টিপস অ্যান্ড ট্রিকস

টিপস অ্যান্ড ট্রিকস Bangla language magazine about the health tips of baby and mother's RELATIONSHIP (সম্পর্ক)

25/06/2026

সফলতার ১৫টি সূত্রঃ
১. আজ থেকে পাঁচ বছর পর আপনি কোথায় যাবেন তা নির্ভর করবে এখন আপনি কী ধরনের বই পড়ছেন, কোন ধরনের মানুষের সাথে মেলামেশা করছেন সেটার উপর।

২. এডিসন বলেন, সাফল্য হলো ৯৫% কঠোর পরিশ্রম আর ৫% অনুপ্রেরণার ফল।

৩. যে ব্যক্তি পড়তে পারে কিন্তু পড়ে না আর যে ব্যক্তি পড়তে পারে না দুই-ই সমান।

৪. ফার্স্ট ইমপ্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোন কথা বলার আগেই একজনের সাথে সাক্ষাত হওয়ার তিন থেকে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যেই তার সম্পর্কে একটা ধারণা হয়ে যায়। We never get a 2nd chance to make the first impression.

৫. আপনি কী অর্জন করেছেন, সাফল্য মাপার মানদন্ড সেটা নয় বরং আপনি পড়ে যাওয়ার পর কতবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সেটা।

৬. পরাজয়ের ভয়, পরাজয়ের চেয়েও খারাপ।

৭. একটা পরাজয় আরো পরাজয়ের জন্ম দেয়। কারণ প্রত্যেকটা পরাজয়ের সাথে ব্যক্তি তার আত্ম-মূল্য হারিয়ে ফেলে যেটা পরবর্তী পরাজয়ের কারণ।

৮. পরাজিতরা কোন কিছু ঘটার অপেক্ষায় থাকে। তারা কখনই কোন কিছু ঘটাতে পারে না।

৯. যে সবকিছু তৈরি পাওয়ার জন্য তৈরি, সে জীবনে কিছু করতে পারে না। সফল ও ব্যর্থ উভয়ের দিনই ২৪ ঘন্টায়।

১০. NO মানে একেবারে না নয়। NO = Next Opportunity.

১১. বাহ্যিক সাফল্য আচরণের উপর নির্ভর করে। যদি আপনি নিজেকে চরিত্রবান, সাহসী, সৎ বলে বিশ্বাস করেন তাহলে এগুলো আপনার আচরণে প্রতিফলিত হবে।

১২. জয়ী হতে হলে কী কী করতে হবে বিজয়ীরা সেটার উপর গুরুত্ব দেয়। আর বিজিতরা যা যা পারে সেটার উপর গুরুত্ব দেয়।

১৩. আপনি সবসময় যা করে এসেছেন, এখনও যদি সেটাই করেন তাহলে সবসময় যা পেয়েছেন, এখনও তাই পাবেন।

১৪. সম্পর্ক তৈরি করা একটা প্রক্রিয়া, কোন ঘটনা না।

১৫. আপনার ইচ্ছা শক্তি আপনার ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করবে।

25/06/2026

বিয়ের আগে থেকেই জব করি। বেবি হবার পর দুজন এসিস্ট্যান্ট ছিলো বাসায় বাচ্চার টেইক কেয়ারের জন্য। ঢাকায় তো তেমন কোন ডে কেয়ার ও ছিলো না তখন।
Pen-- Manira Sultana Papri

আমি বাসায় সি সি ক্যামেরা লাগিয়েছিলাম সব রুমে। আমার আর আমার হাজব্যান্ড এর কাছে ক্যামেরা একসেস ছিলো আমরা বাইরে থেকে ক্যামেরা অপারেট করতে পারতাম।
চাকরি আমার প্রয়োজন এবং পরিচয় দুটোই ছিলো। ঢাকা শহরে একটা মডারেট জীবন যাপন কর‍তে হলে দুজনের চাকরি ছাড়া চলা টাফ।
এছাড়াও নিজের এত কষ্টে বানানো ক্যারিয়ার, আইডেন্টিটি সেটাও তো আমার অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ। অনেক পরিশ্রম নিজের অবস্থান বানিয়েছি৷ এক সাথে লড়ে গেছি।
তবু হার মানিনি, পরিস্থিতির কাছে।
মেয়েদের পথ চলা কোথাও সোজা না। না হোম মেকার হিসেবে,না চাকুরীজীবি হয়ে।

একটা মেয়েকে ঘরে- বাইরে কত কথা শুনতে হয় তার কাজে যাওয়া নিয়ে, কাজ করা নিয়ে। নিজের যোগ্যতায় চাকুরী পেলেও শুনতে হয়, চেহারার জন্য পেয়ে গেছে। প্রমোশন হলে শুনতে হয় বসের সুনজর আছে। অথচ একটা মেয়ে অফিসে যতক্ষণ থাকে সে চেষ্টা করে তার সবটুকু সময়,এটেনশন আর প্রোডাক্টিভিটির পুরোটা ঢেলে দিতে।

অফিসে একটা ছেলে কলিগরা আর সিগারেটের যে পরিমান ব্রেক নেয়, মেয়েরা তার দশ ভাগ ও নেয় না। এক টা ব্রেক যদি ১৫ মিনিটের ও হয় সারাদিনে একটা ছেলে যদি ৮ টা সিগারেট ও খায় এখানেই কিন্তু ২ ঘন্টা নাই।

অথচ কাজের জায়গায় মেয়েদের একটু ভুল হলেই বলা হয়, "মেয়ে মানুষ তো, মেক আপ করেই সময় পায় না।"
চাকুরীজীবি মায়ের জীবন তো আরো যা-তা। সকালবেলা সব গুছিয়ে দিয়ে বাসে ঝুলতে ঝুলতে নোংরা দৃষ্টি হজম করতে করতে পড়িমরি করে অফিস আসো, এর মধ্যে বাচ্চার খোঁজ নাও, ঠিক মতো খেলো কিনা, গোসল করলো কিনা, আবার একটু দেরী হয়ে গেলেই ঘরে কতো কথা শুনতে হয়।

কোন হাজব্যান্ড বলবে চাকরি ছাড়ো, আমি কি কম কামাই? হাজব্যান্ড সাপোর্টিভ হলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বলবে সংসার ছাই হয়ে যাচ্ছে শুধু মেয়েটার চাকরির জন্য। আর যদি শ্বশুরবাড়ি সাপোর্ট দেয় তাহলে পাড়া প্রতিবেশী আর লতাপাতা আত্মীয়রা আছে না তাদের কান ভারী করার জন্য!

এমন ও শুনেছি, বাচ্চাদেরকেও ছাড়েনা। মায়া কান্না আর মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি দেখিয়ে বলে, " আহারে বাচ্চাটার স্বাস্থ্যটা খারাপ,মা ঘরে থাকলে এমনটা হতো না।"

মায়ের এগেইন্সটে বাচ্চাদের মন বিষিয়ে তুলতেও তাদের দ্বিধা হয় না। অথচ, আমি দেখি যে মা ঘরে থাকেন, সারাদিন বাচ্চার পেছনে ছুটে ছুটেও বাচ্চাকে খাওয়াতে পারছেন না।
কারণ বাচ্চার এপেটাইট তো আর বাংলাদেশের সমাজ না, যে মা ঘরে থাকলে এপেটাইট বেড়ে যাবে আর কাজে থাকলে কমে যাবে।

বাচ্চা একটু দুষ্টুমি করলে, একটু অসুস্থ হলে সব দোষ মায়ের। মা চাকরী করে, তাই এমন হচ্ছে। অথচ গৃহিনী মায়ের ছেলেমেয়েরাও অসুস্থ হয় দুষ্টু হয়। মা তো মা-ই। সে ঘরে থাকুক বা বাইরে, মা কি তার সন্তানকে দুষ্টু বানায়?

বরং একজন কর্মজীবী মা হিসেবে আমার সন্তান এটা বুঝে গেছে, মা যতক্ষণ ঘরে থাকবে সেটা খুব ভ্যালুয়েবল, সেটা কোয়ালিটি টাইম।
আর মা বাসায় না থাকায় বেসিক নিজের কাজ গুলো নিজে করে নিতে শেখে, জানে মা ব্যস্ত, নিজেরটা নিজেকে পারতে হবে। বাচ্চারা আরো স্বনির্ভর হয়। মা ঘরে থাকলে,মায়ের উপর গা এলিয়ে দেয়া যায়। মায়েরা সন্তানকে একটু তো ছাড় দেন ই। মা তো।

অনেক নারী আছেন ঘরে থাকেন। হোম মেইকার। তাদের কাজ ও কম কিছু না। কর্মজীবী মা তো ছুটি পান। গৃহিণী মায়ের ছুটি কই? বেতন কই?
তার উপর প্রায়ই শুনতে হয়, সারাদিন তো ঘরে থাকো, বাচ্চার রেজাল্ট কেন খারাপ হলো? যেন সন্তানের দায় মায়ের শুধু একার। গৃহিণী মাকে টাকা চাইতে হয় স্বামীর কাছে, সন্তান দেখে তার মা আরেকজনের উপর নির্ভর করছে। কখনো চেয়ে পাচ্ছে, কখনো পাচ্ছেনা। এর প্রভাব ও তো তার উপর পড়ছে।

এক প্রতিবেশী মহিলাকে দেখতাম দুধ ওয়ালা, কাজের বুয়ার বেতন বেশি বলে হাজব্যান্ড এর কাছ থেকে টাকা নিতো। কিন্তু। কেন নিতো? কারন তাকে কোন হাত খরচ দেয়া হতোনা। একটা দোকানে সুন্দর ড্রেস বা একটা দরকারী কস্মেটিক্স কেনার ইচ্ছে হলেও কেনার সাধ্য নেই। কত হাত পাতা যায়? হোক না সে স্বামী!!

এই যে জায়গায় জায়গায় এভাবে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হয়, এর চেয়ে না হয় ঘরে একটা বা দুটা পদ কম রান্না হলো, নাহয় সংসারটা একটু কম গোছানো থাকলো, তবু তো নিজের একটা আলাদা পরিচয় থাকতো।

অথচ সংসার সামলানো এই নারী৷ সংসার নামক একটা কোম্পানিতে বিনা বেতনে,বিনা ছুটিতে,বিনা প্রমোশনে এবং সর্বোপরি বিনা স্বীকৃতিতে তার সারা বছর, সারা জীবন চাকরি করছেন।
এই শ্রমের মূল্য যদি বাজারে নির্ধারণ হয় তা কতো আসে জানেন? ২০১৯ এ একটা অনলাইন পোর্টালের তথ্যসূত্র অনুযায়ী এক বছরে একজন হোম মেকার মায়ের স্যালারি দাঁড়ায় $178,201 ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমান দাঁড়ায় -- 15 482 099,32 টাকা।

জানি চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য। কেউ কেউ বলবেন নিজের সংসারের কাজের আবার মূল্য হয়? হয়।
আমাদের জীবন একটা সময়ের সমষ্টি।
Every minute counts.

এই সময় যদি পরিকল্পিত ভাবে ব্যয় হতো তাহলে সবার জীবন গুছিয়ে যেতো। একটা মেয়ে তার নিজের নিজস্ব স্বপ্নগুলো পারস্যু করতে পারতো।
তাকে শুনতে হতো না, সারাদিন ঘরে পড়ে পড়ে সে কি করে? কারোর কাছে নিজের স্যানিটারি ন্যাপকিন বা লঁজারি কেনার টাকার জন্য হাত পাততে হতোনা। হোক স্বামী, তবু তো আরেকটা মানুষ, তাই না?
আত্মসম্মানে লাগে তো! অপরদিকে যারা কর্মজীবী নারী, তারা অফিস, ঘর সব সামলাচ্ছে আর সারাক্ষণ খোঁটা শুনছে পদে পদে।
পরিবার, সমাজ যদি কো-অপারেটিভ হতো, এই মেয়েটাও হয়তো কোম্পানির একজন মোটামুটি লেভেলের এমপ্লয়ি না হয়ে সি ই ও হতো বা বেস্ট এম্পলয়ি এওয়ার্ড পেতো। শুধু একটু সাপোর্ট লাগে মেয়েদের। ওরা দুই কে চার বানিয়ে দেখাতে পারে, এক চুটকিতে।

অথচ দু হাতে বোঝা, দু পায়ে পাথর নিয়ে তাকে হাত-পা ঝাড়া পুরুষ কর্মীদের সাথে সমান ভাবে প্রতিযোগিতা করতে হয়। এখানে ইকুয়ালিটি না ইকুইটি দরকার ছিলো।
যে পথ দু পায়ে হাঁটতে একজন পুরুষের চার মিনিট লাগে, সে পথ, পাথর বাঁধা পায়ে একটা মেয়ের হাঁটতে ৮ মিনিট লাগে। রক্তাক্ত পায়ে। এই র ক্ত, এই পাথর খালি চোখে দেখা যায় না। সব র ক্তক্ষরণ কি আর চোখে দেখা যায়?

25/06/2026

যে ব্যক্তি তার রিযিকের প্রাচুর্য এবং দীর্ঘ জীবনের প্রত্যাশা করে, তার উচিত আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। [বুখারীঃ ২০৬৭; মুসলিমঃ ২৫৫৭]

21/06/2026

জব সার্কুলার না থাকলেও কিভাবে জবে এপ্লাই করবেন

১️। টার্গেট কোম্পানি লিস্ট তৈরি করুনঃ
আপনি যে সেক্টরে কাজ করতে চান (যেমন HR, Marketing, IT, Sales), সেই সেক্টরের ২০–৩০টি কোম্পানির নাম লিখে নিন।
LinkedIn, Bdjobs, এবং কোম্পানির ওয়েবসাইট দেখে কোম্পানিগুলোর নাম বেছে নিন।

📌 উদাহরণ: Walton, Grameenphone, Meghna Group, Unilever, Daraz, Summit, BRAC ইত্যাদি।

২️। সঠিক ব্যক্তি খুঁজুন (Decision Maker বা HR Person)
LinkedIn-এ গিয়ে কোম্পানির নাম লিখে সার্চ দিন।
“HR Manager”, “Talent Acquisition”, “Head of HR”, বা “Admin” পদে যারা আছেন, তাদের নাম বের করুন। যদি ছোট কোম্পানি হয়, তবে “Managing Director” বা “CEO” পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়।

৩️। পার্সোনালাইজড ই-মেইল বা মেসেজ পাঠান
📧 মেইলে ৩টি বিষয় স্পষ্ট রাখুন:
আপনি কে (১ লাইনে পরিচয় দিন)
আপনি কী করতে পারেন (দক্ষতা/অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে)
কিভাবে কোম্পানিতে ভ্যালু অ্যাড করতে পারেন?

উদাহরণ ই-মেইল:
Subject: Interest to Contribute in Your HR Department

Dear [Name],

I have been following [Company Name] for a while and really admire your work in the [industry name].

As an HR professional with experience in talent acquisition and employee engagement, I’d love to contribute to your team’s upcoming projects.

Please find my updated CV attached for your consideration.

Warm regards,
Ashiqur Rahman

৪। LinkedIn-এ কানেক্ট করুন এবং ভ্যালু দেখান
শুধু “Hi” না লিখে, একটা ছোট মেসেজ দিন যেমন:
“Sir, I really admire your company’s work on sustainable HR practices. Would love to stay connected.”
লিংকডইনের পোস্টে কমেন্ট দিন, রিলেভেন্ট কনটেন্ট শেয়ার করুন — যেন তারা আপনার নাম চিনে রাখে।

৫️। কোম্পানির ওয়েবসাইটের "Career" বা "Contact" সেকশন ব্যবহার করুন
অনেক সময় ওরা “Talent Pool” বা “Drop your CV” অপশন রাখে।
→ আপনার CV ও কভার লেটার সেখানে জমা দিন, এমনকি যদি কোনো সার্কুলার না থাকে।

৬। ভিডিও সিভি বানিয়ে পাঠানঃ
ভিডিও সিভি আপনার কল পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে ৬৬%। একজনকে সিভি দিলেন, সেটা তার জন্যে চেক করা কষ্টকর। কিন্তু তাকে ভিডিও সিভি পাঠালে তিনি ওপেন করে দেখবেন। আপনার কমিউনিকেশন স্টাইল, প্রেজেন্টেশন সব কিছু সম্পর্কে ধারনা পাবেন। এই সুযোগটা কিন্তু অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।

৭। ইন্টারনাল রেফারেন্স ব্যবহার করুন
যদি কোনো বন্ধু বা সিনিয়র ওই কোম্পানিতে কাজ করে, তাকে বলুন HR বা হেডের কাছে আপনার CV ফরওয়ার্ড করতে।
রেফারেন্স থেকে শর্টলিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

৮। ভ্যালু প্রপোজিশন তৈরি করুন
এক লাইনে একটা বোল্ড স্টেটমেন্ট লিখুন:
“I can help your company [increase sales by 15% / improve recruitment process / reduce cost].”
এতে নিয়োগদাতা ভাববে, আপনি কাজ বুঝে কথা বলছেন।

৯। নিয়মিত Follow-up দিন
৭ দিন পর বিনীতভাবে ফলো আপ করুন:
“Just following up to check if there’s any potential opportunity that fits my background.”

১০। নিজের LinkedIn প্রোফাইল আপডেট রাখুন।
ভিডিও CV বা Portfolio তৈরি করুন — এতে পার্থক্য তৈরি হয়।
ই-মেইল সাবজেক্ট লাইন শক্তিশালী রাখুন (যেমন “Application for Marketing Role – Proven Experience in FMCG”).

CV অবশ্যই টার্গেটেড হোক (General CV অর্থাৎ সব জায়গায় এক সিভি পাঠাবেন না)।

21/06/2026
20/06/2026

হারিয়ে যেতে বসা এক মহান ইসলামী মূল্যবোধ

একসময় প্রতিবেশী ছিল পরিবারেরই একটি সম্প্রসারিত অংশ। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, বিপদ-আপদ—সবকিছুতেই তারা একে অপরের পাশে দাঁড়াত। কোনো ঘরে অসুস্থতা এলে পাশের ঘরের মানুষ খোঁজ নিতে আসত, কোনো ঘরে আনন্দ এলে সবাই সেই আনন্দে শরিক হতো। কিন্তু আজকের ব্যস্ত ও আত্মকেন্দ্রিক জীবনে সেই সুন্দর সম্পর্ক অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।

আজ সামান্য বিষয় নিয়েও প্রতিবেশীদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। শিশুদের ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি, গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধ, পানি বা ময়লা নিয়ে অসন্তোষ—এসব তুচ্ছ বিষয় কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতায় রূপ নেয়। অথচ বছরের পর বছর একসঙ্গে বসবাসের সম্পর্ক কোনো ক্ষণিক ঘটনার চেয়ে অনেক বড় হওয়া উচিত।

▪️কুরআনে প্রতিবেশীর অধিকার

আল্লাহ তাআলা প্রতিবেশীর অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন—

﴿ وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ ﴾

“তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। আর পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকীন, নিকটবর্তী প্রতিবেশী ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করো।” — সূরা আন-নিসা, ৪:৩৬

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই মানুষের অধিকারগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে প্রতিবেশীর অধিকার বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। এটি প্রতিবেশীর মর্যাদা ও গুরুত্বের স্পষ্ট প্রমাণ।

▪️জিবরীল (আ.)-এর বারবার ওসিয়ত

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

«مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ»

“জিবরীল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এত বেশি উপদেশ দিতে থাকলেন যে, আমি ধারণা করেছিলাম প্রতিবেশীকেও হয়তো উত্তরাধিকারী বানানো হবে।”
— সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ৬০১৪; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬২৪

এই হাদিসে প্রতিবেশীর অধিকারের গুরুত্ব এতটাই তুলে ধরা হয়েছে যে, নবী ﷺ পর্যন্ত মনে করেছিলেন হয়তো প্রতিবেশীকেও মীরাসের অংশ দেওয়া হবে।

▪️প্রকৃত মুমিনের পরিচয়

রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন—

«وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ»

"আল্লাহর কসম সে মুমিন নয়, আল্লাহর কসম সে মুমিন নয়, আল্লাহর কসম সে মুমিন নয়।"

সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, “কে, হে আল্লাহর রাসূল?”

তিনি বললেন—

«الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ»

“সে ব্যক্তি, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।”
— সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ৬০১৬

অর্থাৎ একজন মানুষের ইবাদত যতই বেশি হোক, যদি তার আচরণে প্রতিবেশী কষ্ট পায়, তবে তার ঈমানের পূর্ণতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

▪️ভালো প্রতিবেশী হওয়া একটি সদকা

অনেক মানুষ মনে করেন প্রতিবেশীর হক আদায় মানে শুধু বড় কোনো সাহায্য করা। অথচ ইসলামে ছোট ছোট আচরণও অত্যন্ত মূল্যবান।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

«يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ، لَا تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ»

“হে মুসলিম নারীরা! কোনো প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে সামান্য উপহার দিতেও তুচ্ছ মনে না করে, যদিও তা একটি ছাগলের খুর হয়।”
— সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ২৫৬৬

এই হাদিস আমাদের শেখায়, উপহারের মূল্য নয়; বরং আন্তরিকতা ও সম্পর্ক রক্ষা করাই আসল বিষয়।

▪️প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ হলে কী করণীয়?

প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ভুল-ত্রুটি রয়েছে। তাই কোনো সমাজে মতবিরোধ বা মনোমালিন্য হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ইসলাম শিখিয়েছে, বিরোধকে দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতায় রূপ দেওয়া যাবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ ﴾

“তুমি মন্দকে উত্তম আচরণের মাধ্যমে প্রতিহত করো। তখন দেখবে, যার সঙ্গে তোমার শত্রুতা ছিল, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো হয়ে গেছে।” — সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৩৪

তাই প্রতিবেশীর সঙ্গে সমস্যা হলে উত্তেজনা নয়, সংলাপ; প্রতিশোধ নয়, ক্ষমা; অহংকার নয়, নম্রতাই হওয়া উচিত একজন মুসলিমের পথ।

▪️প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের কিছু দায়িত্ব

- তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেওয়া।
- অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া।
- প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করা।
- শব্দ, ময়লা বা অন্য কোনো কারণে কষ্ট না দেওয়া।
- তাদের সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষা করা।
- ভুল হলে ক্ষমা করে দেওয়া।
- ঈদ, বিয়ে বা আনন্দের উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও উপহার বিনিময় করা।
- সন্তানদেরও প্রতিবেশীর সম্মান করতে শেখানো।

▪️কেন প্রতিবেশী সম্পর্ক রক্ষা জরুরি?

একজন ভালো প্রতিবেশী নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও মানসিক প্রশান্তির উৎস। জীবনের অনেক কঠিন মুহূর্তে আত্মীয়দের আগেই প্রতিবেশী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ইসলামে প্রতিবেশীকে শুধু সামাজিক সম্পর্ক নয়, বরং একটি আমানত ও দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়েছে।

আজ যখন মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে, তখন حسن الجوار বা উত্তম প্রতিবেশীত্বের এই সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। কারণ সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে সুন্দর পরিবার দিয়ে, আর সুন্দর পরিবারগুলোকে ঘিরে রাখে সুন্দর প্রতিবেশী সম্পর্ক।

---অনুবাদ ও সংযোজনঃ আইন উদ্দিন আইনী
---আরবি থেকে অনূদিত
:
#হাদিস

সালা তো আর কিছু দিন টিকে গেলে পুরো বাংলাদেশ ই কিনে নিত🇧🇩🇧🇩🇧🇩তখন তো আমাদের ভাড়া দিয়ে থাকতে হতো🤣🤣🤣
19/06/2026

সালা তো আর কিছু দিন টিকে গেলে পুরো বাংলাদেশ ই কিনে নিত🇧🇩🇧🇩🇧🇩
তখন তো আমাদের ভাড়া দিয়ে থাকতে হতো🤣🤣🤣

16/06/2026

মামাতো বোনকে বিয়ে করেছিলাম, বে- ক্কল মেয়ে এখনো আমাকে ভাইয়া বলে ডাকে। আমাদের বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন বছর হলো। অফিসে গিয়েছি এমন সময় আম্মু ফোন দিয়ে বলল, বাসায় আয় সাথে মিষ্টি নিয়ে আসবি। খুশির খবর আছে! অফিস শেষ না করেই বাসায় চলে আসলাম।
তারপর আব্বু-আম্মুকে বললাম কিসের খুশির খবর? আবার মিষ্টি আনতে বললে কেন? দেখি সবাই আমাকে দেখে হাসছে কিন্তু কেউ কিছু বলছেনা।

* হঠাৎ ওপর থেকে আমার বউ এসে বলল, ভাইয়া খুশির খবর হলো আমি মা হতে চলেছি আর তুমি মামা🙂

15/06/2026

নতুন প্রজন্মকে দোষ দেওয়ার আগে একবার নিজেদের দিকেও তাকান!

আজকাল আমরা খুব সহজেই বলি—"এই জেনারেশনটা নষ্ট হয়ে গেছে", "ছেলেমেয়েদের মধ্যে আর আদব-কায়দা নেই", "এদের দিয়ে কিছু হবে না"।

কিন্তু খুব কম মানুষই নিজেদেরকে প্রশ্ন করে—

যে প্রজন্মকে আমরা আজ দোষ দিচ্ছি, তাদের গড়ে তুলেছে কারা?

যে সন্তান আজ মিথ্যা বলে, সে প্রথম মিথ্যা কোথায় শুনেছে?

যে সন্তান আজ রাগী, উদ্ধত কিংবা অবাধ্য, সে এসব আচরণ কার কাছ থেকে শিখেছে?

সন্তান জন্মের পর পৃথিবীকে প্রথম চিনতে শেখে তার পরিবার থেকে। বাবা-মায়ের আচরণই তার কাছে ভালো-মন্দের প্রথম সংজ্ঞা হয়ে দাঁড়ায়।

একজন বাবা যখন ঘরে ফিরে সন্তানকে সময় না দিয়ে সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, অথচ পরে অভিযোগ করেন—"ছেলেটা সারাদিন ফোনে ডুবে থাকে"—তখন প্রশ্ন জাগে, সন্তানটি আসলে কার কাছ থেকে এই অভ্যাস শিখল?

যখন সন্তান কোনো কথা বলতে আসে আর তাকে ধমক দিয়ে বলা হয়, "এখন বিরক্ত করিস না", "যা, সামনে থেকে সরে যা"—তখন ধীরে ধীরে সে নিজের অনুভূতিগুলো নিজের ভেতরেই আটকে রাখতে শেখে।

তারপর একসময় বাবা-মা অভিযোগ করেন—

"ছেলেটা আমাদের কিছুই বলে না।"

কিন্তু যে দরজাটা বারবার বন্ধ করা হয়েছে, সেই দরজায় সে আর কড়া নাড়বে কেন?

আবার অনেক পরিবারে দেখা যায়, বাবা-মা একে অপরকে অসম্মান করেন, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, ঝগড়া করেন, কটু ভাষায় কথা বলেন।

অথচ সন্তানের মুখে একই ভাষা শুনলে অবাক হয়ে যান।

সন্তান তো বই পড়ে যতটা শেখে, তার চেয়ে অনেক বেশি শেখে দেখে দেখে।

সে লক্ষ্য করে—

বাবা কীভাবে কথা বলেন।

মা কীভাবে মানুষের সমালোচনা করেন।

একজন আরেকজনের সাথে কেমন আচরণ করেন।

এসবই ধীরে ধীরে তার চরিত্রের অংশ হয়ে যায়।

অনেক বাবা-মা সন্তানের জন্য দামি পোশাক, ভালো স্কুল, ভালো খাবারের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—ভালোবাসা, নিরাপত্তা, মনোযোগ এবং মানসিক উপস্থিতি—সেটাই দিতে ভুলে যান।

সন্তানের ঘর ভর্তি খেলনা থাকতে পারে, কিন্তু যদি তার হৃদয় শূন্য থাকে, তাহলে সেই শূন্যতা কোনো বস্তু দিয়ে পূরণ করা যায় না।

আবার অনেক মা-বাবা সন্তানকে সত্যবাদী হওয়ার উপদেশ দেন, অথচ নিজেরাই ছোট-বড় নানা বিষয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেন।

সন্তানকে সম্মান শেখাতে চান, অথচ নিজেরাই মানুষের সম্মান নষ্ট করেন।

সন্তানকে দ্বীন-ধর্মের শিক্ষা দেন, কিন্তু নিজেদের জীবনে সেই শিক্ষার প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়।

ফলে সন্তানের মনে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

সে বুঝতে পারে না—কোনটা সত্যিকার শিক্ষা, আর কোনটা শুধু মুখের কথা।

আমরা ভুলে যাই, সন্তানরা আমাদের কথা শোনার আগে আমাদের জীবনকে পড়ে।

আমরা যা বলি তার চেয়ে আমরা যা করি, সেটাই তাদের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

তাই নতুন প্রজন্মকে নিয়ে হতাশ হওয়ার আগে আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা দরকার—

আমরা কি সেই পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি, যেখানে একটি সুন্দর চরিত্রের সন্তান বেড়ে উঠতে পারে?

আমরা কি নিজেদের আচরণ, ভাষা, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে তাদের জন্য অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হতে পেরেছি?

আল্লাহ তাআলা বলেন—

"আর পবিত্র ভূমির উদ্ভিদ তার প্রতিপালকের নির্দেশে সুন্দরভাবে উৎপন্ন হয়, আর যে ভূমি অপবিত্র, তা থেকে কষ্টকর ও নগণ্য ফসলই বের হয়।"
(সূরা আল-আ'রাফ: ৫৮)

সন্তান হলো বীজের মতো। আর পরিবার হলো তার মাটি। মাটি যেমন হবে, ফলও তেমনই হওয়ার সম্ভাবণা থাকে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when টিপস অ্যান্ড ট্রিকস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to টিপস অ্যান্ড ট্রিকস:

Share