23/05/2026
রুকইয়াহ পেপার ভিজিয়ে পানি খাওয়া সম্পর্কে শায়েখ সালেহ আল মুনাজ্জিদের ফতোয়াহ
কুরআন বা রুকইয়াহর আয়াত লেখা কাগজ পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি পান করা সম্পর্কে সমসাময়িক আলেমদের, বিশেষ করে শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ (যিনি IslamQA.info-এর মাধ্যমে ফতোয়া প্রদান করেন) মতামতের আলোকে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
মূল ফতোয়া ও মতবাদ
শাইখ আল-মুনাজ্জিদ এবং অন্যান্য অনেক সালাফি ও ফিকহবিদদের মতে, কুরআন লিখিত কাগজ পানিতে ভিজিয়ে পানি পান করা জায়েজ। এটি রুকইয়াহ শারইয়্যাহ-র (শরীয়তসম্মত ঝাড়ফুঁক) একটি অংশ হিসেবে গণ্য হয়, যদি তা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে করা হয়।
শর্তসমূহ
রুকইয়াহ পেপার বা কুরআন লিখিত কাগজ পানিতে ভিজিয়ে পান করার জন্য নিচের শর্তগুলো পূরণ করা জরুরি:
কাগজ ও কালির পবিত্রতা: যে কাগজ ও কালি ব্যবহার করা হচ্ছে তা অবশ্যই পবিত্র ও ভোজ্য (edible) বা অনিষ্টকর নয় এমন হতে হবে।
লিখিত বিষয়: শুধু কুরআন, হাদীস বা আল্লাহর নাম লিখতে হবে।
কাগজের ধ্বংস: কাগজটি যেন এমন না হয় যা ড্রেনে বা নোংরা স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, বরং তা পানির সাথে মিশে যেতে হবে বা সম্মানজনকভাবে অপসারণ করতে হবে।
আকীদাগত সতর্কতা: এই পানির মাধ্যমে আরোগ্য পাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই আল্লাহ্র পক্ষ থেকে—এমন বিশ্বাস রাখতে হবে।
ঐতিহাসিক দলিল ও পূর্বসূরিদের মত
ইবনে কাইয়িম (র.) উল্লেখ করেছেন যে, অনেক সালাফ (পূর্বসূরি আলেমগণ) অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কুরআন লিখে তা পানি দিয়ে ধুয়ে পান করানো জায়েজ মনে করতেন।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি প্রসব বেদনায় কষ্ট পাওয়া নারীর জন্য কুরআনের আয়াত লিখে তা পানিতে ধুয়ে পান করানোর নির্দেশ দিতেন।
শাইখ ইবনে উসাইমীন (র.) বলেন, কুরআনের আয়াত লিখে তা পানিতে ধুয়ে পান করানো জায়েজ।
সতর্কতা
রুকইয়াহর মূল পদ্ধতি হলো কুরআনের আয়াত পাঠ করে ফুঁ দেওয়া। লিখিত কাগজ ভিজিয়ে পানি খাওয়ার চেয়ে সরাসরি কুরআনের আয়াত বা দোয়া পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা পান করা বেশি উত্তম ও সুন্নাহসম্মত।
সংক্ষেপে: কাগজ ভিজিয়ে পানি পান করা জায়েজ, যদি তা পরিষ্কার কাগজের ওপর হয় এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে আরোগ্যের নিয়তে করা হয়।