেশন, খবরের শিরোনাম, সামাজিক মাধ্যমের লাইক-কমেন্ট—সব মিলিয়ে আমরা একধরনের ‘ডোপামিন বুফে’তে ডুবে যাই। ডোপামিন বুফে বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে আমরা একসঙ্গে অনেক ছোট ছোট আনন্দদায়ক কাজ করি, যেগুলো আমাদের মস্তিষ্কে বারবার ডোপামিন নিঃসরণ ঘটায়।
কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার সময় মস্তিষ্ক আসলে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। গভীর ঘুমের ডেলটা ও থিটা তরঙ্গ থেকে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে আলফা তরঙ্গে প্রবেশ করে। এটি একটি শান্ত, স্বচ্ছ ও সৃজনশীল মানসিক অবস্থা। অনেক সময় নতুন আইডিয়া, সমস্যার সমাধান বা পরিষ্কার চিন্তা এই সময়েই আসে। একে অনেকেই ‘আলফা ব্রিজ’ বলেন। আলফা ব্রিজ হলো ঘুম ও জাগরণের মাঝখানের সৃজনশীল সেতু। সমস্যা হলো, আমরা যখন ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখি, তখন এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি ভেঙে যায়। মস্তিষ্ক হঠাৎ করে তথ্য, শব্দ, প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার মধ্যে পড়ে যায়। তখন মস্তিষ্ক শান্ত আলফা অবস্থা থেকে সরাসরি হাই-বেটা অবস্থায় চলে যায়। এই হাই-বেটা অবস্থা চাপ, উদ্বেগ ও তাড়াহুড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে নোটিফিকেশন সামলাতে গিয়ে একসঙ্গে অনেক কিছু করার চেষ্টা করলে সাময়িকভাবে মানুষের আইকিউ কমে যেতে পারে, যা এক রাত না ঘুমানোর মতো প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ দিনের শুরুতেই আমরা আমাদের মনোযোগের শক্তি কমিয়ে ফেলি।
আরও বড় সমস্যা হলো, দিনের শুরুতেই আমরা নিজের পরিকল্পনা দিয়ে দিন শুরু করি না, অন্যের চাহিদা দিয়ে শুরু করি। এ জন্য অনেকেই এখন দিনের প্রথম এক ঘণ্টা ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল থেকে দূরে থাকেন। একে অনেকে ‘৬০ মিনিট বাফার’ বলেন। এ সময় মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে জেগে ওঠে, চিন্তা পরিষ্কার হয়, মন শান্ত থাকে।

২. ঘুম থেকে উঠেই কফি
অনেকের সকালটা শুরু হয় কফি দিয়ে। অনেকের বিশ্বাস, ক্যাফেইন ছাড়া শরীর চালু হয় না। কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞান ও ঘুমবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, ঘুম থেকে উঠেই কফি খাওয়া আসলে শরীরের স্বাভাবিক জাগ্রত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে স্বাভাবিকভাবে কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত হয়, যাকে অনেক সময় ‘অ্যালার্টনেস হরমোন’ বলে। এই কর্টিসলই আমাদের ঘুম ভাঙাতে, শরীরকে সক্রিয় এবং মনকে সতর্ক করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ শরীরের নিজস্ব একটি প্রাকৃতিক অ্যালার্ম সিস্টেম আছে।
এ সময় যদি আমরা কফি খাই, তাহলে ক্যাফেইন শরীরের এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে। ক্যাফেইন মূলত অ্যাডেনোসিন নামের একটি রাসায়নিকের কাজ বন্ধ করে দেয়। এই অ্যাডেনোসিনই আমাদের ক্লান্তির সংকেত দেয়। কিন্তু খুব সকালে ক্যাফেইন খেলে ক্লান্তি দূর হয় না, বরং শুধু কিছু সময়ের জন্য চাপা পড়ে থাকে। কিছুক্ষণ পরে যখন ক্যাফেইনের প্রভাব কমে যায়, তখন জমে থাকা ক্লান্তি একসঙ্গে ফিরে আসে। অনেকেরই দুপুরে হঠাৎ ক্লান্তি লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে, সেটার একটি বড় কারণ এই খুব সকালে কফি খাওয়া।
এ কারণে বিশেষজ্ঞরা এখন পরামর্শ দেন যে ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ৬০ থেকে ৯০ মিনিট পরে প্রথম কফি খাওয়া ভালো। এতে শরীরের স্বাভাবিক কর্টিসল চক্র ঠিকভাবে কাজ করতে পারে, শক্তি ধীরে ধীরে বাড়ে এবং দিনের মাঝামাঝি হঠাৎ ক্লান্তি নেমে আসে না।
৩. সকালের শুরুতেই কঠিন কাজ
একটি জনপ্রিয় ধারণা আছে, ‘ইট দ্য ফ্রগ’, অর্থাৎ দিনের শুরুতেই সবচেয়ে কঠিন কাজটা আগে শেষ করলে বাকি দিন সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু মস্তিষ্ক যেভাবে কাজ করে, বাস্তবতা সব সময় এত সরল নয়।
সময় সরলরেখায় চলে, কিন্তু শক্তি চক্রাকারে চলে। সকাল ৮টার সময় আপনার যে মানসিক শক্তি থাকবে, বেলা ২টার সময় সেটা থাকবে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের প্রথম সময়টায় মস্তিষ্ক বিশ্লেষণধর্মী বা চাপপূর্ণ কাজের জন্য নয়, বরং সৃজনশীল চিন্তা, নতুন আইডিয়া, পরিকল্পনা এবং সমস্যার নতুন সমাধান ভাবার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এ সময় মাথা তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে, বাইরের চাপ কম থাকে, অবচেতন মনও তখন সক্রিয় থাকে। কিন্তু আমরা যদি দিন শুরু করি কঠিন কোনো কাজ বা হিসাব, সমস্যা, ঝামেলার কাজ দিয়ে, তবে মস্তিষ্কের ওপর শুরুতেই একধরনের মানসিক সংঘর্ষ বা ‘কগনিটিভ ফ্রিকশন’ তৈরি হয়। এতে মন দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং দিনের বাকি সময় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্যই অনেকে দিনের প্রথম ২০ থেকে ৩০ মিনিট একটু ধীরে শুরু করেন। কেউ লেখালেখি করেন, কেউ ধ্যান করেন, কেউ দিনের পরিকল্পনা করেন যে আজ কী গুরুত্বপূর্ণ, কী করলে সত্যিই অগ্রগতি হবে।

৪. স্নুজ বাটন চাপা
সকালে মুঠোফোনে অ্যালার্ম বাজার পর অনেকেই চোখ বন্ধ রেখেই বলি—‘আর ৫ মিনিট বা ১০ মিনিট ঘুমাই।’ মনে করি, এতে শরীরটা আরও সতেজ হবে। কিন্তু বাস্তবে এই ছোট্ট অভ্যাসটিই দিনের শুরুটাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
স্নুজ বাটন চাপার পর আমরা আবার হালকা ঘুমে ঢুকে পড়ি। এতে শরীর নতুন একটি ঘুমের চক্র শুরু করতে চায়, যার স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ মিনিট। কিন্তু আমরা সেই চক্র সম্পূর্ণ করার আগেই আবার অ্যালার্মে জেগে উঠি। ফলে আগের চেয়েও গভীর ঘুমের স্তর থেকে হঠাৎ জেগে উঠতে হয়। এ অবস্থাটাকেই বলা হয় ‘স্লিপ ইনর্শিয়া (নিদ্রাজড়তা)’। স্লিপ ইনর্শিয়া হলো একধরনের ভারী ঝিমুনি, মাথা ঝাপসা ভাব, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়া, কাজের গতি কমে যাওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রভাব কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। অর্থাৎ দিনের শুরুতেই মস্তিষ্ক যেন পুরোপুরি জেগে উঠতে পারে না। ফলে আমরা ভাবি, আমরা একটু বেশি বিশ্রাম নিয়েছি, কিন্তু আসলে উল্টো—আমরা মস্তিষ্ককে আরও বিভ্রান্ত করে ফেলেছি।
এ জন্য অনেকেই এখন ‘ওয়ান-টাচ রুল’ মেনে চলেন। অর্থাৎ অ্যালার্ম বাজলে একবারেই উঠে পড়া। যদি স্নুজ বাটনে হাত দেওয়ার মতো জেগে থাকি, তাহলে বিছানা ছাড়ার মতোও জেগে আছি—এই মানসিকতাই ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। সকালের শুরুটা যদি স্থিরভাবে করা যায়, তাহলে সারা দিনের শক্তি ও মনোযোগও অনেকটাই বদলে যেতে পারে।

৫. ‘তরল চিনি’র ফাঁদ
সাধারণত ব্রেড টোস্ট, সিরিয়াল বা কমলার জুসকে বলা হয় ‘সুষম নাশতা’। কিন্তু সকালে ব্রেন ফগ তৈরি করতে পারে এগুলো। আপনি যখন খালি পেটে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও তরল চিনি খাবেন, তখন রক্তে গ্লুকোজের বড় ধরনের উত্থান ঘটে। এই চিনি সরিয়ে ফেলতে আপনার শরীর সমপরিমাণ ইনসুলিন নিঃসরণ করে।
যেহেতু মস্তিষ্ক শরীরের মোট শক্তির প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহার করে, তাই রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা এটি খুব দ্রুত অনুভব করে। রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে গেলে অর্থাৎ ‘সুগার ক্র্যাশ’ করলে আপনার মস্তিষ্ক আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এই ‘হাইপোগ্লাইসেমিক স্ট্রেস’ তখন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণ বাড়ায়, যাতে শরীর দ্রুত আরও জ্বালানি খুঁজে পায়। এর ফলে বিরক্তি, অস্থিরতা এবং মাথায় একধরনের ঝাপসা ভাব তৈরি হয়। এ রকমটা হলে একটি চিন্তাও ঠিকভাবে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থাকেই ব্রেন ফগ বলে।
এ কারণে এখন সকালে প্রোটিন ও ভালো ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার কথা বলা হয়—যেমন ডিম ও অ্যাভোকাডো। কারণ, রক্তে শর্করা যত স্থিতিশীল থাকবে, ততই মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল করটেক্স ভালোভাবে কাজ করবে।
শেষ কথা
আমরা অনেক সময় মনে করি, সকালে যত তাড়াতাড়ি এবং যত বেশি কাজ শুরু করা যায়, ততই আমরা এগিয়ে থাকব। কিন্তু বাস্তবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো—মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে জাগিয়ে তোলা।

-ওয়েবএমডি

পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে কতটুকু ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেন 🤔মসুর ডাল, ছোলা, শিম ও মটর ডাল—সবই ডালজাতীয় শস্য। এসব যেমন দামে...
12/04/2026

পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে কতটুকু ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেন 🤔

মসুর ডাল, ছোলা, শিম ও মটর ডাল—সবই ডালজাতীয় শস্য। এসব যেমন দামে অপেক্ষাকৃত সস্তা, তেমনি বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর। তিন টেবিল চামচ ডালে ৯ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যায়, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদার প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। ডাল সবচেয়ে বেশি আঁশযুক্ত খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাত্র তিন টেবিল চামচ ডাল দৈনিক আঁশের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে।
প্রতিদিন অন্তত আধা কাপ ডালজাতীয় শস্য খেলে শরীরে ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফোলেট, জিংক, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়াম বেশি থাকে। বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে কে কতটুকু খাবার খাবেন। পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা দুই হাজার ক্যালরির খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে প্রতি সপ্তাহে দেড় কাপ শিম, মটর বা মসুর ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেন।

কাদের জন্য ডাল ভালো
সিলিয়াক রোগী: ডালজাতীয় শস্যে কোনো গ্লুটেন থাকে না। তাই সিলিয়াক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা রান্নার উপকরণ হিসেবে ছোলা, মসুর ডাল বা মটরশুঁটি ব্যবহার করতে পারেন।

ডায়াবেটিক রোগী: ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে মসুর ডাল, মটরশুঁটি ও শিমজাতীয় খাবার গ্রহণ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। অন্যান্য কিছু শর্করাজাতীয় খাবারের তুলনায় ডালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডালজাতীয় খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা আরও স্থিতিশীল থাকতে পারে।

ভেজিটেরিয়ান বা নিরামিষাশী: ডাল প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের (বিশেষ করে আয়রন ও জিংক) ভালো উৎস। এতে আটটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। ভাতের সঙ্গে ডাল খেলে শারীরিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের সম্পূর্ণ জোগান পাওয়া যায়।

ওজন, কোলেস্টেরল ও প্রেশার নিয়ন্ত্রণ: ডালজাতীয় খাবারে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন, কম চর্বি এবং মাঝারি পরিমাণ ক্যালোরি থাকে। এক কাপ রান্না করা মসুর ডাল বা শুকনো মটরে প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ফাইবার চাহিদার প্রায় অর্ধেক থাকে। যেসব খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে, সেগুলো সাধারণত খাওয়ার সময় পেট ভরা বা তৃপ্ত বোধ করতে সাহায্য করে। ফলে কোলেস্টেরল, ওজন ও প্রেশার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

গর্ভবতী নারী ও শিশু–কিশোর: ডালে আয়রন, জিংক, ফোলেট রয়েছে, যা গর্ভবতী নারী, কিশোর–কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা দূরে সাহায্য করে।

হাড় মজবুত করতে: ডালে রয়েছে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম, যা হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করবে।

কাদের জন্য ভালো নয়
যাঁদের আইবিএস–ডি, রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি, কিডনিজনিত সমস্যা ও বাতব্যথাজনিত সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য ডাল খাওয়ায় সমস্যা হতে পারে।

-লিনা আকতার, পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

কফিতে কি আসলেই কোলেস্টেরল থাকেসকালটা অনেকেরই এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি দিয়ে শুরু হয়। কাজের ফাঁকে, আড্ডায় কিংবা পড়াশোনার স...
10/04/2026

কফিতে কি আসলেই কোলেস্টেরল থাকে
সকালটা অনেকেরই এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি দিয়ে শুরু হয়। কাজের ফাঁকে, আড্ডায় কিংবা পড়াশোনার সময়—কফি যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কফি কি কোলেস্টেরল বাড়ায়? স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েব এমডি-এর এক প্রতিবেদনে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ডা. সাইফ হোসেন খান
সহকারী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি

প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন যে কফিতে সরাসরি কোলেস্টেরল নেই। অর্থাৎ কফি নিজে কোলেস্টেরল বহন করে না। তবে কফির ভেতরে থাকা কিছু প্রাকৃতিক তেলজাতীয় উপাদান শরীরে ‘ক্ষতিকর’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল–এর মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এই উপাদান দুটির নাম হলো ক্যাফেস্টল ও কাহওয়েওল। এগুলো মূলত কফি বিনের তেলে থাকে এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কফি বানালে পানীয়ের সঙ্গে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।

এখানেই আসে কফি তৈরির পদ্ধতির প্রসঙ্গ। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কফি ফিল্টার ছাড়া তৈরি করা হয়—যেমন ফ্রেঞ্চ প্রেস, তুর্কি কফি বা সেদ্ধ কফি—সেগুলোতে ক্যাফেস্টল ও কাহওয়েওলের পরিমাণে বেশি থাকে। ফলে নিয়মিত ও অতিরিক্ত পরিমাণে এসব কফি পান করলে এলডিএল কোলেস্টেরল কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে পেপার ফিল্টার ব্যবহার করে বানানো কফি (যেমন ড্রিপ কফি) এই তেলজাতীয় উপাদানগুলোর বেশির ভাগই আটকে দেয়। ফলে ফিল্টার করা কফি কোলেস্টেরলের ওপর খুব সামান্য বা প্রায় কোনো প্রভাবই ফেলে না। তাই কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তিত হলে কফি সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে বরং বানানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।

তবে শুধু কফি নয়, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবনযাপন প্রণালি। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, অনিয়মিত জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব—এসবই কোলেস্টেরল বৃদ্ধির বড় কারণ। সেই তুলনায়, পরিমিত পরিমাণে কফি (প্রতিদিন ২ থেকে ৪ কাপ) অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে না বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার—কফির সঙ্গে আমরা কী যোগ করছি? অতিরিক্ত চিনি, ক্রিম বা ফ্লেভার সিরাপ যোগ করলে পানীয়টির ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়, যা দীর্ঘ মেয়াদে হৃৎস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সবশেষে বলা যায়, কফি একেবারে ‘ভিলেন’ নয়। বরং সঠিক উপায়ে ও পরিমিত মাত্রায় পান করলে এটি সতেজতা বাড়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস হিসেবেও কাজ করে। কোলেস্টেরল নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে ফিল্টার করা কফি বেছে নিন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00

Telephone

+8801717983697

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nature Version 3.0 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Nature Version 3.0:

Share