18/07/2025
ফিরে দেখা— ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলো...
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার—কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। রাজপথে নেমে আসে সাধারণ শিক্ষার্থী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতা।
এই দিনটি ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা শাসনের নগ্ন রূপ উন্মোচনের এক ভয়াবহ টার্নিং পয়েন্ট। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্রবিরোধী শাসনের নির্মম চেহারা যেন স্পষ্ট হয়ে উঠে আসে ১৮ জুলাইয়ের প্রতিটি ঘটনার ভেতর দিয়ে।
এদিন প্রমাণিত হয়—ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রযন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে কুক্ষিগত করেছে। জনগণের মৌলিক অধিকারকে পদদলিত করতে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে, গুলি, গ্রেফতার, নিপীড়ন ও নির্যাতন—সবই যেন হয়ে ওঠে তাদের শাসনব্যবস্থার নিত্যচিত্র।
ওইদিন রাজধানীর রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ছাত্র-জনতার কাতারে দাঁড়িয়েছিল বন্দুকের মুখোমুখি হয়ে। তারা ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেয়—গর্জে উঠেছিল এক কণ্ঠে, এক চেতনায়।
এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রজনতার ওপর পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৩১ জন শহীদ হন।
তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২৪ জন, চট্টগ্রামে ও নরসিংদীতে দুজন করে এবং রংপুর, সাভার ও মাদারীপুরে একজন করে নিহত হন। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আহত হন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এর আগে ১৬ জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে ছয়জন নিহত হন।
১৮ জুলাই ২০২৪, আজমপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। যিনি ছিলেন একজন শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। আন্দোলনের সময় খাবার পানি এবং বিস্কুট বিতরণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মুগ্ধ। মুগ্ধর মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
১৮ জুলাই শুধু একটি তারিখ নয়, এটি প্রতিরোধ, প্রত্যয় ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথের প্রতীক।
#জুলাইঅভ্যুত্থান #গণজাগরণজুলাই
#গণঅভ্যুত্থান২০২৪ #জাতীয়ঐক্য
#গণতন্ত্রেরঅভিযাত্রা #বিএনপি #গণতন্ত্রেরসংগ্রাম