01/09/2026
ক্যান্সার প্রতিরোধে করনীয় কি?
ক্যান্সার একটি জটিল ও মারণব্যাধি হলেও সঠিক জীবনযাপন এবং সচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্যান্সার কেবল স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রেখে এবং সময়মতো সতর্ক হয়ে প্রতিরোধ করা যায়।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি:
১. তামাক ও ধূমপান সম্পূর্ণ ত্যাগ করা
ক্যান্সার প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় ও কার্যকর উপায় হলো তামাক মুক্ত থাকা। সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল বা পানের সাথে তামাক ব্যবহার ফুসফুস, মুখগহ্বর, খাদ্যনালী ও মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের প্রধান কারণ। পরোক্ষ ধূমপানও সমান ক্ষতিকর, তাই ধূমপায়ীদের স্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত।
২. স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস গড়ে তোলা
খাবার থালায় পুষ্টিকর উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
* ফল ও শাকসবজি: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে তাজা ফল, সবুজ শাকসবজি এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। এগুলোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষতি রোধ করে।
* প্রসেসড ও রেড মিট কমানো: প্রক্রিয়াজাত মাংস (যেমন: সসেজ, নাগেটস) এবং অতিরিক্ত লাল মাংস (গরু বা খাসির মাংস) খাওয়া সীমিত করুন।
* অতিরিক্ত চিনি ও চর্বি এড়ানো: ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং মিষ্টি জাতীয় পানীয় স্থূলতা বাড়ায়, যা ক্যান্সারের অন্যতম অনুঘটক।
৩. শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও শরীরচর্চা
স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন স্তন, কোলন, কিডনি ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
* প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ধরণের ব্যায়াম (যেমন: দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো) করা উচিত।
* কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া সঠিক থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
৪. ক্ষতিকর রশ্মি ও পরিবেশগত দূষণ থেকে সুরক্ষা
* সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি: অতিরিক্ত রোদে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার রোদ এড়িয়ে চলা, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং শরীর ঢেকে রাখা উপকারী।
* রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয়তা: শিল্পকারখানার ক্ষতিকর রাসায়নিক, অ্যাসবেস্টস বা অতিরিক্ত এক্স-রে/সিটি স্ক্যান থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
৫. প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন গ্রহণ
কিছু নির্দিষ্ট ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ক্যান্সারের সৃষ্টি করে, যা ভ্যাকসিনের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব।
* এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন: জরায়ুমুখ (Cervical) ক্যান্সারের ঝুঁকি দূর করতে মেয়েদের নির্দিষ্ট বয়সে এইচপিভি টিকা নেওয়া প্রয়োজন।
* হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis B) ভ্যাকসিন: হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের কারণে লিভার ক্যান্সার হতে পারে, তাই এই টিকা দেওয়া জরুরি।
৬. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Screening)
ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে তা শতভাগ নিরাময়যোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
* ৪০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের নিয়মিত ম্যামোগ্রাম (স্তন পরীক্ষা) এবং প্যাপ স্মিয়ার (জরায়ুমুখ পরীক্ষা) করানো উচিত।
* দীর্ঘদিনের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন—যেমন হঠাৎ ওজন কমা, দীর্ঘদিন কাশি না সারা, মলের সাথে রক্ত যাওয়া বা শরীরে কোনো চাকা বা পিণ্ড দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ক্যান্সার প্রতিরোধ কোনো একদিনের বিষয় নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসের ফসল। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতাই পারে এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখতে।
ডাঃ মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
বি এইচ এম এস (ঢাঃবিঃ)
সরাকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এম পি এইচ
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
ক্যান্সার ও থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসায় পারদর্শী
01724408895
01927128573
What's app /imo