28/08/2026
বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন, আল্লাহর রহমত ও বরকতের পথে এগিয়ে যান।
জীবনে সফলতা পাওয়ার জন্য আমরা কত কিছুই না করি। দিন-রাত পরিশ্রম করি, নানা পরিকল্পনা করি, বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করি। অথচ এমন একটি মহান আমল রয়েছে, যা আল্লাহর ক্ষমা লাভের পাশাপাশি তাঁর রহমত, বরকত ও কল্যাণের দরজা খুলে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম।সেই আমল হলো বেশি বেশি ইস্তিগফার করা।
আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ (আ.)-এর বক্তব্য তুলে ধরে বলেন:
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا
يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا
وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ
অর্থ:আমি বলেছিলাম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন। (সূরা নূহ: ১০–১২)
এই আয়াতগুলো আমাদের শেখায়, ইস্তিগফার শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার বিষয় নয়। বরং এটি আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের একটি মহান মাধ্যম।
রাসূলুল্লাহ ﷺ কত বেশি ইস্তিগফার করতেন?
আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ ছিলেন নিষ্পাপ। তারপরও তিনি উম্মতকে ইস্তিগফারের শিক্ষা দিতে নিজে নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার করতেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ، فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ
হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো। নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন তাঁর কাছে একশ বার তওবা করি।(সহিহ মুসলিম: ২৭০২)
যিনি ছিলেন আল্লাহর প্রিয় রাসূল ﷺ, তিনিই যখন প্রতিদিন এত বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করতেন, তখন আমাদের মতো গুনাহে জড়িয়ে পড়া মানুষের জন্য ইস্তিগফারের কত বেশি প্রয়োজন, তা ভেবে দেখা উচিত।
ইস্তিগফারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত
হাদিসে এসেছে:
مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ، جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا، وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
অর্থ:যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের অভ্যাস বানিয়ে নেয়, আল্লাহ তার প্রত্যেক সংকট থেকে বের হওয়ার পথ করে দেন, প্রত্যেক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।
:: সুনান আবু দাউদ: ১৫১৮
::সুনান ইবনু মাজাহ: ৩৮১৯
::মুসনাদ আহমদ: ২২৩৪
তাই জীবনে যখন সংকট আসে, দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরে, রিজিকে সংকীর্ণতা অনুভব হয় কিংবা বিভিন্ন সমস্যা একের পর এক সামনে আসতে থাকে, তখন আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল হওয়া উচিত,সুতরাং আজ থেকেই শুরু করুন গুরুত্বপূর্ণ আমলটি।
🛑আপনি চাইলে খুব সহজ একটি ইস্তিগফার দিয়ে নিয়মিত আমল শুরু করতে পারেন:
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ:আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি।
অর্থ:আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছেই তওবা করি।
প্রতিদিন নিজের সুবিধামতো সময় বের করে অন্তত ১০০ বার ইস্তিগফার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এটি কোনো কঠিন আমল নয়। হাঁটতে হাঁটতে, কাজের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়েও ইস্তিগফার করা যায়।
ইস্তিগফারকে কোনো দুনিয়াবি ফল পাওয়ার যান্ত্রিক পদ্ধতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়,ইস্তিগফারের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং তাঁর রহমত লাভের চেষ্টা করা।
আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করলে মানুষের জীবনে কল্যাণের পথ সহজ হতে পারে, সংকট থেকে উত্তরণের দরজা খুলে যেতে পারে এবং রিজিকে বরকত আসতে পারে।
তাই আজ থেকেই একটি অভ্যাস তৈরি করুন
কম কথা, বেশি ইস্তিগফার।
কম অভিযোগ, বেশি তওবা।
কম দুশ্চিন্তা, বেশি আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।
হয়তো আপনার জীবনের বড় কোনো পরিবর্তনের শুরু হবে এই ছোট্ট আমলটির মাধ্যমেই।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا
হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের তওবা কবুল করুন। আমিন।
©️Prophetic Remedy