03/06/2026
এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জারিকৃত নীতিমালা নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগ
১. বাধ্যতামূলক দুই বছর উপজেলা পর্যায়ে ট্রেনিং
নোটিস অনুযায়ী, সকল এফসিপিএস ট্রেইনীকে বাধ্যতামূলকভাবে দুই বছর উপজেলা পর্যায়ে ট্রেনিং করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন চিকিৎসক ৬-৭ বছর সময় নিয়ে এমবিবিএস ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন। এরপর আরও ৬ মাস থেকে ২ বছর প্রস্তুতি নিয়ে এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ হন।
প্রশ্ন হলো, উপজেলা পর্যায়ে এই ট্রেইনিদের প্রশিক্ষণ দেবেন কে?
বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS)-এর নিজস্ব নীতিমালায় ট্রেইনার হিসেবে অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপকদের বিবেচনা করা হয়। উপজেলায় এমন পর্যায়ের শিক্ষক বা প্রশিক্ষক নেই। সেক্ষেত্রে এই ট্রেনিং কতটা কার্যকর হবে? একজন ভবিষ্যৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ কতটুকু মানসম্পন্ন হবে?
২. ভাতা প্রদান শুধুমাত্র প্রথম ১০০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মেধা ও অটোমেশনের ভিত্তিতে প্রথম ১০০০ জন উত্তীর্ণ চিকিৎসককে ভাতা প্রদান করা হবে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে—যখন এফসিপিএস পার্ট-১ পরীক্ষার ফি ১১ হাজার টাকা এবং হাজার হাজার চিকিৎসক এই ব্যবস্থার আওতায় আসবেন, তখন এই শর্তগুলো পরীক্ষা গ্রহণের আগেই কেন জানানো হলো না?
যদি আগেই জানানো হতো যে সীমিত সংখ্যক ট্রেইনী ভাতা পাবেন, তাহলে অনেকেই নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। এখন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও উত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন শর্ত আরোপ অনেকের কাছে হতাশাজনক ও বৈষম্যমূলক মনে হতে পারে।
৩. আর্থিক অনিশ্চয়তা ও ট্রেনিংয়ের মান
একজন ট্রেইনী চিকিৎসকের প্রধান মনোযোগ হওয়া উচিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জন এবং বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা।
কিন্তু যদি এই পর্যায়ে এসে তাকে প্রতিনিয়ত আর্থিক অনিশ্চয়তা ও জীবিকা নিয়ে চিন্তা করতে হয়, তাহলে তার ট্রেনিং স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যসেবাও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে বঞ্চিত হবে।