03/06/2026
বেলস পালসি নিরাময়ে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা।
বেলস পালসি হলো মুখের একপাশের পেশি দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়ার একটি আকস্মিক অবস্থা।
৭ম ক্রেনিয়াল নার্ভ বা ফেসিয়াল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। বেলস পালসি থেকে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেলস পালসি কী?
ফেসিয়াল নার্ভে ভাইরাসের আক্রমণ, প্রদাহ বা ব্লকেজ তৈরি হলে মুখের একদিকের পেশি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি চোখ বন্ধ করতে পারেন না, হাসতে গেলে মুখ বেঁকে যায় এবং খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হয়।ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব ও উপকারিতামুখের পেশি সচল করতে এবং স্থায়ী ক্ষতি রোধ করতে ফিজিওথেরাপি প্রধান চিকিৎসা হিসেবে কাজ করে।
এর মূল উপকারিতাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
পেশির ক্ষয় রোধ (Muscle Atrophy Prevention):
দীর্ঘদিন মুখ অবশ থাকলে পেশিগুলো স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফিজিওথেরাপি পেশিকে সচল রেখে এই ক্ষয় রোধ করে।
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি:
থেরাপির মাধ্যমে আক্রান্ত স্থানের রক্ত চলাচল বাড়ে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত নার্ভ বা স্নায়ু দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।
মুখের আকৃতি স্বাভাবিক করা:
নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে মুখের দুই পাশের পেশির মধ্যে সমন্বয় ফিরে আসে। ফলে মুখের বেঁকে যাওয়া ভাব দূর হয়।
চোখের সুরক্ষা:
বেলস পালসিতে আক্রান্ত ব্যক্তি চোখ বন্ধ করতে পারেন না। ফিজিওথেরাপি চোখের চারপাশের পেশি শক্তিশালী করে চোখ বন্ধ করতে সাহায্য করে, যা চোখকে ড্রাইনেস ও ইনফেকশন থেকে বাঁচায়।
কথা বলা ও খাবার গিলতে সাহায্য করা:
থেরাপি মুখের ও ঠোঁটের পেশি সচল করে। ফলে স্পষ্ট কথা বলা এবং খাবার চিবিয়ে খাওয়ার কষ্ট দূর হয়।প্রধান ফিজিওথেরাপি পদ্ধতিসমূহএকজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর অবস্থা বুঝে সাধারণত নিচের পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করেন:
ফেসিয়াল ম্যাসাজ:
বিশেষ নিয়মে মুখের পেশিতে ম্যাসাজ করা হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শক্ত হয়ে যাওয়া পেশি শিথিল করে।
ফেসিয়াল এক্সারসাইজ:
রোগীকে আয়নার সামনে বসিয়ে কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম করানো হয়। যেমন—ভুরু কুঁচকানো, চোখ শক্ত করে বন্ধ করা, হাসা, শিষ দেওয়া এবং গাল ফোলানো।ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন: মৃদু বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া পেশিগুলোকে উদ্দীপিত করা হয়, যাতে তারা আবার কাজ করা শুরু করে।হিট থেরাপি: মুখের প্রদাহ এবং ব্যথা কমানোর জন্য অনেক সময় মৃদু গরম সেঁক বা ময়েস্ট হিট ব্যবহার করা হয়।সতর্কবার্তালক্ষণ দেখা দেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব (আদর্শভাবে প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে) চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি শুরু করা উচিত। নিজে নিজে ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়াম করলে মুখের পেশি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে (Synkinesis)। তাই সর্বদা একজন রেজিস্টার্ড ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানেই চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
ফিজিওথেরাপি সেবা ও অাথ্রাইটিস কেয়ার সেন্টার