24/08/2026
আজ সৌদিতে অবস্থানরত এক বাঙালি ভাইয়ের রুকইয়াহ সেশন করলাম,যে ভাইয়ের ফ্যামিলি দীর্ঘদিন ধরে যাদুতে আক্রান্ত, ওই ভাই নিজেও জাদুগ্রস্থ!
কিন্তু উনি কখনো নিজে রুকইয়াহর শরণাপন্ন হচ্ছিলেন না,এদিকে حديث السبعين শোনার পর থেকে আরও নিরুৎসাহিত হয়ে যান!
কিন্তু ইদানিং উনি প্রচন্ড অসুস্থ!
তাই তিনি حديث السبعين এর কৌতুহল নিয়ে একটু জানতে চাচ্ছিলেন, উনাকে বিষয়টা বুঝানোর পর উনি আজ রুকইয়াহর শরণাপন্ন হন!
ঐ ভাইকে حديث السبعين এর ব্যাপারে সালাফদের কিছু توضيح এর কথা তুলে ধরলে ঐ ভাই বিষয়টা বুঝেন এবং রুকইয়াহর শরণাপন্ন হন!
আর حديث السبعين এর কিছু কিছু রেওয়ায়েতে এসেছে!
الذين يدخلون الجنة بغير حساب. هم الذين لا يرقون ولا يسترقون.
ঐ সমস্ত লোক যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে,তাদের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা রুকইয়াহ নিজেরা করেনা, এবং কারো শরণাপন্ন হয় না!
এই হাদিসের توضيح ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আরবের বিখ্যাত শায়েখ বিন বাজ রহি: বলেন,
١.وضح الشيخ ابن باز رحمه الله أن المراد بـ «لا يسترقون» (وفي بعض الروايات «لا يرقون» وهي مغلوطة عند بعض الروااة والصحيح «لا يسترقون» أو «ولا يكتوون») هو ترك طلب الرقية من الآخرين كمالاً في التوكل على الله والاستغناء عن الناس، وليس تحريماً للرقية أو التداوي، فقد أذن النبي ﷺ فيها عند الحاجة.
উক্ত হাদিসের ব্যাখায় বিন বাজ রহি: বলেন, এই হাদিসে মূল ইবারত হবে ( لايسترقون যারা রুকইয়াহর শরণাপন্ন হয় না), আর যে রেওয়ায়েতগুলোতে (لا يرقون যারা রুকইয়াহ করেনা) এর কথা আছে সেটা ভুল বিজ্ঞ রাবিদের কাছে!
আর استرقاء এর অর্থ হল, অন্য মানুষ থেকে রুকইয়াহ তলব করা ছেড়ে দেওয়া,আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করে! প্রয়োজনের সময় রুকইয়াহ বা অন্য কোন চিকিৎসা গ্রহণ করা এটা হারাম নয়, নবী সা:এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছেন প্রয়োজনাথে!এ বিষয়ে দলিল আদিললাহগুলো ভরপূর হাদিসের কিতাবগুলোতে!
এই হাদিসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একই বক্তব্য ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহরও!
٢.فمدح هؤلاء بانهم لا يسترقون اي لا يطلبون من احد ان يرقيهم والرقية من جنس الدعاء فلا يطلبون من احد ذالك وقد روي فيه ولا يرقون"وهو غلط فان رقياهم لغيرهم ولانفسهم حسنة.
(مجموع الفتاوي ج١/ص ١٨٢)
এই হাদিসের توضيح ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনে আবদিলবার রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
٣.المدح في ترك الرقي المراد بها الرقي التي هي من كلام الكفار والرقية المجهولة وما لا يعرف معناها. فهي مذمومة لاحتمال ان معناها كفر او قريب منه او مكروه.
واما الرقي بايات القرءان وبالاذكار المعروفة فلا نهي فيه بل هو سنة.
উক্ত হাদিসে যে রুকইয়াহর প্রতি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে সেটা হচ্ছে ওই রুকইয়াহ, যেটা হচ্ছে কুফফারদের কালাম থেকে হয়, আর অস্পষ্ট রুকইয়াহ যার مفهوم বুঝে আসে না!
সেটা নিন্দনীয় এই কারণে যে তার অর্থ কুফুরি বা এর কাছাকাছি!
পক্ষান্তরে ওই রুকইয়াহ যেটা কুরআন এবং হাদিসে নববীতে বর্ণিত আজকার ইত্যাদির মাধ্যমে হয়, তাতে কোন নিষেধাঙ্গা নেই বরং সেটা সুন্নাহ!