09/06/2026
আসসালামু আলাইকুম। শুধু ঔষধে রোগ ভালো হয়না। রোগ্ন মানুষের জীবনী শক্তিকে ঔষধ কেবল সহযোগিতা করে। জীবনীশক্তিকে নিজেই রোগ থেকে মুক্তি পেতে সহযোগিতা করতে হয়। এই সহযোগিতার পথটা দেখিয়ে দেয়ার দ্বায়িত্ব একজন চিকিৎসকের। চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীর চেষ্টায় জীবনীশক্তি নিজে ঠিক হয়ে রোগীর দেহ মনকে ঠিক করে। বাক্স থেকে একটা ঔষধ দিয়ে দিলেই চিকিৎসক না। রোগীর সাথে বিশ্বস্ততার সাথে কথা বলে তার বর্তমান মানসিক ও শারীরিক কষ্ট গুলো কি কি, কিসে অসুবিধা বাড়ে কমে, কখন বাড়ে কমে, কি কারণে রোগের শুরু, প্রস্রাব, পায়খানা, ঘুম, ঘাম নানান বিষয় সম্পর্কে অবগত হয়ে ঔষধ নির্বাচন করে সঠিক শক্তি ও মাত্রায় দিতে হয়। এর সাথে ভালো হওয়ার পথে যে সকল বাধা থাকে তা রোগীকে পরিষ্কার ভাবে বলে দিতে হয়।
রোগী যদি ঔষধ সেবনের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলেন তাহলেই আরোগ্য হবেন ইনশাআল্লাহ।
অথচ সোশাল মিডিয়ায় ফেইসবুক, ইউটিউবে হোমিওপ্যাথির ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসক সমানে লিখে যাচ্ছেন এই রোগে এই ঔষধ। অমুক রোগে তমুক ঔষধ।
সাথে আবার নানান রকম গ্যারান্টি অথচ নিজের গ্যারান্টি নাই। একবার নিজের বিবেক দিয়ে চিন্তা করে দেখেন ত কি করছি আমরা। রূগ্ন মানুষের কষ্টের শেষ নাই যেখানে বাঁচা মরার লড়াই সেখানে আমরা ইচ্ছে মতো মুড়ি মুরকির মতো ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। হোমিওপ্যাথিতে কি শুধু ঔষধই সব? রোগ ডায়াগনোসিস করা, রোগীর বর্তমান কষ্ট জটিল হলে পরে কি হবে। এনাটমি ফিজিওলজি, ওষুধ নির্বাচন, ওষুধের শক্তি, ডোজ কিছুই লাগেনা?
যাই হউক আমি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করবো ফেইসবুক, ইউটিউব দেখে কেউ ঔষধ সেবন করবেন না। হোমিওপ্যাথিক সঠিক ঔষধ যেমন দ্রুত কাজ করে ঠিক তেমনই ঔষধ সঠিক না হলে, শক্তি মাত্রা সঠিক না হলে দ্রুত ক্ষতি করে রোগ যন্ত্রণা আরো জটিল করে তুলে।
মনে রাখবেন যার ইফেক্ট আছে তার সাইড ইফেক্ট আছে। প্রতিটি ক্রিয়ারই বিপরীত প্রতিক্রিয়া সমান। যারা বলে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কোন ক্ষতি করে না উনারা ঔষধ সম্পর্কে জানেনা।
সবশেষে আবারও অনুরোধ করবো নিজে নিজে কোন পদ্ধতির ঔষধই সেবন করবেন না। প্রয়োজনে আপনার এলাকার বা কাছাকাছি কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডা. মোহাম্মদ কালন মিয়া
ডিএইচএমএস
রেজিষ্ট্রেশন নং ৪৫৯৪৩
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল।