05/08/2025
ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে কেনো বাতিল বা হারাম গণ্য হতে পারে —
মূল কারণসমূহ:
1. নির্দিষ্ট ও চিহ্নিত মালিক বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি
• ইসলামি অর্থনীতিতে কারেন্সি বা সম্পদের জন্য একজন স্পষ্ট মালিক, ইস্যুকারী বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ থাকা আবশ্যক।
• ক্রিপ্টোতে এটি বিকেন্দ্রীভূত (decentralized), কোনো রাষ্ট্র, ব্যাংক বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ এর দায় নেয় না।
• এর ফলে جهالة (অজ্ঞতা) এবং غرر (ঝুঁকিপূর্ণ অনিশ্চয়তা) সৃষ্টি হয়, যা শরীয়তে নিষিদ্ধ।
2. অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা ও জুয়ার সদৃশ আচরণ (Gharar ও Maysir)
• মূল্য হঠাৎ ব্যাপকভাবে ওঠা-নামা করে।
• বিনিয়োগের বদলে অনেকে জুয়ার মতো ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত লাভের আশায় এতে অর্থ ঢালে।
• Maysir (জুয়া) ও Gharar (অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা) — উভয়ই শরীয়তে হারাম।
3. বাস্তব সম্পদ দ্বারা সমর্থিত নয় (No Intrinsic Value)
• শরীয়ত অনুযায়ী কারেন্সি বা সম্পদের পেছনে কোনো না কোনো বাস্তব সম্পদ বা রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি থাকতে হবে (যেমন স্বর্ণ, রূপা, বা সরকারি সমর্থন)।
• ক্রিপ্টোতে কোনো বাস্তব সম্পদ নেই, এবং এর মান শুধু বাজারের চাহিদা ও জল্পনাভিত্তিক।
4. সর্বজনস্বীকৃত বিনিময়ের মাধ্যম নয়
• শরীয়ত অনুযায়ী অর্থ এমন কিছু হওয়া উচিত যা সমাজে সাধারণভাবে স্বীকৃত এবং স্থিতিশীল।
• অধিকাংশ দেশে ক্রিপ্টো অবৈধ বা সীমিত, ফলে এটি ‘মালিয়াত’ (সম্পদ হিসেবে বৈধতা) হারায়।
5. অবৈধ কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি
• ক্রিপ্টো সহজেই গোপন লেনদেন ও অপরাধমূলক কাজে (মাদক, অস্ত্র, মানি লন্ডারিং) ব্যবহৃত হয়।
• হারাম কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলে সেটি নিষিদ্ধ হতে পারে।
১। Darul Ifta Deoband-এর রায়
• Darul Ifta Deoband-এ ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ফতোয়া জারি করা হয়েছে, যেখানে ক্রিপ্টোকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে
২। দারুল ইফতা মিসর:
• “রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা শরীয়তসম্মত নয়।”
৩। OIC ফিকহ একাডেমি (Majma Al-Fiqh Al-Islami):
• “কারেন্সি হতে হলে আইনগত স্বীকৃতি, দায়িত্বশীল ইস্যুকারী এবং স্থিতিশীলতা থাকতে হবে — ক্রিপ্টোতে এগুলো নেই।”