30/07/2020
হৃদরোগীদের কোরবানি ঈদের ডায়েট
ঠিক দুই দিন পরই মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম উৎসব, পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য কোরবানির পশুকে উৎসর্গ করা হয় এই ঈদে। প্রায় অনেকেই এই সময়টায় অতিরিক্ত মাত্রায় গরু বা খাসির মাংস খেয়ে মারাত্মক সব রোগের দিকে ধাবিত হন অথবা রোগের মাত্রা বাড়িয়ে ফেলেন। তাই এই সময়টায়ও ডায়েট ভুলে খাওয়া দাওয়া করলে চলবে না। ত্যাগের মহিমায় আলোকিত হয়ে ঈদ উদযাপন করুন এবং নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন। উৎসবের আমেজ ধরে রাখতে ঘরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি মুখরোচক খাবার খাবেন।
গরু এবং খাসির মাংসে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত চর্বি এবং উচ্চ মাত্রার প্রোটিন থাকে। তাই হৃদরোগী এবং কিডনি রোগীদের লাল মাংস না খাওয়াটাই ভালো। তবে, কোরবানি ঈদে খেতে চাইলে অবশ্যই নিম্নোক্ত নির্দেশিকা মেনে শুধুমাত্র ঈদের দিন পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করুন।
১। মাংসের দৃশ্যমান চর্বি সম্পূর্ণ কেটে ফেলে দিন। এর পর ছোট করে টুকরা করে নিন।
২। এরপর মাংসগুলোকে ভাপানো, রোস্ট বা গ্রীল করে চর্বি ঝড়িয়ে ফেলে দিতে হবে। একটি বড়পাত্রে পানি ফুটন্ত সিদ্ধ করে মাংসগুলো দিয়ে ৮-১০ মিনিট রেখে পানিটা ছেঁকে ফেলে দিতে হবে। এতে মাংসের ভিতরের চর্বি প্রায় অনেকটা বের হয়ে যাবে। এরপর বিনাতেলে রান্না, বেক অথবা গ্রিল করে নিন। অবশ্যই মাংস যাতে সুসিদ্ধ হয় তা নিশ্চিত করুন।
৩। মাংসের সাথে বাঁধাকপি বা অন্য যে কোন সবজি দিয়ে রান্না করে খেলে চর্বির মাত্রা তুলণামূলকভাবে কম গ্রহণ করা হয়।
৪। অবশ্যই সাথে বিভিন্ন রঙের সবজির সালাদ গ্রহণ করুন।
ঈদের দিন যে কোনো খাবার একবারে বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প পরিমাণে ৫-৬ ভাগে সারাদিন ভাগ করে খান। এতে করে খাবার হজমে সুবিধা হবে। ঈদের পর ডায়েটিশিয়ানের সাথে সাক্ষাৎ করে খাবার তালিকা ঠিক করে নিন। সবাই সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন। সবাইকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা রইলো।
শম্পা আক্তার
সিনিয়র পুষ্টিবিদ
সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশ