24/07/2025
“দৌড়াও, ভয় পেও না, আমি আছি…” – মেহেরিন চৌধুরী
গতকাল মাস্টারমাইন্ড স্কুলের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায়, যখন চারপাশে আগুন, ধোঁয়া আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন একজন নারী নিজের প্রাণের কথা ভাবেননি। তিনি ছিলেন মেহেরিন চৌধুরী, একজন শিক্ষক, একজন মা, একজন প্রকৃত নায়ক।
৮০% দগ্ধ শরীর নিয়েও তিনি বাচ্চাদের চিৎকার করে বলেছিলেন—
“দৌড়াও, ভয় পেও না, আমি আছি…”
তিনি নিজে দৌড়াননি। আগুনের দিকে গিয়ে বাচ্চাদের ঠেলে ঠেলে বাইরে পাঠাচ্ছিলেন। একটি শিশু যদি পড়ে যাচ্ছিল, তিনি তাকে তুলে আবার ঠেলে দিচ্ছিলেন, আরেকজনকে কোলে তুলে বাইরে ঠেলে দিচ্ছিলেন।
তার শরীর তখন আগুনে জ্বলছিল, তবুও তিনি থামেননি। সেনাবাহিনীর এক সদস্য বলেছেন—
“ম্যাডাম ভিতরে ঢুকে গিয়ে বাচ্চাদের বের করে দিচ্ছিলেন, তারপরে উনি বের হতে পারেননি।”
ভাবতে পারেন? ৮০% দগ্ধ শরীর নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি শুধু বাচ্চাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। এটাই একজন শিক্ষকের প্রতি ছাত্রদের জন্য সবচেয়ে বড় ভালোবাসা।
আমি নিজে আড়াই বছর শিক্ষকতা করেছি। তাই আমি সামান্য হলেও অনুভব করতে পারি—একজন শিক্ষক তার ছাত্রছাত্রীদের জন্য কী অনুভব করেন। তখন ছাত্ররা শুধু ছাত্র থাকে না, তারা আপনার নিজের সন্তানের মতো হয়ে যায়।
মেহেরিন চৌধুরী তার প্রাণ দিয়ে সেটা প্রমাণ করেছেন।
তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি একজন মা। বাংলাদেশের ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা উচিত।
আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন। 🌸