10/09/2026
ইশিতা সবেমাত্র হাইস্কুলের চৌকাঠ পেরিয়েছে, চোখে তার নানা রঙিন স্বপ্ন। একদিন কোনো একটি কারণে তার মা তাকে বকা দেন। তাদের বাসায় সিলিং থেকে ঝুলানো দুটি রিং ছিল, যেগুলোতে তার ভাই প্রতিদিন এক্সারসাইজ করত। সেই দিন অভিমান ও ক্ষোভে ইশিতা ওই রিংয়ের ভেতর দিয়ে ওড়না পেঁচিয়ে টুল থেকে লাফ দেয়। গলায় ওড়না চাপ লাগার সঙ্গে সঙ্গেই সে তীব্র কষ্ট অনুভব করে এবং উপলব্ধি করে যে সে বাঁচতে চায়, এই পৃথিবীর আলো আরও কিছুদিন দেখতে চায়।
আসলে এই পৃথিবীতে সবাই বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু কখনো কখনো জীবনের তীব্র কষ্ট, অভিমান, হতাশা কিংবা একাকিত্ব মানুষকে ভুল পথের দিকে পা বাড়াতে বাধ্য করে। কেউ সেই ভুল থেকে ফিরে আসে, কেউ বা হারিয়ে যায় অতল গহ্বরে।
একটু ভাবুন...
আপনার আশেপাশের মানুষগুলোকে কি সত্যিই আপনি ভালো করে দেখছেন?
যে মানুষটা প্রতিদিন হাসছে, গল্প করছে, স্বাভাবিকভাবে জীবন কাটাচ্ছে, সে কি সত্যিই ভালো আছে?
হয়তো না।
কখনো কখনো একজন মানুষ বাইরে থেকে একদম স্বাভাবিক থাকলেও, ভেতরে ভেতরে প্রতিদিন নিজের সঙ্গে এক কঠিন যুদ্ধে লড়ে। তাই কাউকে বিচার করার আগে একটু থামুন, তার কথা মন দিয়ে শুনুন এবং তার কষ্টকে ছোট করে দেখবেন না।
শুধু “সব ঠিক হয়ে যাবে” না বলে তাকে বলু, "তুমি একা নও, আমি তোমার পাশে আছি।"
আপনার কয়েক মিনিট সময় দেওয়া, একটি আন্তরিক কথা কিংবা মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনা, তার জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। মানসিক সমস্যাকে কখনো অবহেলা করবেন না। প্রয়োজনে পরিবার, কাছের মানুষ এবং যোগ্য চিকিৎসকের সহায়তা নিন।
আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কেউ যদি আত্মহত্যার মন-মানসিকতায় বা তীব্র মানসিক কষ্টে থাকে, তাকে একা না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া জরুরি।
আর আপনি যদি নিজেই কোনো কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যান, একা থাকবেন না। কারও সঙ্গে কথা বলুন এবং সাহায্য চান। কারন জীবন একটাই ।
হোমিও কথন
একটি সুস্থ জীবনের বার্তা