01/07/2025
মানুষ প্রশ্ন করে যে মহান আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা আমাদের কেন পরীক্ষা করেন। তিনি কেন সব মানুষকে মুসলিম করে পাঠাননি? কেন তিনি আমাদের এমন শক্তি দিয়েছেন, যা দ্বারা আমরা পাপ কাজ করতে পারি এবং জাহান্নামে যাই?
কোরআনের অনেক জায়গায় বলা আছে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ যদি চাইতেন, তাহলে তিনি সবাইকে মুসলিম বানিয়ে পাঠাতে পারতেন। অর্থাৎ তিনি চাইলে সবাইকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী বানাতে পারতেন।
আল্লাহ বলেন- ‘তিনি (আল্লাহ) মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম’। (সুরা মুলক, আয়াত ২)
ব্যাপারটা এমন যে, "আমরা স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করি, এরপর বিভিন্ন পরিক্ষা দেই। কিন্তু শিক্ষক কেন এসব পরীক্ষা নেন? তিনি সবাইকে কেন পাশ করিয়ে দেন না’?
শিক্ষক যখন ছাত্রকে পড়ান, তখনি তিনি বুঝতে পারেন, কে পাশ করবে, আর কে ফেল! কিন্তু তারপরেও একটা পরীক্ষা নিতে হয়। নাহলে খারাপ ছাত্র ও ভালো ছাত্রের কাতারে চলে আসবে। তখন যে ছাত্র সার বছর পরিশ্রম করে, রাত জেগে পড়াশোনা করলো, সে যদি স্যারকে প্রশ্ন করে, আপনি কেন এই ছাত্রকে আমার পাশে রেখেছেন, যে পড়াশোনা করেনি, খেলাধুলা করেছে, হাসি তামাশা করে সময় বরবাদ করেছে, তখন স্যার কী জবাব দেবেন? এটা কি সেই ভালো ছাত্রের প্রতি অন্যায় হবে না?
তাহলে এখন মহান আল্লাহ আমাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন এবং আমরা এই দুনিয়ায় আসার পূর্বে তিনি আমাদের জিজ্ঞাস করেছেন যে তোমাদের মধ্যে কে কে মানুষ হতে চাও? যদি মানুষ না হতে চাও তাহলে তোমাকে এমনিতেই পাশ করিয়ে দেয়া হবে। তুমি চাইলে পর্বত হতে পারো, তারা মুসলিম। গাছ মুসলিম, অন্যান্য প্রাণীও মুসলিম, ফেরেস্তারাও মুসলিম।
মুসলিম মানে তারা,যারা তাদের ইচ্ছাশক্তি আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছে।
আমরা আল্লাহর কাছে এই প্রতিজ্ঞা করেই এসেছি যে, আমরা পরীক্ষা দিব এবং নিজেকে সব সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করব।
তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন- আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? উত্তরে আমরা সবাই বলেছিলাম হ্যাঁ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনিই আমাদের প্রতিপালক।
এর কারণ শেষ বিচারের দিন কেও যেন বলতে না পারে যে আমি এই সত্য সম্পর্কে অবহিত ছিলাম না। যেহেতু আমরা স্বেচ্ছায় পরিক্ষা দিব বলে মেনে নিয়েছি, তাই আমরা এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
এখন যদি আল্লাহ সবাইকে জান্নাতে প্রেরণ করেন, তাহলে দুনিয়াতে যে ভালো ছিল, সে বলবে- ‘আমি আসলেই একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ ছিলাম। আমি ডাকাতি করিনি, আমি সৎ ছিলাম’।
বিপরীতে যে মানুষটা খারাপ অথবা ডাকাত ছিলো, সেও যদি জান্নাতে থাকে, তাহলে দুনিয়ার জীবনে সৎ থাকা লোকটি আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবে- "আপনি কেন এই ব্যাক্তিকে জান্নাত দিয়েছেন"?
তাই মহান আল্লাহ কোরানের ৪ নম্বর সুরা নিসার ৪০ নং আয়াতে বলেছেন-
"তিনি কখনো নূন্যতম অবিচারও করেননা"।
অতএব মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল।
তিনি আমাদের সুযোগ দেন,ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করেন। মহান আল্লাহ তাআলা জ্বীন এবং মানুষকে শুধুমাত্র তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তার ইবাদাত বলতে বোঝায় তার সমস্ত নির্দেশ পালন করা।
আমরা যদি তার নির্দেশ পালন করি তাহলে আমরা পাশ করবো। জান্নাতবাসী হব… অন্যথায় ভয়াবহ জাহান্নামে নিপতিত হতে হবে।