04/09/2026
♦️এখন ঘরে ঘরে ডিজিটাল পতিতালয়!♦️
পরকীয়ার কিন্তু কোন বয়স হয় না। যারা ভাবছেন তিন-চারটা বাচ্চা হয়ে গেছে, সন্তানরা বিয়ের উপযুক্ত হয়ে গেছে, এখন আর মনে হয় সংসারে অশান্তি হবে না, পরকীয়ার মতো জঘন্য দূর্ঘটনা ঘটবে না; তারা মূলত বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। সন্তান বড় হলেও, বিয়ে করে বাচ্চাকাচ্চা হয়ে গেলেও আপনার ঘরের বউ পরকীয়ার মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হতে পারে। আর এই কাজের সুযোগ আপনিই করে দিতে পারেন। কেন এমনটা বলছি বিস্তারিত পড়লে বুঝতে পারবেন।
কিছুদিন আগে খুবই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির পারিবারিক সমস্যা, সংকট নিয়ে কিছু বিষয় আমি জানতে পারি। আর এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল অনলাইন থেকে। তাদের বৈবাহিক জীবন দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের। তাদের বড় সন্তান নিউ টেনে পড়ে। অর্থাৎ বলা যায় সে বিয়ের উপযুক্ত। যাহোক আর বেশি কিছু বলছি না।
আজকে ফেসবুক স্ক্রলিং করার সময় হঠাৎ করে একটা এপসের এড সামনে চলে আসে। সেই এডের সারমর্ম ছিল অনেকটা এরকম "সুন্দরী সুন্দরী ডিভোর্সি/সিঙ্গেল রমণীরা আপনার সাথে আড্ডা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।" এটা দেখার পরে আমার সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির পারিবারিক সমস্যার কথাটা মনে পড়লো। সেই সময় আমি শুনেছিলাম অনলাইনে এরকম কোন একটা এপসের মাধ্যমে তার স্ত্রী পরপুরুষদের সাথে যোগাযোগ করা, কথোপকথন এবং লাইভ ভিডিও কলে কথা বলা শুরু করেছিল। তবে পরপুরুষের সাথে যোগাযোগ করা ছিল সেকেন্ড অপশন, প্রথম অপশন ছিল অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে অনলাইন থেকে ইনকাম করা।
যাই হোক এপসের এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে আমি মূলত বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য এপসটা ফোনে ইনস্টল করলাম। গুগল একাউন্ট দিয়ে অটোমেটিক একাউন্ট ক্রিয়েট করার সাথে সাথেই এক যোগে কমপক্ষে ৫০টি মেয়ে আমাকে ইনবক্সে নক দিয়েছে এবং প্রত্যেকেই আমার সাথে কথা বলতে চায়, পরিচিত হতে চায়। আমি যেহেতু নতুন তাই বুঝতেই পারছিলাম না আসলে এর পিছনে রহস্যটা কি? আমি প্রোফাইলে গিয়ে সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলাম। তখন দেখলাম এখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কিছু টাস্ক দেওয়া আছে, সেগুলো কমপ্লিট করলে কিছু পয়েন্ট যোগ হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ পয়েন্ট হলে সেটা দিয়ে লাইভ করা যায়, মেসেজিং করা যায়, আবার বিকাশ, নগদের মাধ্যমে উইথড্রও করা যায়।
এই একাউন্ট সেটাপ করতে হলে লাইভ ফেস ভেরিফিকেশন করতে হয়, নিজের ছবি প্রোফাইলে দিতে হয় ইত্যাদি আরো কিছু প্রসিডিওর রয়েছে। এগুলো সবকিছু বুঝার পরে বুঝলাম যে সমস্ত মেয়েরা আমাকে নক দিয়েছে তারা মূলত পয়েন্ট আর্ন করার জন্য এটা করেছে। প্রতিদিন ফ্রিতে র্যান্ডম কিছু ভিডিও কলে নির্দিষ্ট কয়েক মিনিট লাইভ কলে কথা বলা যায়। এরপর কথা বলতে হলে পেমেন্ট করে পয়েন্ট কিনে কথা বলতে হবে। আমাকে প্রায় ৪০টা মেয়ে ঐ সময়ের মধ্যে কল করলো, যখনই দেখে আমি হুজুর চেহারার অস্বস্তিতে পড়ে যায়। আমি তাদের সাথে কথা বলে বুঝলাম বেশিরভাগই বিবাহিতা নারী, স্বামী চাকরি করে অথবা প্রবাসে থাকে, অফুরন্ত সময় হাতে সেই সময়টা অনলাইনে লাইভ করে, ভিডিও কলে কথা বলে আর্নিং করে।
এই এপসগুলো প্রাইভেসি এমনভাবে করা আপনি লাইভ চলাকালে স্কিন রেকর্ডিং করতে পারবেন না, আপনি আপনার সমস্ত শরীর প্রদর্শন করলেও রেস্ট্রিকশন নাই বরং এতে আপনার গিফট পয়েন্ট আসবে বেশি, এটা আপনি উইথড্র করতে পারবেন সাথে সাথেই। মূলত এই কারণেই মেয়েরা এতে বেশি ঝুঁকতেসে। কেউ রেকর্ড করতে পারতেসে না, সো লিক হওয়ার চান্স না। অথচ এই মেয়েগুলো এটা জানে না একটা ফোনে স্কিন রেকর্ডিং করা না গেলেও আরেকটা ফোন দিয়ে সেটা ভিডিও করে রাখা যায়।
যেহেতু সিকিউর প্রাইভেসি প্লাস আর্নিংও হচ্ছে সেহেতু নারীরা ঘরে বসে বসেই এই এপসগুলোর মাধ্যমে অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে। আপনি হয়তো জানেনও না আপনার ঘরের স্ত্রী অনলাইনে কতজনের সঙ্গে তার সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে, কতজন পুরুষ আপনার স্ত্রীর দেহের প্রতিটা খাঁজ, ভাজ ক্লিয়ারলি ঘরে বসেই দেখতে পাচ্ছে।
এখন আপনি বলবেন, আপনার স্ত্রী পর্দা করে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, তাহাজ্জুদ পড়ে, সে এগুলো কখনোই করতে পারে না যদি ভেবে থাকেন তাহলে আপনি নিঃসন্দেহে ধোঁকার মাঝে পড়ে আছেন। আপনি কি দেখেন না পর্দা করা নারীরা, মাদরাসার মেয়েরা কীভাবে গণহারে আকাটা মালুদের বিছানায় যাচ্ছে! তারাও পর্দা করে, নামাজ পড়ে, তাহাজ্জুদ পড়ে। আর আপনার ঘরের স্ত্রী তো সরাসরি কারো বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ছে না বরং সে আপনারই ঘরের গোপন কক্ষে বসে সবকিছু খুলে উজাড় করে দেখাচ্ছে। আপনার বিশ্বাস না হলে নজরদারি করার উদ্দেশ্যে হলেও এসব এপসের ভিতরের কার্যকলাপগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
আগে পরিচিত ছিল imo, Bigo live সহ ডেটিং করার মাত্র কয়েকটা এপস। কিন্তু এখন যে কি পরিমাণ এপস বের হয়েছে নোংরামি করার তা আপনি একজন পুরুষ হয়েও জানেন না। এমনকি আপনি এটাও জানেন না এসব এপসে কীভাবে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে, কীভাবে আর্নিং করতে হবে! অথচ আপনার ঘরের স্ত্রী এ টু জেড সবকিছু জানে।
যে এপসের মাধ্যমে আমার পরিচিত ব্যক্তির ওয়াইফ এসবের সাথে জড়িয়ে পড়েছিল তিনি ১৭ বছরের মধ্যে টাচ ফোন ব্যবহার করেনি। অথচ মাত্র ১ মাসের মধ্যে সে এসব নোংরামির জগতের খুটিনাটি সবকিছু জেনে গেছিল।
আপনি একজন পুরুষ, একজন স্বামী, একজন বাবা, আপনার উপর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব। আপনি সংসারের প্রয়োজনে উপার্জনের জন্য চাকরি করবেন, বাইরে থাকবেন, বসের গালি শুনবেন আর এদিকে আপনার স্ত্রী ঐ সময়ে অনলাইনে গিয়ে লাইভ করবে, আর্নিং করবে, দেহ বিলিয়ে দিবে। আমি ঐ এপসগুলোতে অধিকাংশ নারীকে পেয়েছি যাদের স্বামী চাকরি করে, ডিউটিতে গেছে, সন্তানও আছে, স্কুলে গেছে আর এই ফাঁকে সে এপসে এসে সময় দিয়ে ইনকাম করছে।
মানুষকে কখনো পাহারা দিয়ে, নজরবন্দি করে রাখা যায় না। এই ফেতনার যামানায় তাই অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। স্ত্রীকে এমন নোংরা জগত থেকে বাঁচাতে চাইলে, হেফাজতে রাখতে চাইলে, নিজের সংসার বাঁচাতে চাইলে কখনো ঘরের স্ত্রীর হাতে টাচ ফোন দিবেন না, ওয়াইফাই সংযোগ দিবেন না। যোগাযোগ করতে হলে বাটন ফোন অথবা ল্যান্ডফোন সংযোগ নিন। ওয়াল্লাহি! আমি কসম করে বলছি দুনিয়ার অনেক ফেতনা থেকে আপনার ঘরের স্ত্রী বেঁচে যাবে।
মনে রাখবেন অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আখড়া। আর এর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো নির্জনতা, স্বামী দূরে থাকা। সংসারের খরচ জোগাতে আপনি বাইরে থাকবেন, স্ত্রীর হাতে অফুরন্ত সময় থাকবে কৌতূহলবশত সে এসবের প্রতি ঝুঁকে যাবে। একবার ঝুঁকে পড়লে আপনি হাতেপায়ে ধরলেও সে ফিরবে না। হাদীসের মাঝে আছে আখেরী যামানায় নারীদের শিকল দিয়েও বেঁধে রাখা যাবে না। কিছু হলেই তারা আপনাকে তালাক দিয়ে চলে যেতে দুইবার ভাববে না। তাই সাবধান থাকুন, সতর্ক থাকুন।
আমি আবারও বলছি নোংরামি কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই দয়া করে ঘরের বউয়ের হাতে টাচ ফোন দিবেন না, তাকে অনলাইন চেনাবেন না। ধন্যবাদ।
████ মুহাম্মাদ রাজিব মোল্লা ████
থেকে ■