26/06/2026
আপনারা অনেকেই জানেন, আমরা অনেক আগেই এই গ্রুপে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইবে ড্রপশিপিংকে কেন্দ্র করে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তোলা।
এই লেখাটি মূলত তাদের জন্য, যারা বাস্তবভাবে উপার্জন করতে চান। যারা শুধু তর্ক-বিতর্ক বা “আলফা-সিগমা” আলোচনা নিয়েই ব্যস্ত, এই লেখাটি তাদের জন্য নয়।
আমরা শুরুতে ২০,০০০ টাকা বিনিয়োগ নিয়ে একটি পাইলট প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছিলাম। সেই প্রোগ্রামে আমরা ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করি। তবে একটি বড় সীমাবদ্ধতা ছিল-আমাদের পর্যাপ্ত ডেডিকেটেড ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিল না। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা একটি দক্ষ কোর টিম তৈরির লক্ষ্যে ড্রপশিপিং ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু করি।
গত দুই বছরে ইবের নীতিমালায় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বাংলাদেশ থেকে তৈরি হওয়া অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের শিপিং লোকেশন ব্যবহার কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া।
এই পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করে আমরা সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করেছি। দীর্ঘ সময়ের গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখন আমরা নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আবারও ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছি। চাইলে আপনিও এই উদ্যোগের অংশ হতে পারবেন।
ড্রপশিপিং ব্যবসার কিছু উল্লেখযোগ্য সুবিধা-
১। বাংলাদেশে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ।
২। তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকির একটি ব্যবসায়িক মডেল। সঠিকভাবে পরিচালিত হলে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক কম।
৩। মাসিক লাভ বিনিয়োগের ১০-১৫%। এবং ভবিষ্যতে আরো বাড়ার সমূহ সম্ভাবনা।
৪। ভবিষ্যতে আপনার নিজস্ব কোনো পণ্য থাকলে আমরা সেটিও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বিক্রির সুযোগ তৈরি করতে পারব।
আমাদের ড্রপশিপিং মডেল-
১। আমাদের প্রতিটি ইবে অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্র অথবা যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস অ্যাকাউন্ট।
২। বর্তমানে eBay এবং Etsy- এই দুটি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করা হবে।
৩। আপনার নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে অতিরিক্ত ঝামেলা থাকবে না।
৪। প্রতি মাসে নিশ্চিত ১০-১৫% লভ্যাংশ পাবার সুযোগ (যেহেতু এটা ব্যবসা, তাই এখানে লাভের পরিমান আপ-ডাউন করবে)
৫। আপনার কোন লস বেয়ার করতে হবে না। যদিও এখানে লসের তেমন সুযোগ নেই।
৬। এটি ড্রপশিপিং ও স্টকভিত্তিক বিক্রয়ের সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড মডেল। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগও বেশি।
বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য-
১। এই মডেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য স্টক করা হবে। তাই ন্যূনতম বিনিয়োগ ১ লক্ষ টাকা।
২। ব্যবসা পরিচালনা শুরু হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় থেকে মুনাফা বণ্টন করা হবে।
৩। উপযুক্ত চুক্তিপত্র এবং ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ায় অংশীদারিত্ব সম্পন্ন করা হবে।
৪। লং-টার্ম এবং শর্ট-টার্ম উভয় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে।
সবশেষে একটি কথা।
পুঁজি শুধু অর্থ নয়, এটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। আর সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য্য ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত ব্যবসাই দীর্ঘমেয়াদে প্রকৃত সম্পদ তৈরি করে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে নিজের আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করার দিকেই মনোযোগ দিন।