19/04/2025
আল্লাহর পরে যাকে ভালোবাসি সেই মানুষটি আমার শখের পুরুষ। আর সেই শখের পুরুষ যখন ছেড়ে যায়। সেই কষ্টটা মনে পরলে এখনো বুকে ব্যথা লাগে। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে হওয়ার কারণে সামাজিক দায়বদ্ধতার ছিল মাথার উপরে আকাশ সমান। চাইলেই এই সমাজ থেকে বের হয়ে একা থাকার কোন ক্ষমতা বা শক্তি আমার ছিল না।
প্রত্যেকটা মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ের সাথে যা হয় আমার সাথেও তাই হয়েছিল। পরিবারের ইচ্ছার কাছে নিজের ইচ্ছাকে গলাচিপে হত্যা করতে হয়েছিল। কিন্তু মন খুব অবুঝ, সে না শুনে কোন কথা, শখের পুরুষের খোঁজে দিনের পর দিন বছরের পর বছর পার করে দেওয়ার পরও মনের কোন ক্লান্তি ছিল না।
অবশেষে আল্লাহ একদিন মুখ তুলে চাইল, যদিও সেটা সহজ ছিল না তারপরও, অবশেষে তার দেখা মিলল। সেদিন আমি পৃথিবীতে মনে হয় সব থেকে সুখী মানুষ ছিলাম। দেখা হল, কথা হল, সবই হলো। কিন্তু সেই আগের ছলনা সে আবারো করতে শুরু করল। আমার অবাধ্য মন সে তো আর হাল ছেড়ে দেওয়ার মতন নয়। তার ভালবাসা পাওয়ার জন্য তার ইচ্ছা অনুযায়ী যা চেয়েছে তাই করেছে।
অবশেষে, একদিন তার মনে আমার প্রতি ভালোবাসার জন্ম নেয়া শুরু করলো এবং সেটা আমি উপলব্ধি করতে পারছিলাম।
আমি অসম্ভব খুশি হয়েছিলাম আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া আদায় করেছিলাম, না আমি পেরেছি। আমার ভালবাসার মানুষ ও আমাকে এখন ভালোবাসে খুবই হ্যাপি ছিলাম।
তবে কপালপোড়া সাথে যা হয় আমার সাথেও তাই হয়েছে । সুখ বেশিদিন সইলো না।
সে আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পরে তার জীবনে অন্য কেউ এসে। তার সাথে সুখের সংসার বেঁধেছে সেখানে দুটো নতুন প্রাণের সংযোজনও হয়েছে।
আমার শখের পুরুষের বুকের তার স্থান। সেটা যখন নিজ চোখে দেখলাম। তখন প্রথমবার অনুভব করছিলাম দ্বিতীয়বার দেখার না হওয়াটাই বোধহয় ভালো ছিল। তাকে না পাওয়ার ব্যথাটা যতটা তীব্র ছিল। তার থেকেও লক্ষ লক্ষ গুন তীব্র ব্যথা বুকে নিয়ে আমি প্রত্যেকটা সেকেন্ড পার করছি।
যদিও তার যুক্তির শেষ নেই, কিন্তু সত্যটা আমি জানি, আমি তার দেওয়া যুক্তিগুলো বিশ্বাস করতে চাই। যদিও যুক্তিগুলো মিথ্যে জানার পরও আমি যুক্তিগুলোকে বিশ্বাস করতে চাই। কারন আমার বুকের তীব্র ব্যথা কমানোর জন্য এই মিথ্যে যুক্তি বিশ্বাস করা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।
প্রতিদিন সবার কাছ থেকে শুনতে হয় প্রথম না দ্বিতীয় না তৃতীয় বউ যেন না হই।
আমি আমার শখের পুরুষের তৃতীয় ভালোবাসা।
আমি আমার শখের পুরুষের তৃতীয় ভালোবাসা। কপাল নিয়ে জন্মেছি বলতে হবে।
আমার কষ্টের সেও কষ্ট পায় অসম্ভব কষ্ট পায় আর সেটা ফিল করি। কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাহিরে কিছুই করার নেই।
আমার শখের পুরুষের বুকে আরো দুইজন থাকে। প্রথমজন থাকা শেষ হলে দ্বিতীয় জন থাকে, আর দ্বিতীয় জন ছেড়ে দেওয়ার পরে যদি সময় থাকে সেটা আমার জন্য।
আগে শুনতাম ছাগলের তিন নাম্বার ছানা নাকি খুবই অসহায় থাকে। প্রথম দুইজন স্পেস দিলে তৃতীয় জনের স্পেস হয় আর না দিলে শুধু তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার থাকেনা।
পৃথিবীতে একটা পুরুষের প্রতি আসক্ত হয়ে, এখন আমি ছাগলের তিন নাম্বার ছানায় পরিণত হয়েছি।
বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন স্বামী সবার বিপক্ষে থাকা আমি একজন অভাগা নারী।
যার প্রতি রাতে চোখের পানিতে বালিশ ভেজানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই। চোখের পানি এখন আমার খুবই প্রিয় বন্ধু। যে সর্বদাই আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকে।
সত্যিকারের ভালবাসার পুরস্কার হিসেবে আমার শখের পুরুষর কাছ থেকে অফুরন্ত চোখের পানি পেয়েছি।
যদিও আমার শখের পুরুষ আমার প্রতি যথেষ্ট কেয়ারিং এখন, যথেষ্ট আমার মন বুঝে চলার চেষ্টা করে, যথেষ্ট এফোর্ড দেয়।
কিন্তু এগুলো আমার কাছে মূল্যহীন।
যার উপস্থিতি আমায় শান্তি দিত। এখন তার উপস্থিতি আমাকে কষ্ট দেয়। যেই চেহারার দিকে তাকালে আগে মায়া লাগতো, সেই চেহারার দিকে তাকালে এখন ঘেন্না হয়।
কিন্তু তারপরও আমি সবার বিপক্ষে গিয়ে তার পাশে আছি, হাজারো অভিযোগ অভিমান থাকার পরও তাকে ছেড়ে যেতে পারছি না। এটাই মনে হয় আমার অবুঝ ভালোবাসা। এই অবুঝ ভালোবাসার কাছে প্রতিনিয়ত হার মেনে যাচ্ছি।
ভালোবাসার মানুষ হাজারো দোষ করলেও সেই দোষে তাকে শাস্তি দেয়া যায় না। তার দোষের শাস্তি নিজের উপরে চালিয়ে প্রতিনিয়ত তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার নামই মনে হয় ভালোবাসা।
প্রত্যেকটা সেকেন্ড মরে যাচ্ছি। এই যন্ত্রণার শেষ কোথায় জানিনা।