10/09/2026
গরম গরম জিলাপি দেখলেই অনেকের জিভে পানি চলে আসে। মিলাদ, দোয়া মাহফিল কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে জিলাপি যেন একেবারেই পরিচিত একটি খাবার। কিন্তু এই পরিচিত মিষ্টি খাবারটি খাওয়ার আগে আমরা কি কখনো ভেবে দেখি- এটি কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং এতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে?
বিশেষ করে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত মিষ্টি ও তেলে ভাজা খাবার কতটা উপযুক্ত, সেটি অবশ্যই বিবেচনা করা প্রয়োজন। অনেকেই জানেন খাবারটি স্বাস্থ্যকর নয়, তারপরও অনুষ্ঠানের পরিবেশে বা লোভ সামলাতে না পেরে খেয়ে ফেলেন।
জিলাপি তৈরিতে ময়দা, চিনি ও তেলের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, একই তেল দীর্ঘসময় ধরে বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহার করা হলে তেলের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে এবং অক্সিডেশনের ফলে বিভিন্ন ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে। তাই একই তেলে বারবার ভাজা খাবার নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো অভ্যাস নয়।
আরেকটি বিষয় হলো জিলাপির অতিরিক্ত চিনির পরিমাণ। জিলাপি সাধারণত ঘন চিনির সিরায় ডুবিয়ে পরিবেশন করা হয়। ফলে অল্প পরিমাণ জিলাপি খেলেও শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিনি ও ক্যালরি যোগ হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য এ ধরনের খাবারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
জিলাপির রং ও উপকরণ নিয়েও সচেতন থাকা জরুরি। খাবারে অনুমোদিত নয় এমন রং বা নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা হলে তা অবশ্যই জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই শুধু দেখতে আকর্ষণীয় হলেই কোনো খাবার নিরাপদ- এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
আর একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো- গরম জিলাপি খেলেই মাইগ্রেন ভালো হয়ে যায়, শরীর দ্রুত মোটা হয়ে যায় কিংবা এটি বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যকর শক্তির উৎস। এসব দাবির পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং জিলাপি মূলত উচ্চ চিনি ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত একটি মিষ্টি, তাই এটিকে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
মসজিদ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তবারক হিসেবে কোনো খাবার দেওয়া হলে সেটি নিয়ে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কোনো খাবার পবিত্র স্থানে পরিবেশন করা হচ্ছে বলেই খাবারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ বা স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না।
তাই জিলাপিকে ‘বিষ’ বা ‘সবচেয়ে ক্ষতিকর খাবার’ বলে আতঙ্কিত করার পরিবর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি, নিরাপদ উপাদান ব্যবহার করা এবং পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা।
স্বাস্থ্য সচেতনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো: খাবারকে অন্ধভাবে ভয় নয়, আবার অন্ধভাবে বিশ্বাসও নয়- জানুন, যাচাই করুন এবং তারপর সিদ্ধান্ত নিন।