07/05/2026
আবু লাহাব এবং তার পুত্র উতাইবা যখন সিরিয়া সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন উতাইবা উদ্ধত হয়ে বলল, "সফরে যাওয়ার আগে একবার মোহাম্মদের (ﷺ) আল্লাহর শানে (নাউযুবিল্লাহ) গালি দিয়ে আসি।"
সে নবীজি ﷺ এর কাছে গিয়ে অত্যন্ত ধৃষ্টতা ও বেয়াদবি প্রদর্শন করল। তার এই বারবার সীমালঙ্ঘন ও চরম অভদ্রতায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র মুখ থেকে এই বদদোয়াটি বেরিয়ে এল:
"اللّٰہُمَّ سَلِّطْ عَلَیْہِ کَلْباً مِّنْ کِلَابِک"
(হে আল্লাহ! আপনার কুকুরগুলোর মধ্য থেকে একটি কুকুরকে তার ওপর লেলিয়ে দিন।)
উতাইবা যখন তার বাবা আবু লাহাবের কাছে ফিরে এসে পুরো ঘটনা শোনাল, তখন আবু লাহাব (নবীজির চরম শত্রু হওয়া সত্ত্বেও) ভীত হয়ে বলল, "এখন তো আমি তোমার জীবনের ব্যাপারে শঙ্কিত। তাঁর (নবীজি ﷺ এর) দোয়া কস্মিনকালেও বিফলে যায় না।"
এরপর কাফেলা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। পথে এক পাদ্রীর গির্জার কাছে তারা তাবু ফেলল। পাদ্রী তাদের সতর্ক করে বললেন, "এখানে তো হিংস্র প্রাণীরা এভাবে ঘুরে বেড়ায় যেন ভেড়ার পাল! তোমরা এখানে কেন এলে?"
এ কথা শুনে আবু লাহাব থমকে গেল। সে কাফেলার সবাইকে জড়ো করে বলল, "তোমরা জানো আমার বয়স হয়েছে এবং তোমাদের ওপর আমার হক আছে। আজ আমি একটি অনুরোধ করছি। নবুওয়াতের দাবিদার (রাসূল ﷺ) আমার ছেলের জন্য বদদোয়া করেছেন, আমি তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
তোমরা সব মালপত্র এক জায়গায় স্তূপ করো এবং তার ওপর আমার ছেলেকে ঘুমানোর ব্যবস্থা করো, আর তোমরা সবাই তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে পাহারা দাও।"
সবাই তা-ই করল। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পাহারা দিচ্ছিল। হঠাৎ গভীর রাতে একটি সিংহ এল এবং পাহারারত প্রত্যেকের মুখ শুঁকতে লাগল। যেন সে কাউকে খুঁজছে। সবাইকে শুঁকে যখন তার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে পেল না, তখন সে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে এক বিশাল লাফ দিয়ে মালামালের স্তূপের ওপর উঠে গেল। সেখানে গিয়ে সে উতাইবার মুখ শুঁকল এবং বুঝতে পারল এই সেই ব্যক্তি। মুহূর্তেই সিংহটি তাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল।
ছেলের এই করুণ দশা দেখে আবু লাহাব আক্ষেপ করে বলতে লাগল, "আমি জানতাম যে, মোহাম্মদের (ﷺ) মুখ থেকে কথা বের হওয়ার পর সে আর বাঁচতে পারবে না।"
আল্লাহর রাসূলের অবমাননা করলে দুনিয়া ও আখেরাতে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়। নবীজি ﷺ এর চরম শত্রু আবু লাহাবও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করত যে নবীজির কথা মিথ্যা হয় না।
সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর
তারিখু দিমাশক
মুস্তাদরাকে হাকেম
দালাইলুন নুবুওয়াহ (ইমাম বাইহাকী রহ.)
আল-ইসাবা (ইবনে হাজার আসকালানী রহ.)