ভেষজ এবং আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্যকথা

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • ভেষজ এবং আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্যকথা

ভেষজ এবং আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্যকথা সুস্থতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় নিয়ামত। এই নিয়ামতের কদর অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত অনুধাবন করা যায় না।

ভূঁই আমলা আমাদের আশপাশে রাস্তার ধারে,পতিত জমিতে এক দেড় ফুট লম্বা ছোট্ট গুল্ম জাতীয় এই গাছটি প্রায়‌ই চোখে পড়ে। আমলকির মত ...
30/08/2025

ভূঁই আমলা
আমাদের আশপাশে রাস্তার ধারে,পতিত জমিতে এক দেড় ফুট লম্বা ছোট্ট গুল্ম জাতীয় এই গাছটি প্রায়‌ই চোখে পড়ে। আমলকির মত ঝিরি ঝিরি পাতা, পাতার নিচে কক্ষ বরাবর সার দিয়ে সরষে দানার মত ফুল ও ফল, ঠিক যেন আমলকির ক্ষুদ্র সংস্করণ। হ‍্যাঁ বর্ষজীবি এই মহামূল্যবান, অসাধারন ঔষধী গুণসম্পন্ন গাছটি প্রজাতিগতভবে আমলকির‌ই মাসতুতো বোন। দুই বাংলা সমেত ভারতের সমস্ত নাতিশীতোষ্ণ অঞলেই ভূঁইআমলা পাওয়া যায়।
গ্ৰীষ্মের শেষে গাছ বের হয়, বর্ষাশেষে ফুল ফল ধরে,শীতের শুরুতে ফল পাকতে থাকে। সমগ্ৰ গাছ‌ই ঔধধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। গাছ সংগ্ৰহের সময় শীতকাল এবং এটি ছায়ায় রেখে শুকনো করা উচিত। মনে রাখবেন, ভিজে স্যাঁতসেতে জমিতে জন্মানো গাছের তুলনায় বালি কাঁকুরে জমির গাছের ভেষজ গুণ অনেক বেশি হয়।
নাম পর্যায়ঃ সংস্কৃতে ভূঁই আমলার বহু নাম, তামলকী, উচ্চটা,বহুবীর্য, ভূম্যালকী, বীরা তার মধ্যে অন্যতম। হিন্দীতে - ভূঁই তামল, ভদ্র আম্বড়া, পাতাল আম্বড়া। বৈজ্ঞানীক নাম Phyllanthus fraternus, Syn. name Phyllanthus niruri
গুণাবলী ও ব্যবহার বিধিঃ ভূঁই আমলার ভেষজ গুণের সীমা পরিসীমা নেই। অসংখ্য এর লৌকিক ব্যবহার। প্রধান কার্যকারিতা গুলো উল্লেখ করছি।
যকৃত বা লিভারের রোগে (অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস ব্যতীত) ভূই আমলার থেকেও বেশি কার্যকর কোন ঔষধ এতদঞলে নেই। কাঁচা শিকড় ৩ - ৪ গ্ৰাম অথবা শুকনো শিকড় ২ গ্ৰাম ৩-৪টি গোলমরিচ সহ ভাতের আমানী ( পান্তা ভাতের জল ) দিয়ে বেটে সকালে– বিকালে খালিপেটে খেলে ৭ থেকে ১০ দিনে জন্ডিস উপশম হবেই। সঙ্গে সুপথ্য ও বিশ্রাম অবশ্য‌ই প্রয়োজন। যকৃতের সঙ্গে প্লীহা (স্প্লীন) ও পাকস্থলী (স্টম‍্যাক) এর‌ও গন্ডগোল থাকলে ভূঁই আমলার শিকড় ও গোলমরিচের সঙ্গে ৭-৮টি কালমেঘ পাতা আমানী দিয়ে বেটে এক‌ই নিয়মে খেলে ও দুটির উপসর্গ‌ও সেরে যাবে।
সমগ্ৰ গাছ মূত্রকৃচ্ছতায় খুব‌ই উপকারী। কাঁচা গাছ ১০ - ১২ গ্ৰাম অথবা শুকনো গাছ ৫ - ৬ গ্ৰাম, ২০০- ২৫০ গ্ৰাম জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে দিনে দু বার, নিয়মিত ৮ - ১০ দিন খেলে ইউরিনারি ট্র‍্যাক্ট ইনফেকশন (U T I), প্রষ্টেটাইটিস অথবা গণোরিয়া জাতীয় যৌন রোগের কারনে পেচ্ছাপ আটকে যাওয়া নিরাময় হবেই ।
কাঁচা পাতার রস এক চামচ( ৫ মি লি ) সকাল বিকাল খালিপেটে নিয়মিতভবে ৫ - ৬ দিন খেলে পেটখারাপ ও সাদা আমাশা সেরে যাবে। দীর্ঘ রোগভোগের পর এই রস এক‌ই নিয়মে ৩ - ৪ টি গোলমরিচের গুঁড়ো সমেত সকাল - বিকাল বেশ কিছু দিন খেলে বলদায়ক টনিকের মত কাজ করে।
পাতা ও কান্ড ছিঁড়লে যে রসটা বেরোয় ওটি দূষিত ও পুরানো ঘায়ে এবং নখ কুনিতে দিনে দু বার করে লাগালে ভাল হয়ে যাবে।
উপজাতি চিকিৎসকরা আমানী, গোলমরিচ, হলুদ ও পিপুল অনুপান সহযোগে বহুরোগে জর আমলা/ বদর / মারাঙ্গ বা ভূঁই আমলাকে ঔষধরূপে সফলভবে ব্যবহার করেন বা বলা ভাল, করতেন। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সব লোকায়ত চিকিৎসা পদ্ধতি। এখনি এগুলির যথাযথ খোঁজসন্ধান করে লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন। নাহলে বহুদিন ধরে চলে আসা এই অসাধারন ফলিত জ্ঞান সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয়ে যাবে। অব্যবহারের জন্য একদিন হারিয়ে যাবে হাতের কাছের অমূল্য এই গাছ, ভূঁই আমলাও ।
নতুন তথ্য সংযোজন আশা করছি আপনাদের কাছ থেকেও। আপনাদের মূল্যবান মতামত‌ও প্রণিধেয়।

মহাভৃঙ্গরাজ ভেষজটি কটুতিক্ত ও হালকা কষস্বাদযুক্ত করে। ফলে স্বাভাবিকভাবে এটি পিত্ত ও শ্লেষ্মা, বিকার, কফের ওপর ভালো কাজ ক...
23/08/2024

মহাভৃঙ্গরাজ ভেষজটি কটুতিক্ত ও হালকা কষস্বাদযুক্ত করে। ফলে স্বাভাবিকভাবে এটি পিত্ত ও শ্লেষ্মা, বিকার, কফের ওপর ভালো কাজ করে। এর ওষুধী গুণাগুণঃ
১) সূর্যোদয়ের পর অনেকের মাথায় যন্ত্রণা হয় বা আধকপালে ব্যথা হয়, সেক্ষেত্রে ভৃঙ্গরাজের পাতার রস মাথায় মাখলে উপশম হয়।
২) মাথার চুল ওঠায় এই পাতার রস দুপুরে মাথায় লাগালে অথবা রস দিয়ে তেল পাক করে ব্যবহার করলেও চুল পড়া বন্ধ হয়।
৩) নারীরা শ্বেত প্রদরের শিকার হলে প্রায়ই মাথার চুল উঠে যায়, সেক্ষেত্রে ভৃঙ্গরাজের পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে দিনে দুইবার মাথা ধুলে ৩/৪ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়।
৪) চোখ উঠে পুঁজ জমলে ২০/২৫ ফোঁটা ভৃঙ্গরাজের রস পানিতে মিশিয়ে এ পানি দিয়ে চোখ ধুলে এটি সেরে যাবে।
৫) পাইরিয়া হলে ভৃঙ্গরাজের পাতার গুঁড়া করে মাজনের মত ২/৪ মিনিট ব্যবহার করলে দোষটি সেরে যায়। এছাড়াও এতে মাড়ি শক্ত হয় এবং মাড়িতে কোন ঘা থাকলে পাতার ক্বাথ দিয়ে কয়েকটি দিন মুখ ধুলে সেরে যায়।
৬) গুঁড়া কৃমির উপদ্রব হলে এর পাতার রস পূর্ণবয়স্কদের জন্য এক চা চামচ এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খেলে উপদ্রব কমে যায়।
৭) অজীর্ণ মল, তার সঙ্গে আমও আছে, এরকম ক্ষেত্রে ২৫/৩০ ফোঁটা ভৃঙ্গরাজ পাতার রস প্রতিদিন আধা কাপ ছাগলের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ভালো হয়।
৮) ভৃঙ্গরাজ পাতার রস মাথায় মাখলে উকুন মরে যায়।
৯) রক্তে শ্বেত কনিকা বেড়ে গেলে ২৫/৩০ ফোঁটা এই পাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে স্বাভাবিক হয়ে আসে।
১০) দাঁতে ভৃঙ্গরাজ রসের প্রলেপ দিলেও বেশ উপকার হয়।

আমাদের দেশে তোকমা খুবই পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি বীজ দানা। যা পানিতে বা শরবতে ভিজিয়ে খেতে হয়। আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও চীনা মেডিসি...
23/08/2024

আমাদের দেশে তোকমা খুবই পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি বীজ দানা। যা পানিতে বা শরবতে ভিজিয়ে খেতে হয়। আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও চীনা মেডিসিনে যার বহুল ব্যবহার রয়েছে। বিজ্ঞানে Ocimum Sanctum গোত্রের একটি উদ্ভিজ্জ উপাদান হিসেবে থাকলেও এই বীজের ব্যবহার সারা দুনিয়াজুড়ে পানীয় হিসেবেই পরিচিত। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, প্রোটিন, আয়রন এবং ক্যালরি।
তোকমা বীজ পানিতে ভিজিয়ে খেতে হয় বলে এর একটি জেলী জাতীয় আবরণ হয়, যা পরিপাকে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে প্রচুর আঁশ থাকায় হজম, কোষ্টকাঠিন্য, ডায়রিয়া, আমাশয় ইত্যাদি সমস্যায় বেশ উপকারী ভূমিকা রাখে।
তোকমা বীজের তেল গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা দূর করতে সক্ষম। তোকমা খেলে ক্ষুধাভাব কমে আসে। পেট ভরা অনুভুত হয় বলে ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকে। প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে বলে শরীরে বল পাওয়া যায় তোকমা সেবনে। এছাড়াও সকালের নাস্তায় তোকমা খেলে সারাদিন শরীর থাকে ঝরঝরা।
তোকমা জ্বর কমাতে এবং শ্বাসকষ্ট দূর করতে সহায়তা করে, তাই হাঁপানি রোগীরা নিয়মিত তোকমা ওষুধ হিসেবে সেবন করত পারেন। আবার এতে লাইনলিক ও ফ্যাটি এসিড থাকায় টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে। তোকমা গ্রহণকারী ইঁদুরের গবেষণায় এটি প্রমাণিত।

শরীরের প্রদাহ, ফোলা ভাব, আরথ্রাইটিসের সমস্যায় তোকমা দারুন উপকারী। কোলেস্টেরল, হৃদরোগের সমস্যা সমাধানেও তোকমা ব্যবহার হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, লিপিড স্তর সীমিত রেখে দুশ্চিন্তা দূর করে। আবার তোকমা মুখের নানা ধরণের ইনফেকশন, আলসার, প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে। মুখের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয়ও রোধ করে।
তোকমা খাওয়ার সময় পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। পরিপূর্ণ ভিজে ফুলে উঠলে শরবত বা পানিতে মিশিয়ে খেয়ে নিতে হবে। তবে শিশু ও গর্ভবতীদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাওয়া ভাল। যারা এখনো তোকমা খাওয়া শুরু করেননি তারা প্রতিদিন এক চামচ করে শুরু করতে পারেন। আর পার্থক্যটা নিজে থকেই বুঝতে পারবেন।
ব্যবহারের কিছু নিয়ম ও সতর্কতা:
তোকমা খাওয়ার পূর্বে তোকমা বীজ পানিতে ভালোভাবে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
বীজগুলো একদম বড় হয়ে ফুলে উঠলে এরপর সেটা খাওয়া যাবে।
শিশুদের এটা খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।যেহেতু এটা বেশ পিচ্ছিল হয়ে যায় ভেজানোর পর।
গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তোকমা গ্রহণ করা উচিৎ।
প্রতিদিন তোকমা বীজ খেতে চাইলে এক চা চামচ গ্রহণ করাই কিন্তু যথেস্ট হবে।

18/07/2024

সুস্থতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় নিয়ামত। এই নিয়ামতের কদর অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত অনুধাবন করা যায় না।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভেষজ এবং আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্যকথা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share