নেশন হোমিও

নেশন হোমিও এটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র।
ট্রেড লাইসেন্স নং-TRAD/DSCC/008056/23
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল শিক্ষা কাউন্সিল রেজিঃ নাম্বার ৩৯৯১৯.
(226)

সম্মানিত হোমিও ডাক্তার ও স্টুডেন্টবৃন্দ ! আসসালামু আলাইকুমচিকিৎসা বিজ্ঞানের এই বিস্ময়কর অগ্রগতির যুগে একটি প্রশ্ন বারবার...
07/06/2026

সম্মানিত হোমিও ডাক্তার ও স্টুডেন্টবৃন্দ !
আসসালামু আলাইকুম

চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই বিস্ময়কর অগ্রগতির যুগে একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসে— হোমিওপ্যাথি কি সত্যিই বিজ্ঞানসম্মত?

এই প্রশ্নের গবেষণা ও প্রমাণ নির্ভর উত্তর এতদিন প্রায় অদৃশ্য ছিল। এটিকে দৃশ্যমান করেছে জার্মানির এঞ্জেল একাডেমি ও হ্যানিম্যান রিসার্চ ফাউন্ডেশনের "ওয়ান ড্রপস সেফ লাইফ রিসার্চ সায়েন্স"।

এতদিন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিকে বিভিন্নভাবে হেয় করা হয়েছে। কারণ হোমিওপ্যাথি যৌক্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি হলেও এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কারণ এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছিল না, প্রমাণ ছিল লক্ষণ সমষ্টির।

আশ্চর্যজনক সত্য হলো,
এই লক্ষণ সমষ্টিই হলো আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি ,এটি বিজ্ঞান এখন প্রমাণ করেছেন ।

এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের দলিল নিয়ে ডাঃ আতাউল ফয়সাল লিখেছেন
" দি সাইন্টিফিক বেসিস অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন " বইটি । বইটি প্রকাশিত হয়েছে প্রখ্যাত ' শাপলা প্রকাশন ' থেকে।

এই বইয়ে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে— হোমিওপ্যাথি ওষুধের রাসায়নিক সার এবং সে সার কীভাবে শরীরকে সুস্থ করে, হোমিওপ্যাথির ইলেক্ট্রো মেকানিক্স , মর্ডান হোমিও পার্টিক্যাল, ফ্রিকুইনসি অব হোমিও মেথমেটিক্স , ন্যানো-সায়েন্স,
বায়ো-ফিজিক্স এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে হোমিওপ্যাথির ম্যাগনিফাইড শক্তি।

শুধু বিশ্বাস নয়, শুধু তত্ত্ব নয়, বরং তথ্য, যুক্তি, গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সমন্বয়ে বইটি হোমিও ডাক্তারদের সূক্ষ্ম চিন্তার শক্তিকে নতুনভাবে শাণিত করবে, সংযোগ করে দেবে তাঁর পূর্বের জ্ঞানের সঙ্গে অতীন্দ্রিয় প্রজ্ঞার।

এটি শুধু বই নয়, এটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার বৈজ্ঞানিক দলিল। এটিই মহাত্মা হ্যানিম্যানের ডিজিটাল রূপ।

সম্মানিত হোমিও ডাক্তার ও স্টুডেন্টবৃন্দ, আপনার প্রাণের হোমিওপ্যাথিই আপনার সঙ্গে নতুন করে কথা বলবে। তাই " দি সাইন্টিফিক বেসিস অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন " সম্পর্কে জানুন, বুঝুন এবং বিজ্ঞানের আলোকে হোমিওপ্যাথিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করুন।

এ বইয়ের প্রতিটি শব্দ একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের এক ফোঁটা ওষুধের মতো শক্তিশালী।

নিছক কোনো বই ভেবে নিজেকে অমূল্য জ্ঞানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করে অর্ডার করতে ইনবক্স বা কল করুন এখনই।

মোবাইল : 01713 64 05 94 অথবা 01819 839 209

ধন্যবাদ

06/06/2026
21/04/2026

ভুল খাদ্যাভ্যাস ও রোগ সৃষ্টি এবং নিরাময়কারী খাদ্য
যেসব খাদ্যাভ্যাস রোগ তৈরি করে:
অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট: অতিরিক্ত চিনি রক্তে ইনসুলিন বাড়ায় ইনসুলিন IGF-1 (Insulin-like Growth Factor) বাড়ায় কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটায়। চিনি প্রদাহ তৈরি করে এবং ইস্ট্রোজেন বাড়িয়ে ফাইব্রয়েড ও সিস্ট বৃদ্ধি করে।
ক্ষতিকর খাবার: সব ধরণের চিনি, মিষ্টি, কোলা/সোডা, কেক, বিস্কুট, সাদা ভাত অতিরিক্ত, সাদা আটার রুটি, মিষ্টি জুস। এসব খাবার টিউমার, ফাইব্রয়েড, ডিম্বাশয়ের সিস্ট (PCOS), লাইপোমা সৃষ্টি করে ।
প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার:
কীভাবে ক্ষতি করে: প্রিজারভেটিভ, কৃত্রিম রং ও স্বাদ কোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে। Trans fat দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করে। সোডিয়াম নাইট্রেট কার্সিনোজেনিক N-nitroso যৌগ তৈরি করে। চিপস, ফাস্টফুড, প্রসেসড মাংস ,ক্যানড ফুড, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস। টিউমার, নডিউল, লাইপোমা সৃষ্টিতে এই খাবারগুলো দায়ী ।
অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রাণিজ চর্বি:
কীভাবে ক্ষতি করে: লাল মাংসে হেম আয়রন কোলন কোষে অক্সিডেটিভ ক্ষতি করে। Saturated fat ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়ায় ফাইব্রয়েড ও সিস্ট বাড়ায় । উচ্চ তাপে রান্না Heterocyclic Amines (HCA) তৈরি করে কার্সিনোজেন ঘটায় । গরুর মাংস অতিরিক্ত, খাসির মাংস, পোড়া বা গ্রিলড মাংস, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (কলিজা অতিরিক্ত), ঘি ও মাখন অতিরিক্ত এই রোগ সৃষ্টির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে পড়ে । কোলন টিউমার, ফাইব্রয়েড, লাইপোমা তৈরিতে এ খাদ্যগুলো দায়ী ।
পরিবেশগত ইস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ খাবার (Xenoestrogen): Xenoestrogen শরীরে ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে , জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের কোষ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় ফলে ফাইব্রয়েড, সিস্ট ও টিউব ব্লক তৈরি করে । প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার, কীটনাশকযুক্ত সবজি ও ফল, সয়া অতিরিক্ত (Phytoestrogen), হরমোনযুক্ত মুরগি ও দুধ, BPA যুক্ত ক্যান ও বোতলের পানি খুবই ক্ষতিকর ।ফাইব্রয়েড, ডিম্বাশয়ের সিস্ট, টিউব ব্লক, এন্ডোমেট্রিওসিস রোগে বেশি দায়ী এই ভুল জীবনচর্চা।
অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন : অ্যালকোহল যকৃতে ইস্ট্রোজেন বিপাক কমায় ইস্ট্রোজেন জমে। ক্যাফেইন কর্টিসল বাড়ায় হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ফাইব্রয়েড ও সিস্ট বাড়ায়। স্তন নডিউল, ফাইব্রয়েড, সিস্ট রোগে বেশি দায়ী অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন ।
ডেইরি পণ্য অতিরিক্ত : বাণিজ্যিক দুধে IGF-1 ও হরমোন প্রোস্টেট, স্তন ও ডিম্বাশয়ের কোষ উদ্দীপিত করে। Saturated fat প্রদাহ বাড়ায়। স্তন টিউমার, ডিম্বাশয়ের সিস্ট, ফাইব্রয়েড এই দুধের জন্য প্রকৃত দায়ী ।
ভাজাপোড়া ও ট্রান্স ফ্যাট: Trans fat কোষের মেমব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত করে। বারবার গরম করা তেল অ্যালডিহাইড ও ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি করে ফলে DNA ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং টিস্যু পরিবর্তন হয় ।
আয়োডিনের অভাবজনিত খাদ্য: আয়োডিনের ঘাটতি থাইরয়েড গ্রন্থি ক্ষতিপূরণ করতে বড় হয় এবং নডিউল ও গয়টার তৈরি করে ফলে থাইরয়েড নডিউল অকার্যকর হয় ।
অতিরিক্ত লবণ ও সোডিয়াম: কোষে পানি ধরে রাখে সিস্টে তরল বাড়ায়। উচ্চ রক্তচাপ , রক্তনালির ক্ষতি ও টিস্যু পরিবর্তন।
ফাইবারশূন্য খাদ্য: ফাইবার না থাকলে অন্ত্র ইস্ট্রোজেন পুনরায় শোষণ করে। এই শোষণের ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ফাইব্রয়েড, সিস্ট ও টিউমার বৃদ্ধি হয় ।
নিরাময়কারী ও প্রতিরোধকারী খাদ্য:
ক্রুসিফেরাস সবজি : এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। Indole-3-Carbinol (I3C) ও DIM (Diindolylmethane) ইস্ট্রোজেন বিপাক উন্নত করে। Sulforaphane টিউমার সাপ্রেসর জিন সক্রিয় করে। Glucosinolates ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। যেমন : ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, সরিষা শাক। টিউমার, ফাইব্রয়েড, সিস্ট, নডিউলসহ সবক্ষেত্রে উপকারী ।
হলুদ (Turmeric) ও আদা:
হলুদের গুণ: Curcumin NF-κB প্রদাহ পথ বন্ধ করে। টিউমার কোষে Apoptosis ঘটায়। অ্যান্টি-অ্যাঞ্জিওজেনিক টিউমারে রক্তনালি তৈরি রোধ করে। Curcumin ফাইব্রয়েডের বৃদ্ধি কমায়।
আদার গুণ: Gingerol ও Shogaol প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। ডিম্বাশয়ের সিস্টে কার্যকর। কালো গোলমরিচের সাথে হলুদ খেলে ৭ শতগুণ শোষণ বাড়ে। প্রতিদিন ১-২ চা চামচ।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার: Omega-3 প্রদাহবিরোধী Prostaglandin তৈরি করে। ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ করে। টিউব ব্লকের adhesion কমায়। ফাইব্রয়েড ও সিস্টের বৃদ্ধি রোধ করে। ফাইব্রয়েড, সিস্ট, টিউব ব্লক, টিউমার -এ বেশ কার্যকরী ।
উচ্চ ফাইবার খাবার: অন্ত্রে ইস্ট্রোজেন পুনঃশোষণ রোধ করে। অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন মলের সাথে বের করে। রক্তে ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ করে কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি রোধ। লাল চাল, লাল আটা, ওটস, মসুর ডাল, কলাই ডাল, ছোলা, বার্লি, সব ধরনের শাক। বেশি উপকারী ফাইব্রয়েড, সিস্ট, টিউমার বিশেষত কোলন টিউমার।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল ও সবজি: ফ্রি র‍্যাডিক্যাল DNA ক্ষতি করে টিউমার তৈরি করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিক্যাল নিরপেক্ষ করে। টমেটো প্রোস্টেট ও স্তন টিউমার রোধ। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি টিউমার কোষ ধ্বংস। আনার ইস্ট্রোজেন বিপাক উন্নত করে। আঙুর টিউমার কোষে Apoptosis। সবুজ চা টিউমার, ফাইব্রয়েড, সিস্ট বিরোধী।
রসুন ও পেঁয়াজ: Allicin টিউমার কোষের বিভাজন রোধ করে। Quercetin প্রদাহ কমায়, ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ করে। Organosulfur যৌগ কার্সিনোজেন নিষ্ক্রিয় করে। কাঁচা রসুন সবচেয়ে কার্যকর। কাটার পর ১০ মিনিট রেখে তারপর খান।
বীজ ও বাদাম:
Flaxseed (তিসি): Lignans ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর ব্লক করে। ফাইব্রয়েড ও স্তন টিউমারে অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন ১-২ চামচ গুঁড়া।
সূর্যমুখী বীজ: Vitamin E ও Selenium অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
কুমড়ার বীজ: Zinc ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে।
আখরোট: Omega-3 ও Ellagitannins টিউমার বিরোধী।
সামুদ্রিক শৈবাল ও আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার: আয়োডিন থাইরয়েড নডিউল প্রতিরোধ করে। সামুদ্রিক শৈবালে Fucoidan টিউমার কোষে Apoptosis।
ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার: Vitamin D → কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। ফাইব্রয়েড কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ, মাশরুম (রোদে শুকানো), ফোর্টিফাইড দুধ।
প্রোবায়োটিক খাবার: অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া ইস্ট্রোজেন বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। Estrobolome অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ইস্ট্রোজেন নিষ্ক্রিয় করে। প্রদাহ কমায় , টিউব ব্লক ও ফাইব্রয়েডে সহায়ক।
সবুজ পাতাযুক্ত শাক: Folate DNA মেরামত করে। Magnesium হরমোন ভারসাম্য রক্ষা করে। কলোরোফিল রক্ত পরিশোধন করে। যেমন : পালং শাক, কলমি শাক, পুঁই শাক, মেথি শাক, ব্রকলি পাতা।
কোনো একটি খাবার একা রোগ সারায় না। সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপমুক্ত জীবন এবং নিয়মিত ব্যায়াম একসাথে এই রোগগুলো প্রতিরোধ ও নিরাময়ে সহায়তা করে।

19/04/2026

এপিস মেলিফিকা (Apis Mellifica):
এপিস মেল তৈরি হয় মৌমাছির / মধুমক্ষিকার বিষ — Honey Bee Venom এর স্বচ্ছ, হালকা হলুদাভ তরল প্রোটিন-ভিত্তিক জটিল বিষ থেকে। যেটি pH ৪.৫ থেকে ৫.৫ (অম্লীয়)।

মৌমাছির বিষের প্রধান উপাদানসমূহ:
ক) মেলিটিন (Melittin) রাসায়নিক সংকেত C₁₃₁H₂₂₉N₃₉O₃₁ : — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এটিতে Polypeptide (২৬টি অ্যামিনো অ্যাসিড) থাকে যা বিষের ৪০-৫০% । এ বিষেই কোষের ঝিল্লি ভাঙে ও প্রদাহ তৈরি করে।
খ) ফসফোলিপেজ A₂ (Phospholipase A₂) সংকেত: Enzyme — C₁₄H₁₉NO₅ (সরলীকৃত)
বিষের পরিমাণ ১০-১২%। এটি কোষের চর্বি ঝিল্লি ভাঙে , Arachidonic acid মুক্ত করে, প্রচণ্ড প্রদাহ ও ব্যথা তৈরি করে।
গ) অ্যাপামিন (Apamin) C৭৯H১৩১N৩১O২৪Sৄ : (18 amino acid peptide) এটিতে বিষের পরিমাণ ২-৩%। যা স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে Potassium channel বন্ধ করে।
ঘ) হায়ালুরোনিডেজ (Hyaluronidase): ধরন: Enzyme
বিষের পরিমাণ বিষের ১-২%। টিস্যুর মধ্যে বিষ ছড়িয়ে দেয় এবং Hyaluronic acid ভাঙে।
ঙ) হিস্টামিন (Histamine) C₅H₉N₃ : বিষের পরিমাণ ০.৫-২%। অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া তৈরি করে রক্তনালী প্রসারিত করে।
টিউমারে এপিস মেল:
ক) ওভারিয়ান সিস্ট ও টিউমার
- ডান দিকের ডিম্বাশয়ে বিশেষ কার্যকর
- ডিম্বাশয়ে জ্বালা ও চাপের অনুভূতি
- সিস্টের তরল শুষে নিতে সাহায্য করে (হোমিওপ্যাথিক দাবি)
- মাসিকের সময় তীব্র ব্যথায় উপকারী

খ) ব্রেন টিউমার / মেনিনজাইটিস
- মস্তিষ্কে পানি জমলে (Hydrocephalus)
- তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হলে
- মস্তিষ্কের আবরণে ফোলা কমাতে

গ) কিডনির সিস্ট ও টিউমার
- কিডনিতে পানি জমা (Hydronephrosis)
- প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সহ ফোলা
- কিডনির চারপাশে তরল জমলে

ঘ) লিভার টিউমার / জলোচ্ছ্বাস
- পেটে পানি জমা (Ascites) সহ টিউমার
- লিভার ফুলে থাকলে
- পেটে চাপ ও ভার অনুভব

ঙ) ত্বকের টিউমার ও গুটি
- ত্বকে লাল, ফোলা, জ্বালাযুক্ত গুটি
- Urticaria বা আমবাতের মতো ফোলা
- Edematous টিউমার (পানিযুক্ত ফোলা)

চ) গলার টিউমার / টনসিল
- গলা ফুলে লাল হলে
- গিলতে কষ্ট হলে
- গলায় জ্বালাপোড়া অনুভব

ছ) স্তনের সিস্ট
- স্তনে পানিযুক্ত নরম সিস্ট
- ছুঁলে জ্বালা করে এমন ফোলায়

আধুনিক বিজ্ঞানে মৌমাছির বিষের গবেষণা:
মেলিটিন (Melittin) In-vitro নিয়ে গবেষণা গেছে ।
* ক্যান্সার কোষের ঝিল্লি ভাঙতে পারে।
* Apoptosis (কোষ মৃত্যু) উদ্দীপিত করে।
* Tumor angiogenesis (রক্ত সরবরাহ) বাধা দেয়।

ফসফোলিপেজ A₂ নিয়ে গবেষণা:
প্রদাহ-বিরোধী প্রভাব আছে ।
ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় করে।
কিছু ক্যান্সার কোষে Cytotoxic প্রভাব।

Bee Venom Therapy (BVT) — আধুনিক গবেষণা:
Lung cancer (in vitro) Melittin— কোষ মেরেছে ।
Breast cancer (mouse) — টিউমার বৃদ্ধি ধীর হয়েছে ।
Liver cancer— Apoptosis বেড়েছে ।
Human clinical trial —এখনো অপর্যাপ্ত ।
এপিস মেলিফিকা মৌমাছির বিষ থেকে তৈরি একটি শক্তিশালী হোমিওপ্যাথিক ওষুধ। এর মূল উপাদান Melittin (C₁₃₁H₂₂₉N₃₉O₃₁), Phospholipase A₂, Apamin, Histamine (C₅H₉N₃) ইত্যাদি। হোমিওপ্যাথিক মতে এটি বিশেষত পানিযুক্ত ফোলা, জ্বালাযুক্ত টিউমার ও সিস্টে কার্যকর। আধুনিক বিজ্ঞানেও মৌমাছির বিষের অ্যান্টি-টিউমার বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা চলছে।

19/04/2026

থুজা অক্সিডেন্টালিস (Thuja Occidentalis):
থুজা অক্সিডেন্টালিস কে বলা হয় অ্যান্টি-সাইকোটিক (Anti-sycotic) চিকিৎসার প্রধান স্তম্ভ। এটি প্রধানত উদ্ভিদজ উৎস থেকে তৈরি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ওষুধ।
থুজার উপাদান ও রাসায়নিক পরিচিতি: থুজা ওষুধটি মূলত আর্বোর ভিটা (Arbor Vitae) বা জীবনবৃক্ষ নামক একটি চিরহরিৎ কনিফার গাছ থেকে প্রস্তুত করা হয়। এই গাছের তাজা পাতা এবং কচি ডালপালা থেকে ওষুধি নির্যাস বা মাদার টিংচার তৈরি করা হয়। এর প্রধান রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে থুজোন (Thujone), ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ট্যানিন। যেহেতু এটি একটি জটিল জৈব উদ্ভিদজ নির্যাস, তাই খনিজ ওষুধের মতো এর কোনো একক রাসায়নিক সংকেত নেই। তবে এর প্রধান সক্রিয় উপাদান থুজোন -এর রাসায়নিক সংকেত হলো C_{10}H_{16}O।
এটি কিভাবে রোগ সারাতে পারে?
হোমিওপ্যাথিক তত্ত্ব অনুযায়ী, শরীরে যখন বিষাক্ত উপাদানের কারণে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (যেমন আঁচিল, টিউমার) ঘটে, তখন থুজা সেই মূল কারণ বা মায়াজম-এর ওপর কাজ করে।
টিউমার ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সারাতে থুজার ভূমিকা: টিউমার চিকিৎসায় থুজাকে হোমিওপ্যাথিক স্ক্যালপেল বা ছুরি বলা হয়, কারণ এটি অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ছাড়াই টিউমার নির্মূল করতে সক্ষম। থুজা শরীরের যেকোনো স্থানে কোষের অস্বাভাবিক সংখ্যাবৃদ্ধি (Hyperplasia) নিয়ন্ত্রণ করে।
লাইপোমা ও ফাইব্রয়েড: চর্বিযুক্ত টিউমার (Lipoma), জরায়ুর টিউমার (Uterine Fibroids) এবং স্তনের শক্ত চাকা বা টিউমার সারাতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
আঁচিল ও কড়াপড়া: যেকোনো ধরনের আঁচিল (Warts), বিশেষ করে যা দেখতে ফুলকপির মতো বা যা থেকে সহজেই রক্তপাত হয়, তার জন্য থুজা প্রধান ওষুধ।
সিস্ট (Cyst): বিশেষ করে ওভারিয়ান সিস্ট বা গ্যাংলিয়ন (হাতের কবজিতে হওয়া টিউমার) নিরাময়ে থুজা অত্যন্ত কার্যকর। হোমিওপ্যাথিতে থুজাকে কেবল একটি ওষুধ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে দেখা হয়। থুজা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ওষুধ। এটি উচ্চ শক্তিতে ভুল প্রয়োগ করলে শরীরে উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এবং টিউমার যদি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়।

18/04/2026

ক্যালকেরিয়া আয়োড (Calcarea Iodata):
ক্যালকেরিয়া আয়োড বা ক্যালসিয়াম আয়োডাইড একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ওষুধ। এটি মূলত ক্যালকেরিয়া কার্ব এবং আয়োডিয়াম—এই দুটি ওষুধের গুণের সমন্বয়ে তৈরি, যা বিশেষ করে গ্রন্থির (Glands) অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে কাজ করে। ক্যালকেরিয়া আয়োড একটি খনিজজাত ওষুধ। এটি ক্যালসিয়াম এবং আয়োডিনের রাসায়নিক সংযোগে তৈরি। এটির রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম আয়োডাইড (Calcium Iodide) ও রাসায়নিক সংকেত CaI_2
রোগ সারাতে ক্যালকেরিয়া আয়োড শরীরের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম এবং গ্রন্থিগুলোর ওপর সরাসরি কাজ করে।
বিপাক প্রক্রিয়ার ভারসাম্য: এটি শরীরের পুষ্টিহীনতা দূর করে এবং গ্রন্থিগুলোর নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
টিস্যু শোষণ: এটি শরীরের কোনো অংশে জমে থাকা অস্বাভাবিক টিস্যু বা তরলকে পুনরায় শুষে নিতে (Resorption) সাহায্য করে।
প্রতিরোধ ক্ষমতা: যেসব শিশুর গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে (Scrofulous constitution), তাদের শরীরের গঠন মজবুত করতে এটি কাজ করে।
টিউমার সারাতে ক্যালকেরিয়া আয়োড : টিউমার নিরাময়ে ক্যালকেরিয়া আয়োড একটি অনন্য ওষুধ।
গ্ল্যান্ডুলার টিউমার (Glandular Tumors): ঘাড়, বগল বা কুঁচকির লিম্ফ গ্ল্যান্ড যখন ফুলে শক্ত হয়ে টিউমারের মতো আকার ধারণ করে, তখন এটি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে যদি সেই গ্রন্থিগুলো দীর্ঘস্থায়ীভাবে ফুলে থাকে।
থাইরয়েড টিউমার ও ঘ্যাগ (Goitre): থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি বা সেখানে ছোট ছোট নডিউল বা টিউমার হলে ক্যালকেরিয়া আয়োড অত্যন্ত কার্যকর। এটি গ্রন্থির ফোলাভাব দ্রুত কমিয়ে আনে।
স্তনের টিউমার (Breast Tumors): স্তনে যদি শক্ত টিউমার দেখা দেয় এবং তা যদি স্পর্শকাতর হয়, তবে এই ওষুধটি সেই শক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবেও প্রাথমিক স্তরে কাজ করে।
জরায়ুর টিউমার (Uterine Fibroids): জরায়ুর ভেতরের শক্ত টিউমার বা ফাইব্রয়েড সারাতে এর বিশেষ ব্যবহার রয়েছে। এটি টিউমারের বৃদ্ধি থামিয়ে ধীরে ধীরে সেটিকে সংকুচিত করে।
নাকের পলিপ ও টনসিল: নাকের মাংস বৃদ্ধি (Polyp) এবং টনসিল যখন অত্যন্ত বড় ও শক্ত হয়ে টিউমারের মতো দেখায়, তখন এটি দেওয়া হয়।
ওষুধের বিস্তারিত বর্ণনা ও লক্ষণ
ক্যালকেরিয়া আয়োড তখনই ভালো কাজ করে যখন রোগীর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ থাকে।
শারীরিক গঠন: রোগী সাধারণত ক্যালকেরিয়া কার্বের মতো মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকলেও আয়োডিয়ামের প্রভাবে দিন দিন শুকিয়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত শীতকাতরতা বা গরমকাতরতা: এই ওষুধের রোগীরা সাধারণত ঠান্ডা বাতাস সহ্য করতে পারে না, আবার খুব বেশি গরমেও কষ্ট পায়।
গ্রন্থি ফোলা: শরীরের বিভিন্ন গ্ল্যান্ড বা লসিকা গ্রন্থি সহজেই ফুলে যায় এবং ব্যথা করে।
চর্মরোগ: একজিমা বা ত্বকের কোনো কঠিন রোগ যা সহজে সারছে না, সেখানেও এটি ব্যবহৃত হয়।

18/04/2026

আয়োডিয়াম (Iodium):
আয়োডিনাম একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দ্রুতক্রিয়াশীল ওষুধ। এটি মূলত শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজমের ওপর কাজ করে।
আয়োডিয়াম তৈরির উপাদান ও রাসায়নিক সংকেত: আয়োডিয়াম মূলত মৌলিক পদার্থ আয়োডিন থেকে তৈরি করা হয়। এটি সামুদ্রিক শৈবাল বা আগাছা পুড়িয়ে প্রাপ্ত ছাই থেকে সংগ্রহ করা হয়। রাসায়নিক নাম- আয়োডিন (Iodine) ও সংকেত I_2
আয়োডিয়াম প্রধানত শরীরের গ্রন্থিতন্ত্র (Glandular System) এবং বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর কাজ করে।
অত্যধিক বিপাক নিয়ন্ত্রণ: এই ওষুধের রোগীদের মেটাবলিজম এত বেশি থাকে যে, তারা প্রচুর পরিমাণে খায় কিন্তু শরীর দিন দিন শুকিয়ে যায় (Emaciation)। আয়োডিয়াম এই বিশৃঙ্খল বিপাক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। এটি থাইরয়েড, অগ্ন্যাশয় এবং লিম্ফ্যাটিক গ্ল্যান্ডের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে।
টিউমার সারাতে আয়োডিয়ামের ভূমিকা: টিউমার এবং গ্ল্যান্ডের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে আয়োডিয়াম একটি প্রথম সারির ওষুধ। এর ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
গ্ল্যান্ডুলার টিউমার (Glandular Tumors): আয়োডিয়াম বিশেষভাবে লিম্ফ্যাটিক গ্ল্যান্ডের টিউমারের ওপর কাজ করে। যখন ঘাড়, বগল বা কুঁচকির গ্ল্যান্ডগুলো ফুলে শক্ত হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে আকারে বড় হতে থাকে, তখন আয়োডিয়াম এটি সঙ্কুচিত করতে সাহায্য করে।
থাইরয়েড টিউমার: থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো পিণ্ড বা নডিউল (Nodular Goitre) দেখা দিলে এটি অত্যন্ত কার্যকর। এটি গ্রন্থির ফোলা ভাব কমিয়ে হরমোনের ভারসাম্য আনে।
স্তনের পিণ্ড ও টিউমার: স্তনের টিস্যু যদি শুকিয়ে যেতে থাকে কিন্তু তার ভেতরে ছোট ছোট শক্ত টিউমার বা গুটি দেখা দেয়, তবে আয়োডিয়াম প্রয়োগ করা হয়।
টেস্টিকুলার টিউমার: পুরুষদের অণ্ডকোষের টিউমার বা শক্ত হয়ে যাওয়া (Induration) নিরাময়ে এর বিশেষ ব্যবহার রয়েছে।
মেসেন্টেরিক টিউমার: পেটের ভেতরের গ্ল্যান্ড ফুলে যদি টিউমারের মতো শক্ত ভাব তৈরি হয়, তবে এটি ব্যবহৃত হয়।
আয়োডিয়াম একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং স্পর্শকাতর ওষুধ। এর ভুল প্রয়োগে গ্ল্যান্ডের ক্ষতি হতে পারে। তাই টিউমার বা থাইরয়েডের মতো জটিল রোগে এই ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক শক্তি ও মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।

18/04/2026

ক্যালকেরিয়া ফ্লোরিকা (Calcarea Fluorica):
হোমিওপ্যাথিতে ক্যালকেরিয়া ফ্লোরিকা (Calcarea Fluorica) বা সংক্ষেপে ক্যালকেরিয়া ফ্লোর হলো ১২টি টিস্যু সল্ট বা বায়োকেমিক ওষুধের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী একটি ওষুধ। একে ইলাস্টিসিটি রিষ্টোরার বা স্থিতিস্থাপকতা পুনরুদ্ধারকারী বলা হয়।
উপাদান ও রাসায়নিক সংকেত: ক্যালকেরিয়া ফ্লোরিকা মূলত ফ্লোরাইড অফ চুন (Fluoride of Lime) থেকে তৈরি করা হয়। এটি প্রাকৃতিকভাবে ফ্লোরস্পার নামক খনিজ হিসেবে পাওয়া যায়। এটির রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড ও সংকেত CaF_2
রোগ সারালে পারে ?
আমাদের শরীরের হাড়ের উপরিভাগ (Enamel), রক্তনালীর দেয়াল, এবং সংযোগকারী তন্তুর (Connective Tissue) স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড অপরিহার্য। যখন শরীরের কোনো টিস্যু বা তন্তু ঢিলে হয়ে যায় অথবা অতিরিক্ত শক্ত হয়ে যায়, তখন এই ওষুধটি সেই কোষের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনে। এটি হাড় বা গ্ল্যান্ডের ওপর হওয়া যেকোনো অতিরিক্ত এবং শক্ত বৃদ্ধিকে গলিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।
টিউমার সারাতে ক্যালকেরিয়া ফ্লোরের ভূমিকা: টিউমার নিরাময়ে ক্যালকেরিয়া ফ্লোরিকা-কে হোমিওপ্যাথির অন্যতম সেরা ওষুধ ধরা হয়, বিশেষ করে যখন টিউমারটি পাথরের মতো শক্ত হয়।
হাড়ের টিউমার ও অর্বুদ: হাড়ের ওপর যে টিউমার বা শক্ত ফোলা দেখা দেয়, যা সহজে নড়াচড়া করে না, তাকে নিরাময় করতে এটি অতুলনীয়। এটি হাড়ের কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে।
স্তনের শক্ত পিণ্ড (Mammary Tumors): স্তনে যদি কোনো পিণ্ড বা নডিউল হয় যা অত্যন্ত শক্ত এবং টিপলে ব্যথা লাগে বা অনেক সময় ব্যথা থাকেও না, সেক্ষেত্রে ফাইটোলক্কার পাশাপাশি ক্যালকেরিয়া ফ্লোর খুব কার্যকর। এটি কোষের শক্ত ভাব (Induration) দূর করে।
ফাইব্রয়েড ও সিস্ট: জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা ওভারিয়ান সিস্ট যদি আকারে বড় এবং শক্ত হয়ে যায়, তবে এটি নিয়মিত সেবনে টিউমারটি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসে।
গ্যাংলিয়ন (Ganglion): হাতের কব্জি বা পায়ের ওপর যে শক্ত মাংসল গুটি বা সিস্ট (গ্যাংলিয়ন) দেখা দেয়, তার জন্য ক্যালকেরিয়া ফ্লোর প্রধান ওষুধ।
গ্ল্যান্ডের বৃদ্ধি: থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বা ঘাড়ের লিম্ফ গ্ল্যান্ড যদি পাথরের মতো শক্ত হয়ে ফুলে যায় (Goitre বা শ্লৈষ্মিক টিউমার), তবে এটি জাদুর মতো কাজ করে। ক্যালকেরিয়া ফ্লোর দীর্ঘ সময় ধরে সেবন করতে হয়, তাই ধৈর্য ধারণ করা প্রয়োজন।

18/04/2026

ফাইটোলক্কা ডিকান্ড্রা (Phytolacca Decandra):
ফাইটোলক্কা ডিকান্ড্রা সংক্ষেপে 'ফাইটোলক্কা' একটি অত্যন্ত কার্যকরী উদ্ভিদজাত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ। একে অনেক সময় উদ্ভিজ্জ পারদ (Vegetable Mercury) বলা হয়, কারণ এটি শরীরে পারদের মতো শক্তিশালী গভীর প্রভাব ফেলে।
তৈরির উপাদান ও উৎস: ফাইটোলক্কা ওষুধটি উত্তর আমেরিকার 'পোকেউইড' (Pokeweed) নামক একটি বিষাক্ত উদ্ভিদের মূল থেকে তৈরি করা হয়। এই গাছের টাটকা শিকড় সংগ্রহ করে বিশেষ পদ্ধতিতে অ্যালকোহলের সাহায্যে এর 'মাদার টিংচার' প্রস্তুত করা হয়, যা পরবর্তীতে শক্তিকরণ করে ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ফাইটোলক্কা মূলত শরীরের গ্রন্থি (Glands), তন্তু (Fibrous Tissue) এবং মিউকাস মেমব্রেন-এর ওপর কাজ করে। এটি লিম্ফ্যাটিক গ্ল্যান্ডের মেটাবলিজম ঠিক করে ফোলা ও শক্ত ভাব কমায়। হাড়ের আবরণ বা পেরিওস্টিয়াম-এর ওপর কাজ করে গভীর ব্যথা দূর করে। শরীরের চর্বি কোষের (Adipose tissue) ওপর প্রভাব ফেলে অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে।
টিউমার সারাতে ফাইটোলক্কার ভূমিকা: টিউমার, বিশেষ করে গ্রন্থিজনিত টিউমার নিরাময়ে ফাইটোলক্কার ভূমিকা অনন্য।
স্তনের টিউমার (Mammary Tumors): ফাইটোলক্কা স্তনের বিভিন্ন শক্ত পিণ্ড বা টিউমার নিরাময়ে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। যদি স্তনের টিউমার খুব শক্ত হয় এবং সেই ব্যথা বগলের দিকে ছড়িয়ে যায়, তবে এটি অত্যন্ত কার্যকর। স্তনে দুধ জমার কারণে হওয়া শক্ত পিণ্ড বা ফাইব্রোঅ্যাডিনোমা সারাতে এটি নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।
লিম্ফ গ্ল্যান্ডের টিউমার: ঘাড়, বগল বা কুঁচকির লিম্ফ গ্ল্যান্ড যদি ফুলে শক্ত হয়ে যায় (Lymphadenopathy), তবে ফাইটোলক্কা সেই শক্ত ভাব দূর করে ফোলা কমাতে সাহায্য করে।
টিউমার সদৃশ শক্ত পিণ্ড: শরীরের যেকোনো মাংসপেশি বা তন্তুর মধ্যে যদি কোনো শক্ত গুটি বা নডিউল দেখা দেয়, যা টিপলে ব্যথা লাগে, সেক্ষেত্রে ফাইটোলক্কা সেই কোষগুলোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধক ভূমিকা: অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের ক্যান্সারযুক্ত টিউমার বা 'সিরাস' (Scirrhous) টিউমারে যেখানে প্রচণ্ড ব্যথা থাকে, সেখানে উপশমকারী হিসেবে এবং বৃদ্ধির গতি কমাতে চিকিৎসকরা ফাইটোলক্কা ব্যবহার করেন। ফাইটোলক্কা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ওষুধ। বিশেষ করে টিউমারের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকালে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। টিউমারের ধরন ও পজিশন বুঝে এর শক্তি (যেমন—Q, 30, বা 200) নির্ধারণ করা হয়। নন - এলকোহোলিক হোমিও ওষুধ সবচেয়ে কার্যকরী । বাজারে যা পাওয়া যায় সবগুলোতে ৯০% এলকোহল । তাই ওষুধের কাজ করে কম । এলকোহল মুক্ত হোমিও সেবন করলে স্থায়ীভাবে সুস্থ হতে পারে ।

18/04/2026

সাইলেশিয়া (Silicea): সাইলেশিয়া বা সিলিকা হোমিওপ্যাথির একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ওষুধ, যাকে প্রায়ই হোমিওপ্যাথিক ল্যানসেট বা সার্জিক্যাল ছুরি বলা হয়। এর কারণ হলো, এটি শরীরে জমে থাকা কোনো অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বের করে দিতে বা শরীরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দূর করতে দারুণ কার্যকর।
তৈরির উপাদান ও উৎস: সাইলেশিয়া তৈরি হয় বিশুদ্ধ সাদা বালি বা সিলিকা (SiO_2) থেকে। প্রাকৃতিকভাবে বালি অত্যন্ত শক্ত এবং সাধারণ অবস্থায় ওষুধের কাজ করে না। কিন্তু হোমিওপ্যাথির বিশেষ পদ্ধতিতে (Trituration) একে চূর্ণ করতে করতে এমন এক সূক্ষ্ম শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, যা মানবদেহের গভীর কোষে প্রবেশ করে কাজ করতে পারে।
কিভাবে রোগ সারায়: সাইলেশিয়ার কাজ করার পদ্ধতি অত্যন্ত অনন্য।
বহিষ্কার করার ক্ষমতা: শরীরের ভেতরে কোনো বিজাতীয় বস্তু (যেমন—কাঠের টুকরো, কাঁচের কণা, বা জমে থাকা পুঁঁজ) থাকলে সাইলেশিয়া তা শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
পুষ্টির অভাব পূরণ: এটি শরীরের সিলিকা শোষণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে হাড়, নখ এবং চুলকে মজবুত করে।
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এটি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে এমনভাবে উদ্দীপিত করে যাতে শরীর নিজে থেকেই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত বা রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।
টিউমার সারাতে সাইলেশিয়ার ভূমিকা: টিউমার নিরাময়ে সাইলেশিয়া একটি বিশেষ মর্যাদা পায়। এর কাজ করার ধরণটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
শক্ত টিউমার (Indurated Tumors): শরীরের কোনো স্থানে বিশেষ করে গ্ল্যান্ডে (যেমন—ঘাড়ের বা বগলের গ্ল্যান্ড) টিউমার যদি পাথর বা হাড়ের মতো শক্ত হয়ে যায়, তবে সাইলেশিয়া সেটি গলিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। এটি টিউমারের টিস্যুগুলোকে নরম করে দেয়।
পুঁজোৎপত্তি প্রবণ টিউমার: যদি কোনো টিউমার পেকে যাওয়ার বা পুঁজে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সাইলেশিয়া প্রয়োগ করলে তা দ্রুত পেকে ফেটে যায় অথবা শরীরে শোষিত হয়ে মিলিয়ে যায়। বিশেষ করে ফোঁড়া যখন টিউমারের মতো শক্ত হয়ে বসে থাকে, তখন এটি খুব ভালো কাজ করে।
হাড়ের টিউমার (Exostosis): হাড়ের ওপরে কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিউমার হলে সাইলেশিয়া অনেক ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর। এটি হাড়ের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
সিস্ট ও ফাইব্রয়েড: জরায়ু বা স্তনে যদি ছোট ছোট সিস্ট বা টিউমার হয় যা খুব শক্ত প্রকৃতির, তবে সাইলেশিয়া লক্ষণের সাথে মিল রেখে ব্যবহার করলে সেগুলো ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসে।
সাইলেশিয়া ব্যবহারের আগে একটি বিশেষ বিষয় মাথায় রাখতে হয়। যেহেতু এটি শরীরে থাকা যেকোনো বিজাতীয় বস্তু বের করে দেয়, তাই যাদের শরীরে হার্টে পেসমেকার (Pacemaker), কৃত্রিম হাড়ের রড বা স্ক্রু আছে, তাদের জন্য সাইলেশিয়া ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এটি শরীর থেকে ঐ বস্তুগুলোকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে পারে। সাইলেশিয়া একটি উচ্চমানের গভীরক্রিয় ওষুধ। টিউমার বা দীর্ঘস্থায়ী রোগের জন্য এটি ব্যবহারের আগে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক মাত্রা (যেমন—6x, 30, বা 200) নির্ধারণ করা জরুরি।

Address

101/B Malibag Chowdhurypara Khilgoan
Dhaka
1219

Telephone

+8801713680462

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নেশন হোমিও posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to নেশন হোমিও:

Share