28/01/2024
সমির এবার এইচ এস সি পরীক্ষা দিবে। পরীক্ষার মাত্র ৩ মাস বাকি। দিনে বাবার দোকানে ২ ঘন্টা সময় দেয়। বাকি সময় স্কুল অবস্থান আর যাওয়া আসা করে কেটে যায়। রাত্রে সে পড়াশুনার সময় পায়। কিন্তু লোডশেডিং এর কারনে পড়ায় মনোযোগ দিতে পারে না। বিদ্যুত বিভ্রাট একটা বড় সমস্যা। তাই সে পড়ের দিন স্কুলে গিয়ে লোড শেডিং এর কারন ও বাচার উপায় সম্পর্কে জানতে তার স্কুলে শেখ রাসেল ল্যাবে ইন্টার নেট ব্রাউজ করে নিজের তথ্য গুলো সংগ্রহ করে এবং বিষয়টা সম্পর্কে সে বেশ ভাল একটা ধারনা পায়। সে যে বিষয়গুলে জানতে পারেছে তা নিচে তুলে ধরা হল।
📌লোডশেডিং কেন হয়?
👉যখন যথেস্ট বিদ্যুৎ থাকে না তাই। চাহিদা আর জোগানের পার্থক্য সৃষ্টি হলে লোডশেডিং হয়। তাহলে সম্পূরক প্রশ্ন, বিদ্যুৎ কেন নাই? এর কারণ খুব সহজ—হয় উৎপাদন হচ্ছে না অথবা সরবরাহ হচ্ছে না। আমরা জেনেছি মূল সমস্যা উৎপাদনে—সহজ করে বললে জ্বালানির সমস্যা।
বাংলাদেশের জ্বালানি-সরবরাহ ব্যবস্থা আমদানির উপর নির্ভরশীল। আমাদের নিজস্ব গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, কেননা নতুন উৎসের কোনো সন্ধান নেই। জ্বালানি তেল এবং কয়লাও আমদানি করতে হয়। আমাদের নিজস্ব কয়লা যতটুকু আছে, তার উত্তোলনের তেমন সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি, তাছাড়া এর রয়েছে পারিপার্শ্বিক সমস্যা। তাই কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লাও আমদানি করতে হয়।
বাংলাদেশের জ্বালানি-সরবরাহ ব্যবস্থা আমদানির উপর নির্ভরশীল। আমাদের নিজস্ব গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, কেননা নতুন উৎসের কোনো সন্ধান নেই। জ্বালানি তেল এবং কয়লাও আমদানি করতে হয়। আমাদের নিজস্ব কয়লা যতটুকু আছে, তার উত্তোলনের তেমন সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি, তাছাড়া এর রয়েছে পারিপার্শ্বিক সমস্যা। তাই কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লাও আমদানি করতে হয়।
📌লোডশেডিংয়ের কারণ
👉এখনকার লোডশেডিংয়ের মূল কারণ ডলার সংকট। তবে পরিকল্পনার ঘাটতি আমাদের আগে থেকেই রয়েছে। আমাদের হালনাগাদ এনার্জি পলিসি নেই, প্রায় ত্রিশ বছর থেকে চলছে। শর্ট টার্ম বা বলা যায় তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে আমরা আগ্রহী। আমরা দূর-ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চাই না। ফলে পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান করা হলেও সেগুলোর সীমাবদ্ধতাও আমরা দেখেছি।
লোডশেডিং থেকে আশু পরিত্রাণের কোনো লক্ষণ নেই। তবে সরকার কাতারের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে সেটা খুবই উৎসাহোদ্দীপক। এর ফলে অন্তত ভবিষ্যতে জ্বালানির একটি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেল। তাছাড়া ব্রুনাইয়ের সাথেও আমাদের ভালো বোঝাপড়া হতে যাচ্ছে এবং সেখান থেকেও আমরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনে জ্বালানি পেতে পারি।
এগুলো ভালো দিক, আশার দিক। তবে জ্বালানি পেলেও এর ব্যবহার, সরবরাহ এবং বিলিবণ্টনে আমাদের সুপরিকল্পনার ছাপ দেখাতে হবে। যেমন ফ্লোটিং এলএনজি টার্মিনালের বদলে অনশোর রিজার্ভার বা স্থল-ডিপো বানাতে হবে, শুধু চট্টগ্রামকেন্দ্রিক এলএনজি সরবরাহ না করে পশ্চিম উপকূলে, যেমন পায়রায়, আমাদের একটা ব্যবস্থা রাখতে হবে।
খুব সম্ভবত আগামীতে আমাদের ভরসার জ্বালানি হতে যাচ্ছে এলএনজি। অতএব এর সংরক্ষণ, সরবরাহ এবং বণ্টনে আমাদের পরিপক্বতা দেখাতে হবে। নচেৎ এই ধরনের সমস্যা বারবার হবে। এতে জনজীবন মারাত্মক বিঘ্নিত হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে, আমাদের পরিস্থিতি ঘোলাটে হবে। সেটা রাজনৈতিকভাবেই কাম্য নয়।
📌পুরাতন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু
👉বাস্তবতা হচ্ছে, অনেকগুলো পুরাতন স্টেশন আছে যাদের উৎপাদন আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। অর্থাৎ তারা আর আগের মতো দক্ষতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এখন সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাদ দিতে হবে। অথবা আধুনিক প্রযুক্তির আমদানি করে সেগুলো উন্নত করে লাইভ জেনারেশনে যেতে হবে। এগুলো খরচ আর সময়সাপেক্ষ।
📌জ্বালানি সংকট
👉বিশ্বের বহু দেশের মতোই বাংলাদেশও জ্বালানি আমদানি করে চলে—আমাদের জ্বালানি বাস্তবতা আমদানির বাস্তবতা। আমদানি খাতে ডলারের মূল্য কম-বৃদ্ধি হলে এই খাতও উথালপাতাল করবে। এখন সুন্দর পরিকল্পনা করে এই উথালপাতাল প্রপঞ্চকে কিছুটা প্রশমিত করা যায়, কিন্তু সবটুকু যাবে না।
📌লোড শেডিং থেকে কিছুটা পরিত্রেয়ানের উপায়ঃ
👉সোলার চালু
সোলারের বিষয়ে এখন অনেক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে এখন বেশ কয়েকটি সোলার পার্ক মাঝারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। দেরিতে হলেও এদিকে সরকারি এবং বেসরকারি মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে মূলধন লগ্নি ও আমদানিতে কিছু নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ আছে যা পরিবর্তন / সংশোধন / হালনাগাদকরণ প্রয়োজন।
তাছাড়া জমির লভ্যতা ও দাম এবং সূর্যালোকের প্রাপ্যতা ও ঋতুভেদে ভিন্নতা গ্রিডের জন্য সমস্যা তৈরি করে। মেগাওয়াট-স্তরে বিদ্যুৎ সঞ্চয় বা স্টোরেজ ভীষণ খরচ সাপেক্ষ। আশা করা যায়, এই খরচ কমে আসবে। কিন্তু কত কমবে, কবে কমবে সেটাও দেখার বিষয়।
👉বাসা বাড়িতে রিচার্জেবল লাইট বা ফ্যান সংরক্ষণঃ
সোলার প্যনেল এর মাধ্যমে ব্যাটারিতে বিদ্যুত সঞ্চয় করে রেখে ফ্যান, লাইট চালানো বা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে । গ্রিষ্মকালে যখন লোড শেডিং অনেক তিব্র হয় কখন গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যায়। রিচার্জেবল লাইট বা ফ্যান তখন কিছুটা স্বস্তির জায়গা তৈরি করে। কিন্তু রিচার্জেবল লাইট বা ফ্যানের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। এসব ইলেক্ট্রনিক প্রোডাক্টের দাম স্থান ও সময় ভেদে ডাবল হয়ে যায়। বর্তমানে ডলারে সংকটের কারনে ব্যাবসায়িরা কোন এলসি খুলতে পারছে না । ফলে লোড শেডিং টাইমে রিচার্জেবল লাইট বা ফ্যান এর দাম আরো বেড়ে যেতে পারে।