04/05/2026
আমার ইণ্টার্ণ লাইফের সবচেয়ে প্যাথেটিক বিষয় হলো "বাথরুমে" গিয়ে রোগী মারা যাওয়া।
এই ঘটনা একবার না,বেশ কয়েকবার ঘটেছে।
দেখা গেছে একটা ভালো রোগী কথাবার্তা বলেছে,স্ট্যাবল।
কিন্ত বাথরুমে গিয়ে ঘুরে পড়ে মারা গেছে। অথবা বাথরুম থেকে এসে বলতেছে আমার অস্থির অস্থির লাগছে, চিটাগাংয়ের ভাষায় "সইট" করতেছে।
দেখা যায় কিছুক্ষণ পরেই রোগী Expired করেছে। ECG একদম সোজা দাগ।
এই ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয় হার্ট অ্যাটাক( MI) এর রোগীদের ক্ষেত্রে। দেখা যায় বাথরুমে গিয়ে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে চলে যায়। সেখানেই ডেথ।
তাই যেকোন হার্ট অ্যাটাকের ( STEMI) রোগীকে আমরা প্রথম পরামর্শ দিই,
১। আপনি বাথরুমে যাবেন না, বিছানার পাশে বোতলে প্রশাব করবেন। পায়খানা কষা হলে আমাদের বলবেন।
২। আপনি সম্পূর্ণ বিছানায় শুয়ে বসে কাটাবেন। কোন প্রকার হালকা ও ভারী কাজ থেকে বিরত রাখবেন।
কিন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী এসকল কথা কানেই নেয় না। বড্ড ঘুরা ফেরা করে বেড়ায়,পাঁচ তলায় সিঁড়ি দিয়ে দিব্যি উঠানামা করতে থাকে,বিয়ের দাওয়াত খেতে চলে যায়।
সেদিন একটা হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে আসছে, ওকে বলা হলো বিছানায় রেস্ট করতে । কিন্ত সে কি করছে পাঁচতলায় সিঁড়ি দিয়ে নেমে নিজের ঔষধ নিজেই আনতে গিয়েছে।
এবং দূর্ভাগ্যক্রমে ঔষধের দোকানে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে Expired করেছে। ইমার্জেন্সীতে এনে CPR দিয়েও কোন কাজ হয় নি।
এই ধরনের মৃত্যু দেখতে দেখতে ক্লান্ত। রোগীরা প্রথমত কোন কথা বিশ্বাস করতে চায় না,দ্বিতীয় কথা কোন নিয়ম মানতে চায় না।
একটা রোগী দেখি খুব সিরিয়াসলি কথাটা শুনেছে। এবং শুনার কারণ সে ফেসবুকে এরকম একটা ভিডিও দেখেছে।
তারমানে ফেসবুক কে বিশ্বাস করবে,কিন্ত আমাদের বিশ্বাস করবে না।তাই ভাবলাম,আমরাও তাহলে ফেসবুকে লিখা শুরু করি। যদি একজন মানুষ বেশি সচেতন হয়।
আপনার যাদের বাসায় হার্ট অ্যাটাকের প্যাশেন্ট আছে,
১। রুমের পাশে বাথরুম রাখার চেষ্টা করবেন।হাই-কমেড হলে সবচেয়ে ভালো।
২। বাথরুম যেন পিচ্ছিল না হয়,বাথরুমের দরজায় সিটকিনি বন্ধ না করলে ভালো ।যাতে কোন অসুবিধা হলে দ্রুত উদ্ধার করা যায়।
৩। সকালে ঘুম থেকে উঠার প্রথম দুই ঘণ্টা বাথরুমে না যাওয়া ভালো, এসময় কর্টিসল হরমোনের পরিমাণ বেশি থাকে।কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝূঁকিও বেশি।
দিনশেষে সচেতন থাকুন,সুস্থ থাকুন।
শেয়ার করুন আপনার আপনজনের সাথে। 🔥❤️
- ডা: আসিবুল হক শিহাব