22/11/2016
হায়-রে মানবতা,হায়-রে মানবাধিকার,কোথায় যাবে রোহিংগা মুসলিমারা,কার কাছে বিচার ই বা পাবে????????????????????????????????
ফ্যাক্ট-১: মিয়ানমারে চলমান ‘এথনিক ক্লিনজিং’-এর তীব্র নিন্দা জানাই।
ফ্যাক্ট-২: পৃথিবীর যে কোন ভৌগলিক সীমারেখায় (যে কোন দেশের অভ্যন্তরে বা অান্তঃদেশীয়) শুধু সংখ্যায় কম হবার কারণে, যে কোন ধর্মের, যে জাতির উপর অত্যাচার অার নিপীড়নের বিরোদ্ধে নিন্দা জানাই। সংখ্যায় কম হওয়া কোন অপরাধ নয়, অথচ অাজকের বাস্তবতা এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যেন এটা জন্মগত অপরাধ।
ফ্যাক্ট -৩: যখন কোন দেশের অভ্যন্তরে বা অান্তঃদেশীয় সীমানায় এথনিক ক্লিনসিং সংগঠিত হয়, তখন প্রত্যেক্ষ বা পরোক্ষভাবে সে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোও জড়িত। রাষ্ট্রীয় পেটুয়াবাহিনী দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় সবচেয়ে বেশি। অার এসব ঘটনায় সরকার ও রাজনৈতিক মহলের মৌন সম্মতিও থাকে। এ কারণে মিয়ানমারের ঘটনার দায় অং সান সুচি অার তাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এড়িয়ে যেতে পারে না। মিয়ানমার রাষ্ট্রটাই সরকার গঠন করেছে সেনাবাহিনী বুকে নিয়ে। অর্থাৎ, রাষ্ট্র পরিচালনার বহিরাবরণ যা-ই হোক, মেরুদণ্ড হলো সেনাবাহিনী। যে কোন রাষ্ট্রীয় পেটুয়াবাহিনী অার সাধারণ অামজনতা এক নয়। সেনাবাহিনীর শ্লোগানে সমর, শান্তি অার অাদর্শের কথা থাকলেও, বিশ্বরাজনীতি অার দেশে দেশে যুদ্ধের ইতিহাস বলে এরাই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। মিয়ানমারেও তাই। মিয়ানমারের সাধারণ মানুষেরা অামাদের দেশের সাধারণ মানুষের মতই। মিডিয়া রিপোর্টে বারবার অভিযোগ এসেছে সামরিক বাহিনীর প্রত্যেক্ষ অংশগ্রহণে সেখানে এথনিক ক্লিনসিং চলছে। তাই, সমস্ত বার্মিজ জাতিকে ও সাধারণ মানুষকে দোষ দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ না ছড়িয়ে অাসল অপরাধীদের বিরুদ্ধেই অামাদের কথা বলা উচিত।
ফ্যাক্ট -৪: মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধন অার অামাদের মুক্তিযুদ্ধকে যারা তুলনা করছেন, তাদের প্রতি সম্মান নিয়ে বলছি, এটা না-লায়েক চিন্তা-ভাবনা। একটা রাষ্ট্রের জন্মযুদ্ধকে যে কোন ঘটনার সাথে প্রতিতুলনা করতে করতে সেই রক্তক্ষয়ী মহান সংগ্রামের মহত্ব ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যায়, তত্ত্বগত দিক থেকেও এমনটি জানা যায়। ফলে এখানে বুঝার বিষয় হলো, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যখন অামাদের দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছিল ১৯৭১ এ, অামেরিকা যখন পাকিস্তানেরর পক্ষে হাওয়া দিয়েছিল, তখনো পাকিস্তান কিংবা অামেরিকাতে এমন সাধারণ মানুষজনের অস্তিত্ব ছিল যারা ছিল যুদ্ধের বিপক্ষে, শান্তির পক্ষে। এখনো ভারত পাকিস্তান অান্তঃদেশীয় বৈরী সম্পর্কের বলি সাধারণ মানুষ, অথচ সাধারণ মানুষ কখনোই ধ্বংসযজ্ঞ চায় না। শান্তি চায়। এসব উদাহরণ থেকে এটাই বলতে চাইছি, প্রতিটি হত্যাযজ্ঞের অালাদা অালাদা ধরণ, কারণ, মাত্রা থাকে। তুলনা করলে অাসল চিত্র লুকিয়ে পড়ে। প্রতিটি হত্যাযজ্ঞের বলি সাধারণ মানুষ, অার মূল ভিলেন রাষ্ট্রীয় পেটুয়াবাহিনী। ফলে অাসাদের ঘৃণা হোক সেই পেটুয়াবাহিনীর বিরোদ্ধে, কোন দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিও না।
ফ্যাক্ট -৫: কেউ কি দয়া করে অামাকে বুঝিয়ে বলবেন কী করে নোবেল কাড়িয়া লইয়া রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ করা সম্ভব?
প্রতিবেদক এবং প্রতিবাধকারী:
শেখ কামাল হোসাইন,সাধারন সম্পাদক,গুলশান থানা শাখা,
জাতীয় মানবাধিকার ফাউন্ডেশন,গুলশান-২,ঢাকা-১২১২,বাংলাদেশ.
মোবাইল # +8801730 200 700.
Email:[email protected]
শেখ কামাল হোসাইন.
বিশেষ প্রতিবেদক,বিডিনিউজডেক্স.কম