Ruqyah Syariah Center -রুকিয়াহ শারিয়াহ সেন্টার

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • Ruqyah Syariah Center -রুকিয়াহ শারিয়াহ সেন্টার

Ruqyah Syariah Center -রুকিয়াহ শারিয়াহ সেন্টার Ruqyah Syariah Center offers support and healing for spiritual, emotional and mental distress based on Qur'an and Sunnah remedies. Male & Female consultant

Male & Female consultants are available

আল্লাহ কখনো তাঁর মুমিন বান্দাকে একা ছেড়ে দেন না। কখনো তিনি বিপদ দূর করে দেন, কখনো বিপদের মধ্যেই বান্দাকে সাহায্য করেন, আ...
19/08/2026

আল্লাহ কখনো তাঁর মুমিন বান্দাকে একা ছেড়ে দেন না। কখনো তিনি বিপদ দূর করে দেন, কখনো বিপদের মধ্যেই বান্দাকে সাহায্য করেন, আবার কখনো দেরি করেন বান্দার ঈমান, সবর ও তাওয়াক্কুলকে পরিপক্ব করার জন্য। কারণ আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে, কীভাবে আসবে এবং কোন পথে আসবে, তা আমাদের নয়, তাঁর হিকমতের বিষয়।

আল্লাহ বলেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে রিজিক দেন এমন জায়গা থেকে, যা সে কল্পনাও করে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।”
[আল কুরআন, সূরা আত-তালাক, ৬৫/২–৩]

তাই বিপদে পড়ে আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, আল্লাহ কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন তা আমরা দেখতে না পেয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। অথচ ঈমানের দাবি হলো, সমাধানের পথ চোখে না দেখলেও সমাধানকারীর ওপর আস্থা রাখা।

আল্লাহ বলেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।”[আল কুরআন, সূরা আত-তালাক, ৬৫/৩]

মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সামনে যখন সমুদ্র, পেছনে ফেরাউনের বাহিনী, তখন তাঁর সঙ্গীরা বলেছিল:

“আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম!”

মূসা (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন:

“কখনোই নয়! নিশ্চয়ই আমার রব আমার সঙ্গে আছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।”
[আল কুরআন, সূরা আশ-শু‘আরা, ২৬/৬১–৬২]

এটাই তাওয়াক্কুল। পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও আল্লাহর ব্যাপারে হৃদয়ে সন্দেহ না রাখা।

তাহলে আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক করে দেন না কেন?

কারণ দুনিয়া পরীক্ষার জায়গা।

আল্লাহ বলেন:

“আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি সুসংবাদ দিন সবরকারীদের।”
[আল কুরআন, সূরা আল-বাকারা, ২/১৫৫]

আর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত হন নবীগণ, তারপর যারা তাদের নিকটবর্তী।”
[আল হাদীস, জামে‘ আত-তিরমিজি, হা/২৩৯৮]

অতএব বিপদ আসা মানেই আল্লাহ আপনাকে ছেড়ে দিয়েছেন, এমন নয়। বরং কখনো কখনো বিপদই আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার ঈমান ও মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম হয়ে আসে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“মুমিনের ব্যাপারটি আশ্চর্যজনক! তার সব অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর… সুখ পেলে সে শুকরিয়া করে, তা তার জন্য কল্যাণকর; আর বিপদে পড়লে সে সবর করে, সেটিও তার জন্য কল্যাণকর।”
[আল হাদীস, সহিহ মুসলিম, হা/২৯৯৯]

সাহায্য কখনো দেরি হয়, কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্তে ভুল হয় না

কখনো পরীক্ষা এত দীর্ঘ হয় যে মনে হয়, “আর কত?” কিন্তু মুমিনের দায়িত্ব হলো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া।

আল্লাহ বলেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত থেকে কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউ নিরাশ হয় না।”
[আল কুরআন, সূরা ইউসুফ, ১২/৮৭]

এমনকি যখন বিপদ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখনই আল্লাহর সাহায্য সবচেয়ে কাছাকাছি হতে পারে। আল্লাহ বলেন:

“তারা বিপর্যস্ত ও কষ্টগ্রস্ত হয়েছিল এবং এমনভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল যে, এমনকি রাসূল ও তাঁর সঙ্গে মুমিনরা বলে উঠেছিল, ‘আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?’ জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।”
[আল কুরআন, সূরা আল-বাকারা, ২/২১৪]

সুতরাং অনিশ্চয়তা যত বাড়ে, মুমিনের তাওয়াক্কুল তত গভীর হতে পারে। কারণ তখন সে নিজের শক্তি, পরিকল্পনা ও সামর্থ্যের ওপর নয়, আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে শেখে।

পরীক্ষার পর যে অর্জন, তা অনেক সময় বিপদের চেয়েও মূল্যবান

একজন বান্দা যখন দীর্ঘ পরীক্ষার পর আল্লাহর সাহায্য প্রত্যক্ষ করে, তখন তার অন্তরে জন্ম নেয় এমন ইয়াকিন, তাওয়াক্কুল, সবর ও আল্লাহর প্রতি মুহাব্বত, যা হয়তো স্বাচ্ছন্দ্যের জীবনে কখনো অর্জিত হতো না।

আল্লাহ বলেন:

“হতে পারে তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ কর অথচ তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে; আর হতে পারে তোমরা কোনো বিষয় পছন্দ কর অথচ তাতে তোমাদের জন্য অকল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।”
[আল কুরআন, আল-বাকারা, ২:২১৬

তাই আজ যে বিষয়টি আপনার কাছে কষ্টকর, হয়তো সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় ঈমানি সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে।

শেষ পর্যন্ত মুমিনের বিশ্বাস একটাই:

“আমি জানি না আল্লাহ কীভাবে আমাকে উদ্ধার করবেন। কিন্তু আমি জানি, তিনি চাইলে এক মুহূর্তেই সবকিছু বদলে দিতে পারেন। তাই আমি পরিস্থিতির দিকে নয়, পরিস্থিতির মালিকের দিকে তাকাব।”

আর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি:

“নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে।”[আল কুরআন, সূরা আশ-শারহ, ৯৪/৫–৬]

তাই দৃঢ় থাকুন। সবর করুন। দোয়া ছাড়বেন না। তাওয়াক্কুল হারাবেন না। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না।

কারণ আপনি যখন জানেন না সামনে কী আছে, তখনই তাওয়াক্কুলের প্রকৃত পরীক্ষা। আর আপনি যখন আল্লাহর ওপর ভরসা করে অটল থাকেন, তখন আপনার হৃদয়ের ইয়াকিনই হয়ে উঠতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন।

যদি আপনি বারবার এমন স্বপ্ন দেখেন যেখানে নিজেকে যৌনভাবে হেনস্তার শিকার হতে দেখেন, এমন কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেন যা...
03/08/2026

যদি আপনি বারবার এমন স্বপ্ন দেখেন যেখানে নিজেকে যৌনভাবে হেনস্তার শিকার হতে দেখেন, এমন কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেন যাকে নিয়ে কখনো কল্পনাও করেননি, এমনকি কখনো মাহরাম আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে বিব্রতকর অবস্থায় দেখেন, অথবা কোনো অচেনা, ভয়ংকর আকৃতির সত্তা জোরপূর্বক আপনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে বলে অনুভব করেন, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করবেন না।

বিশেষ করে যদি এসব স্বপ্নের পর ঘুম থেকে উঠে শরীর ব্যথা অনুভব করেন, শরীরে আঁচড় বা আঘাতের মতো দাগ দেখতে পান, ব্যক্তিগত অঙ্গে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভব করেন, অথবা নারীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক সাদাস্রাব দেখা দেয়, কিংবা বারবার স্বপ্নে সন্তান জন্ম দেওয়া বা সন্তান নিয়ে খেলাধুলা করার মতো বিষয় দেখতে পান, তাহলে একজন বিশ্বস্ত রাকীর পরামর্শ নিতে পারেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
যারা পর্নোগ্রাফির আসক্তিতে আক্রান্ত (নাউযুবিল্লাহ), তাদের উচিত সর্বপ্রথম এই গুনাহ থেকে আন্তরিকভাবে তাওবা করা, হারাম অভ্যাস সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা এবং এরপর প্রয়োজন হলে শরিয়াহসম্মত রুকইয়াহর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করা।
01972668345

অনেক ভণ্ড কবিরাজ ও প্রতারক রাকি রোগীদের ভয় দেখিয়ে, অদৃশ্য জগত সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করে এবং বিভিন্ন শিরকি ও কুসংস্কারপূর...
27/07/2026

অনেক ভণ্ড কবিরাজ ও প্রতারক রাকি রোগীদের ভয় দেখিয়ে, অদৃশ্য জগত সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করে এবং বিভিন্ন শিরকি ও কুসংস্কারপূর্ণ কাজের নির্দেশ দিয়ে ইমান ও অর্থ হাতিয়ে নেয়। এসব কথার অধিকাংশেরই কুরআন, সহিহ সুন্নাহ বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

তারা প্রায়ই বলে থাকে:

❌ “জ্বীন রোগীকে নিয়ে যাবে।”

❌ “জ্বীন রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে।”

❌ “তোমার শরীরে হাজার, লাখ বা কোটি জ্বীন আছে।”

❌ “জ্বীন শরীরে বংশবিস্তার করেছে।”

❌ “জ্বীন তোমাকে বিয়ে করেছে।”

❌ “তোমার সন্তানদের জ্বীন নিয়ে যাবে।”

❌ “উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিম দিক থেকে যাদু করা হয়েছে।”

❌ “আমি জ্বীনকে জবাই করে ফেলেছি।”

❌ “আমি জ্বীনকে বন্দি করে রেখেছি।”

❌ “তোমার জ্বীন খুব শক্তিশালী, আরও বড় জ্বীন ডেকে আনতে হবে।”

❌ “জ্বীনের সর্দারকে ডেকে সমস্যার সমাধান করতে হবে।”

❌ “গরু বা ছাগল দিতে হবে।”

❌ “জ্বীনকে খাবার দিতে হবে।”

❌ “অমাবস্যা বা পূর্ণিমায় নির্দিষ্ট স্থানে মিষ্টি, আগরবাতি বা মোমবাতি রেখে আসতে হবে।”

❌ “তিন রাস্তা বা সাত রাস্তার মোড়ে কিছু ফেলে আসতে হবে।”

❌ “পানিতে কিছু ভাসিয়ে দিতে হবে।”

❌ “কোনো নির্দিষ্ট গাছে কিছু বেঁধে বা রেখে আসতে হবে।”

❌ “তাবিজ ঝুলাতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।”

❌ “বাড়ি বন্ধ করার নামে কিছু পুঁতে রাখতে হবে।”

❌ “কোনো মাজার বা মসজিদে কিছু বেঁধে বা রেখে আসতে হবে।”

❌ “হাত দেখে, পাথর দেখে বা রাশি দেখে সমস্যা নির্ণয় করা হবে।”

❌ “সাত ঘাটের পানি বা সাত জায়গার মাটি এনে দিতে হবে।”

❌ “নিশ্চিতভাবে অমুক ব্যক্তি তোমার ওপর যাদু করেছে।”

মনে রাখুন

কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ হলো আল্লাহর কাছে দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত, সহিহ যিকির ও বৈধ চিকিৎসার সমন্বয়। একজন রাকির কাজ হলো শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ করা, ভয় দেখানো নয়; শিরক ও কুসংস্কারে জড়ানো নয়; অদৃশ্য বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করা নয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শিরক, কুসংস্কার ও প্রতারণা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।


নোট: “জ্বীনকে জবাই করেছি”, “জ্বীনকে বন্দি করেছি”, “জ্বীনকে বিয়ে করেছি” বা “অমুকই যাদু করেছে” ধরনের নিশ্চিত দাবিগুলো গায়েবের বিষয়ে কথা বলা। এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য শরয়ি প্রমাণ নেই। তাই এগুলো থেকে সতর্ক থাকা উচিত।

জ্বিন, যাদু বা বদনজরের মতো সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি যদি আন্তরিকভাবে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে সুস্থ হতে চায়, তাহলে তার জ...
20/07/2026

জ্বিন, যাদু বা বদনজরের মতো সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি যদি আন্তরিকভাবে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে সুস্থ হতে চায়, তাহলে তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং শরিয়তসম্মত উপায় অবলম্বন করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
[আল কুরআন, সূরা আত-তালাক, ৬৫/২-৩]

সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ করণীয়ঃ

১. বিশুদ্ধ ঈমান ও সঠিক আকীদা গ্রহণ

তাওহীদকে শিরকমুক্ত রাখা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা অনুসরণ করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে জুলুম (শিরক) দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদের জন্য এবং তারাই সৎপথপ্রাপ্ত।”
[আল কুরআন, সূরা আল-আন’আম, ৬/৮২]

২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হেফাজত

সালাত মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি। পুরুষদের জন্য যথাসম্ভব মসজিদে জামাতে এবং নারীদের জন্য সময়মতো সালাত আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩. সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন যিকির

রাসূল ﷺ সকাল-সন্ধ্যার যিকিরের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এগুলো আল্লাহর হেফাজত লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

৪. অধিকহারে কুরআন তিলাওয়াত, তাদাব্বুর ও তাফাক্কুর

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।”
[আল কুরআন, সূরা আল-ইসরা, ১৭/৮২]

৫. দোয়া কবুলের সময়গুলোতে বেশি বেশি দোয়া করা

শেষ রাত, সিজদার সময়, আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, ফরজ সালাতের পর এবং অন্যান্য ফযিলতপূর্ণ সময়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও আরোগ্য কামনা করা।

৬. শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ

কুরআনের আয়াত ও সহীহ দোয়ার মাধ্যমে নিজের ওপর নিজে অথবা কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ করা।

৭. সুন্নাহভিত্তিক জীবনযাপন

খাদ্য, পানীয়, পোশাক, ঘুম, যিকির, ইবাদত ও দৈনন্দিন জীবনে রাসূল ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করা।

৮. শরয়ী পর্দা রক্ষা

পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলা এবং মাহরাম-নন মাহরামের বিধান যথাযথভাবে পালন করা।

৯. হারাম ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

গুনাহ শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রভাব বৃদ্ধির একটি কারণ। তাই তওবা, ইস্তিগফার এবং নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা জরুরি।

১০. সবর ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল

পরীক্ষার সময় ধৈর্য ধারণ করা, নিরাশ না হওয়া এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা একজন মুমিনের অন্যতম গুণ।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই আছেন।”
[আল কুরআন, সূরা আল-বাকারা, ২/১৫৩]

রুকইয়াহ ও হিজামার ভূমিকাঃ

শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত একটি বৈধ চিকিৎসা পদ্ধতি। হিজামাও সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত এবং কিছু ক্ষেত্রে হিজামা অত্যন্ত উপকারী।

তবে মনে রাখতে হবে, রুকইয়াহ, হিজামা কিংবা অন্য যে কোনো বৈধ চিকিৎসা কেবল উপায় মাত্র। প্রকৃত আরোগ্যদানকারী একমাত্র আল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“আর আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।”
[আল কুরআন, সূরা আশ-শু’আরা, ২৬/৮০]

একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাঃ

কোনো ব্যক্তি শারীরিক, মানসিক বা স্নায়বিক সমস্যায় ভুগলে রুকইয়ার পাশাপাশি তাকে শারীরিক, স্নায়বিক বা মানসিক রোগেরও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করাও শরিয়তসম্মত এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে উঠে।

শেষকথাঃ

জ্বিন, যাদু বা বদনজরের মতো পরীক্ষার মুখোমুখি হলে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশুদ্ধ তাওহীদ, সালাত, কুরআন, যিকির, দোয়া, তওবা, সবর এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল।

আল্লাহর রহমতে ঈমান, ইবাদত, শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ এবং প্রয়োজনীয় বৈধ চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে একজন মুমিন দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধ আকীদার ওপর অবিচল রাখুন, সকল প্রকার অকল্যাণ থেকে হেফাজত করুন এবং পূর্ণ শিফা দান করুন। আমীন।
01972668345

হে আল্লাহ! যাদু, জ্বীন বা বদনজরে আক্রান্ত সকল মুসলিমকে পূর্ণ শিফা দান করুন। আমীন।যাদু, জ্বীন বা বদনজর যতই কঠিন হোক না কে...
16/07/2026

হে আল্লাহ! যাদু, জ্বীন বা বদনজরে আক্রান্ত সকল মুসলিমকে পূর্ণ শিফা দান করুন। আমীন।

যাদু, জ্বীন বা বদনজর যতই কঠিন হোক না কেন, একজন মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তাঁর ইচ্ছাতেই রোগ আসে, আবার তাঁর ইচ্ছাতেই শিফা আসে।

১. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া নিষেধ

“বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

[আল কুরআন, সূরা আয-যুমার, ৩৯/৫৩]

যদিও এই আয়াত মূলত গুনাহগারদের উদ্দেশে নাযিল হয়েছে, তবে এর শিক্ষা হলো, কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না।

২. আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন

“আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলুন) আমি তো নিকটেই আছি। যে আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।”

[আল কুরআন, সূরা আল-বাকারা, ২/১৮৬]

তাই যাদু, জ্বীন বা বদনজরের কষ্টে ধৈর্য ধরে দোয়া, ইস্তিগফার ও রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে হবে।

৩. কুরআন শিফা

“আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।”

[আল কুরআন, সূরা আল-ইসরা, ১৭/৮২]

এবং আল্লাহ বলেন,

“বলুন, এটি (কুরআন) মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও শিফা।”

[আল কুরআন, সূরা ফুসসিলাত, ৪১/৪৪]

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

“আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি, যার জন্য তিনি শিফাও অবতীর্ণ করেননি।”

[আল হাদীসঃ সহিহ আল-বুখারী, হা/৫৬৭৮]

অতএব, যাদুও একটি পরীক্ষাস্বরূপ বিপদ। এর শিফাও আল্লাহর কাছেই রয়েছে।

আর তিনি ﷺ বলেছেন,

“দোয়া উপকারী, যা বিপদ নেমেছে এবং যা এখনো নামেনি উভয় ক্ষেত্রেই। তাই হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা দোয়াকে আঁকড়ে ধরো।”

[আল হাদীসঃ জামে’ আত-তিরমিযী, হা/৩৫৪৮; সানাদ হাসান]

সালাফদের বক্তব্য

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ ) বলেন,

“শয়তানের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করা।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, ঈমান, যিকির, দোয়া ও কুরআন শয়তানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

[আদ-দা’ ওয়াদ-দাওয়া; ইগাসাতুল লাহফান]

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

“কুরআনের দোয়া, যিকির ও শরয়ি রুকইয়াহ এমন অস্ত্র, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে জাদু ও শয়তানের অনিষ্ট দূর করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।”

[মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া (১৯/৩৫-৪০; ২৪/২৭৭ ইত্যাদি স্থানে রুকইয়াহ ও যিকিরের উপকারিতা আলোচনা করেছেন]

শাইখ আবদুল আজিজ ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

“যাদু, বদনজর ও জ্বীনের কষ্টের চিকিৎসা হলো শরয়ি রুকইয়াহ, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল, বেশি বেশি যিকির ও দোয়া।”

[মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবন বায]

আমাদের করণীয়

* আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা।
* পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করা।
* সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন যিকির নিয়মিত পড়া।
* কুরআন তিলাওয়াত ও শরয়ি রুকইয়াহ অব্যাহত রাখা।
* বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করা।
* হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা।

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।”
[আল কুরআন, সূরা আল-বাকারা, ২/১৫৩]

আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসাদাতা। যাদু যতই কঠিন হোক, তাঁর রহমত, ক্ষমতা ও শিফা তার চেয়েও অনেক বেশি।

হে আল্লাহ! যাদু, জ্বীন ও বদনজরে আক্রান্ত সকল মুসলিমকে পূর্ণাঙ্গ শিফা দান করুন, তাদের ঈমানকে মজবুত করুন এবং সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
01972668345

উত্তর: এ বিষয়ে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই যে মানুষের সাথে থাকা কারীন জ্বীন তার ব্যক্তিগত তথ্...
11/07/2026

উত্তর: এ বিষয়ে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই যে মানুষের সাথে থাকা কারীন জ্বীন তার ব্যক্তিগত তথ্য অন্য মানুষকে পৌঁছে দেয়। তাই এমন বিশ্বাস বা দাবি করা সঠিক নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“বলুন, আসমানসমূহ ও পৃথিবীতে যারা আছে, তারা কেউই গায়েব জানে না, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।”

[আল কুরআন, সূরা আন-নামল, ২৭/৬৫]

এ আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে জ্বীনও গায়েব জানে না।

কারীনের কাজ কী?

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই একজন জ্বীন সঙ্গী (কারীন) নিযুক্ত রয়েছে।”
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার সাথেও?”
তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তবে আল্লাহ আমাকে তার ওপর সাহায্য করেছেন, ফলে সে আমার অনুগত হয়েছে এবং সে আমাকে ভালো ছাড়া কিছুই বলে না।”
[সহীহ মুসলিম]

এ হাদীস থেকে বোঝা যায়, কারীনের কাজ মানুষকে কুমন্ত্রণা ও পাপের দিকে আহ্বান করা। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য অন্যদের কাছে সরবরাহ করা তার কাজ বলে কোনো সহীহ দলিল নেই।

তাহলে জাদুকর বা গণক কিছু তথ্য কীভাবে বলে?

কখনো কখনো তারা:

* মানুষের কাছ থেকেই তথ্য সংগ্রহ করে।
* অনুমান, মনস্তাত্ত্বিক কৌশল বা প্রতারণা ব্যবহার করে।
* কিছু শয়তান পরস্পরের মধ্যে সীমিত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।

কিন্তু এ থেকে কখনোই বলা যাবে না যে “আমার কারীন আমার তথ্য দিয়ে দিয়েছে।” এ দাবির পক্ষে কোনো শরয়ী প্রমাণ নেই।

রুকইয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

বর্তমানে কিছু রাক্বী বা রোগী সামান্য মিল পেলেই বলেন, “তোমার কারীন সব তথ্য অন্য জ্বীনকে বলে দিচ্ছে।” এটি দলিলবিহীন বক্তব্য। আকীদার বিষয় কেবল কুরআন, সহীহ সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। অনুমান, অভিজ্ঞতা বা কাহিনীর ওপর আকীদা প্রতিষ্ঠিত করা বৈধ নয়।

আমাদের করণীয়

* আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা।
* সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন যিকির নিয়মিত পড়া।
* আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া।
* জাদুকর, গণক, তাবিজ ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা।
* কোনো অদ্ভুত ঘটনা ঘটলেই কারীনের ওপর দোষ চাপিয়ে না দিয়ে শরয়ী দলিল অনুসরণ করা।

শেষকথাঃ
“কারীন জ্বীন মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কাউকে দেয়” এই বিশ্বাসের পক্ষে কুরআন বা সহীহ সুন্নাহয় কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। তাই এটিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রচার করা বা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। মুসলিমের কর্তব্য হলো দলিলভিত্তিক আকীদা গ্রহণ করা এবং গায়েবের বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যতটুকু জানিয়েছেন, ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা।
01972668345

রুকইয়াহ করার মূলনীতি হলো কুরআনের আয়াত ও সহিহ দোআ পাঠ করে তাতে হালকাভাবে ফুঁ (نفث) দেওয়া। এটি নবী ﷺ থেকে প্রমাণিত একটি...
09/07/2026

রুকইয়াহ করার মূলনীতি হলো কুরআনের আয়াত ও সহিহ দোআ পাঠ করে তাতে হালকাভাবে ফুঁ (نفث) দেওয়া। এটি নবী ﷺ থেকে প্রমাণিত একটি বৈধ ও সুপরিচিত আমল।

📌 রুকইয়াহর জন্য ব্যবহারযোগ্য বস্তু

* পানি (যমযম হলে উত্তম)
* অলিভ অয়েল
* মধু
* অন্যান্য বৈধ খাবার বা পানীয়

📖 রুকইয়াহ করার পদ্ধতি

১. নিয়ত করুন

আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর নিকট শিফা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে নিয়ত করুন।

২. বস্তুটি সামনে রাখুন

পানি, অলিভ অয়েল, মধু বা যে বৈধ খাদ্যদ্রব্যের উপর রুকইয়াহ করতে চান তা সামনে রাখুন।

৩. নিম্নোক্ত আয়াত ও সূরাগুলো পাঠ করুন

(প্রতিটি ৩ বার বা প্রয়োজনমতো। তবে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাকে আবশ্যক মনে করা যাবে না।)

* أعوذ بالله من الشيطان الرجيم
* بسم الله الرحمن الرحيم
* সূরা আল-ফাতিহা
* আয়াতুল কুরসী (সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৫)
* সূরা আল-ইখলাস
* সূরা আল-ফালাক
* সূরা আন-নাস
* অন্যান্য কুরআনের আয়াত ও সহিহ দোআ

৪. হালকাভাবে ফুঁ (نفث) দিন

আয়াত বা দোআ পাঠের সময় বা শেষে হালকাভাবে ফুঁ দিন। ফুঁয়ের সাথে সামান্য লালার আর্দ্রতা থাকা স্বাভাবিক।

৫. ব্যবহার করুন

* রুকইয়াহকৃত পানি পান করতে পারেন বা গোসলে ব্যবহার করতে পারেন।
* অলিভ অয়েল পান করবেন এবং শরীরে মালিশ করবেন ।
* মধু খেতে পারেন।
* অন্যান্য খাবার বা পানীয় স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন।


📚 এ বিষয়ে দলিল

১. নবী ﷺ ফুঁ দিয়ে রুকইয়াহ করতেন

উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেন:

“রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন অসুস্থ হতেন, তখন তিনি মু’আউয়িযাত (ইখলাস, ফালাক ও নাস) পাঠ করে নিজের উপর ফুঁ দিতেন।”
— সহিহ আল-বুখারী, সহিহ মুসলিম

২. রুকইয়াহতে সামান্য লালার আর্দ্রতা থাকা বৈধ

আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত:

নবী ﷺ কখনো কখনো নিজের লালার সামান্য আর্দ্রতা আঙুলে নিয়ে দোআ পড়তেন।
— সহিহ আল-বুখারী, সহিহ মুসলিম

আলেমগণ বলেন, রুকইয়াহর সময় যে “نفث” করা হয় তা হলো হালকা ফুঁ, যার সাথে অতি সামান্য লালার আর্দ্রতা থাকতে পারে।

৩. কুরআন শিফা

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।”
— আল-কুরআন

আরও বলেন:

“বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও শিফা।”
— আল-কুরআন



🤲 নবী ﷺ এর শেখানো কিছু দোআ

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ:
আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

অর্থ:
“আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্ট বস্তুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”

— সহিহ মুসলিম

بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ

অর্থ:
“আল্লাহর নামে আমি তোমার জন্য রুকইয়াহ করছি, যা কিছু তোমাকে কষ্ট দেয় তা থেকে।”
— সহিহ মুসলিম

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

* শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
* নির্দিষ্ট সংখ্যাকে আবশ্যক বা সুন্নাহর নির্ধারিত সংখ্যা মনে করা যাবে না, যদি তার স্পষ্ট দলিল না থাকে।
* রুকইয়াহ কোনো যাদুকরী প্রক্রিয়া নয়; এটি কুরআন, দোআ এবং আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলের একটি মাধ্যম।
* কুরআন তিলাওয়াত নিজে করা উত্তম, তবে অন্য কেউ পড়েও রুকইয়াহ করতে পারে।
* রুকইয়াহকৃত পানি, মধু বা তেলের মধ্যে নিজস্ব কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নেই; বরং বরকত ও শিফা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।

আল্লাহ তাআলা সকল অসুস্থ মুসলিমকে পূর্ণ শিফা দান করুন। আমীন।

01972668345

রুকইয়াহ (শরিয়তসম্মত ঝাড়ফুঁক) মূলত একটি দ্বীনি চিকিৎসা ও ইবাদত। একে পুঁজি করে যখন বাণিজ্যিক লালসা ও প্রতারণার জাল বিস্...
05/07/2026

রুকইয়াহ (শরিয়তসম্মত ঝাড়ফুঁক) মূলত একটি দ্বীনি চিকিৎসা ও ইবাদত। একে পুঁজি করে যখন বাণিজ্যিক লালসা ও প্রতারণার জাল বিস্তার করা হয়, তখন তা মানুষের ঈমান ও আমল উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফদের অনুসৃত নীতির আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা যাক।

১. পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতা এবং তার সীমা

ইসলামে রুকইয়াহর বিনিময়ে পারিশ্রমিক বা হাদিয়া গ্রহণ করা মূলগতভাবে বৈধ। তবে এর একটি নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত রয়েছে।

হাদিসের দলিল

সহিহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, এক সফরে সাহাবায়ে কিরামের একটি দল সূরা ফাতিহা দ্বারা এক গোত্রপ্রধানের চিকিৎসা করেন। বিনিময়ে তারা এক পাল ছাগল গ্রহণ করেন। পরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করলে তিনি তা অনুমোদন করেন এবং বলেন:

“তোমরা যে সমস্ত জিনিসের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করো, তার মধ্যে আল্লাহর কিতাব (কুরআন) সবচেয়ে বেশি হকদার।”
[সহিহ বুখারী, হা/৫৭৩৭]

শিক্ষণীয় বিষয়

এই হাদিস থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতা প্রমাণিত হয়। কিন্তু লক্ষণীয় যে, সাহাবীগণ রুকইয়াহকে পেশাদার ব্যবসায় রূপ দেননি, কিংবা মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বানাননি।

২. “১০০% গ্যারান্টি” ও অতিরঞ্জিত দাবির নিষেধাজ্ঞা

বর্তমানে কিছু রাক্বী দাবি করেন:

* “১০০% জিন তাড়িয়ে দেব”
* “নিশ্চিত জাদু কাটিয়ে দেব”
* “এক সেশনেই সমস্যার সমাধান”

এ ধরনের দাবি শরিয়তসম্মত নয়। কারণ শিফার মালিক একমাত্র আল্লাহ।

কুরআনের দলিল

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।” [আল কুরআন, সূরা আশ-শু‘আরা: ৮০]

হাদিসের দলিল

রাসূলুল্লাহ ﷺ দোয়া করতেন:

“হে মানুষের রব! কষ্ট দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যকারী। আপনার শিফা ছাড়া আর কোনো শিফা নেই।”[সহিহ বুখারী]

অতএব, রাক্বী কেবল একটি মাধ্যম। শিফা দানকারী একমাত্র আল্লাহ।

৩. মানুষের ভয় ও দুর্বলতাকে পুঁজি করে ব্যবসা করা

কিছু লোক রোগীকে ভয় দেখিয়ে বলে:

* “আপনার ওপর ভয়ংকর জাদু করা হয়েছে”
* “চিকিৎসা না করলে সর্বনাশ হয়ে যাবে”
* “অমুক সংখ্যক সেশন না নিলে মুক্তি নেই”

এর মাধ্যমে অযৌক্তিক অর্থ আদায় করা হয়, যা ইসলামের দৃষ্টিতে জুলুম ও প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত।

কুরআনের দলিল

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।” [আল কুরআন, সূরা আন-নিসা: ২৯]

মানুষের কষ্ট ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ উপার্জন করা শরিয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

৪. সব সমস্যাকে জাদু বা জিনের ঘাড়ে চাপানো

আজকাল অনেক সাধারণ রোগ ও সমস্যাকেও জাদু, জিন বা বদনজরের ফল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যেমন:

* ডিপ্রেশন
* উদ্বেগ (Anxiety)
* থাইরয়েড সমস্যা
* হরমোনজনিত জটিলতা
* পারিবারিক সমস্যা

কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া গায়েব সম্পর্কে অনুমান করার শামিল।

কুরআনের দলিল

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না।”
(সূরা আল-ইসরা: ৩৬)

রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে অসুস্থ হলে বা সাহাবীরা অসুস্থ হলে যেমন রুকইয়াহ করতেন, তেমনি প্রাকৃতিক বা ভেষজ চিকিৎসাও (যেমন: কালোজিরা, মধু, কাপিং বা হিজামা) গ্রহণ করতেন। সব কিছুকে জিন-ভূতের কাজ মনে করা সালাফদের পদ্ধতি ছিল না।

৫. রুকইয়াহর সাথে শিরক ও বিদআতের মিশ্রণ

কিছু ক্ষেত্রে রুকইয়াহর নামে:

* তাবিজ (তামিমা)
* সুতা/তাগা
* লোহা
* রহস্যময় চিহ্ন
* অজ্ঞাত ভাষার লেখা
* বিশেষ ধূপ বা অদ্ভুত বস্তু

ব্যবহার করা হয়।

এসব শরয়ি রুকইয়াহর অন্তর্ভুক্ত নয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি তামিমা (তাবিজ) ঝুলালো, সে শিরক করলো।”[মুসনাদ আহমাদ, হা/১৭৪৫৮; শাইখ আলবানী রহ. সহিহ বলেছেন)

সহিহ রুকইয়াহর ভিত্তি হলো কুরআন, সহিহ দোয়া এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলী।

সালাফদের আদর্শ ও একজন প্রকৃত রাক্বীর বৈশিষ্ট্য

সালাফদের মূল নীতি ছিল:

* তাওহীদ
* তাওয়াক্কুল
* ইখলাস
* সুন্নাহর অনুসরণ

তারা মানুষকে নিজেদের ওপর নির্ভরশীল বানাতেন না; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শেখাতেন।

একজন আদর্শ রাক্বী:

✓ রোগীকে সেলফ-রুকইয়াহ শেখাবেন।
✓ কুরআনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করতে উৎসাহিত করবেন।
✓ চিকিৎসাগত সমস্যায় ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেবেন।
✓ নিজের জন্য অলৌকিক ক্ষমতার দাবি করবেন না।
✓ রোগীকে আল্লাহমুখী করবেন, রাক্বীমুখী নয় বা সেন্টারমূখী নয়।

শেষকথা

রুকইয়াহর সার্ভিস চার্জ গ্রহণের বৈধতা রয়েছে, যদি তা সততা, ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং শরয়ি সীমারেখার মধ্যে হয়। কিন্তু যখন রুকইয়াহকে ভয়, অজ্ঞতা ও মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে একটি বাণিজ্যিক শিল্পে পরিণত করা হয়, তখন তা ইবাদতের রূহকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং উম্মাহর মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

সুতরাং একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ গ্রহণ করা, অতিরঞ্জিত দাবি থেকে সতর্ক থাকা এবং সর্বদা মনে রাখা যে প্রকৃত শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। প্রতিটি মুসলিমের এটি অনুধাবন করা উচিত।

@ 01972668345

14/06/2026

তাবিজ বা তামিমা ২০১৫ সালের আলোচনা

রুকইয়াহর গোসল কী?রুকইয়াহর গোসল বলতে এমন গোসলকে বোঝায়, যেখানে পানির উপর কুরআনের আয়াত, দোয়া বা শারঈ রুকইয়াহ পাঠ করে সেই পা...
13/06/2026

রুকইয়াহর গোসল কী?

রুকইয়াহর গোসল বলতে এমন গোসলকে বোঝায়, যেখানে পানির উপর কুরআনের আয়াত, দোয়া বা শারঈ রুকইয়াহ পাঠ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে সেই পানির একটি অংশ পানও করা হয়।

এটি মূলত আল্লাহর কাছে শিফা প্রার্থনার একটি বৈধ মাধ্যম। শিফা পানির মধ্যে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।

কেন করা হয়?

রুকইয়াহর গোসল সাধারণত নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে করা হয়:

* সিহর (জাদু) আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ থাকলে
* বদনজরের প্রভাব দূর করার জন্য
* কিছু ক্ষেত্রে জ্বীনের কষ্ট বা আধ্যাত্মিক সমস্যার চিকিৎসার অংশ হিসেবে
* মানসিক অস্থিরতা বা অজানা কষ্টের সময় কুরআনের বরকত লাভের উদ্দেশ্যে

দলিল

কুরআনের আয়াত পড়ে পানিতে ফুঁ দেওয়া এবং তা ব্যবহার করার বিষয়টি অনেক আলেম জায়েজ বলেছেন। এছাড়া বদনজরে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য নজরদাতার ওযুর পানি দিয়ে গোসল করানোর ব্যাপারে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, নবী ﷺ বলেছেন:

“বদনজর সত্য। আর যখন তোমাদের কারো কাছে গোসলের পানি চাওয়া হয়, তখন সে যেন গোসলের পানি দেয়।”
— সহীহ মুসলিম

তবে নির্দিষ্টভাবে “রুকইয়াহর গোসল” নামে কোনো বিশেষ পদ্ধতি কুরআন বা সহিহ হাদিসে বর্ণিত নেই। বরং এটি কুরআন ও দোয়া পড়ে পানির মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণের একটি বৈধ প্রয়োগ হিসেবে অনেক আলেম গ্রহণ করেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

* রুকইয়াহর গোসল কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ইবাদত নয়।
* নির্দিষ্ট সংখ্যা, দিন বা পদ্ধতিকে বাধ্যতামূলক মনে করা উচিত নয়।
* শিফার উৎস আল্লাহ; পানি, বরই পাতা বা অন্য কোনো বস্তু কেবল মাধ্যম।
* শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও গ্রহণ করা উচিত।

সংক্ষেপে, রুকইয়াহর গোসল হলো কুরআন ও দোয়া-পাঠকৃত পানি দিয়ে গোসলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শিফা কামনা করা। এর উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বরকত ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা, কোনো বস্তুগত শক্তির উপর নির্ভর করা নয়।

01972668345

Address

Pollobi, Mirpur
Dhaka
1226

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ruqyah Syariah Center -রুকিয়াহ শারিয়াহ সেন্টার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ruqyah Syariah Center -রুকিয়াহ শারিয়াহ সেন্টার:

Shortcuts

Share