18/08/2026
আমাদের দেশে পেট একটু ফাঁপলেই বা ভারী মনে হলেই আমরা খুব সহজে ধরে নিই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়েছে। এরপর ঘরোয়া কোনো টোটকা কিংবা ফার্মেসি থেকে গ্যাসের একটা ট্যাবলেট কিনে খেয়ে ফেলাটাই আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। দেখা যায়, সাময়িক একটু আরাম মেলে, কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেই একই অস্বস্তি ফিরে আসে।
কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার এই প্রতিদিনের পেট ফাঁপার পেছনে শুধুই পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক দায়ী নাও হতে পারে? আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটিতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে বা এটি সঠিকভাবে কাজ না করলেও কিন্তু প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে পেট ফাঁপা বা পেট ভারী লাগার সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আমরা প্রায়ই গ্যাসের ওষুধকে সর্বরোগের ওষুধ মনে করে মাসের পর মাস খেয়ে যাই, অথচ ভেতরের মূল কারণটি অজানাই থেকে যায়।
✅ সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের পেট ফাঁপা যেমন হয়
আমাদের হজমপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে বা পাকস্থলীতে অতিরিক্ত গ্যাস জমলে যে পেট ফাঁপা হয়, তা সাধারণত খুব একটা জটিল নয়। খুব তাড়াতাড়ি খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা মশলাযুক্ত খাবার, কোল্ড ড্রিংকস, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসের কারণে এটি হয়। পেটের ওপরের দিকে গ্যাস আটকে থাকার মতো লাগে, পেটে একধরনের অস্বস্তি বা অসাড় ভাব তৈরি হয়। বুক জ্বালাপোড়া করা, টক ঢেঁকুর ওঠা, কিংবা পেট কামড়ানোর মতো লক্ষন থাকতে পারে। ঢেঁকুর উঠলে, বায়ু ত্যাগ হলে কিংবা সাধারণ গ্যাসের ওষুধ খেলে এই অস্বস্তি দ্রুত কমে যায় এবং পেট হালকা লাগে।
✅ লিভারের সমস্যার কারণে পেট ফাঁপা যেমন হয়
লিভার আমাদের শরীরের খাবার হজম ও বিপাকক্রিয়ার প্রধান কেন্দ্র। লিভার যখন চর্বি জমে বা কোনো ইনফেকশনের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন স্বাভাবিক হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। আবার লিভারের রোগ যখন জটিল রূপ নেয় তখন পেটের ভেতর পানি জমতে শুরু করে। লিভারের ইনফ্লামেশন, ফ্যাটি লিভার, কিংবা ক্রনিক লিভার ডিজিজের কারণে পেটে তরল জমে যায়। পেট সবসময় টাইট বা টানটান হয়ে থাকে, মনে হয় ভেতরে কিছু একটা জমে আছে। পেট ফাঁপা ভাবটা সহজে কাটতে চায় না। পেটের আকার দিন দিন বড় হয় বা ফুলে যায়, এন্টাসিড বা গ্যাসের ওষুধ খেয়েও কোনো স্বস্তি পাওয়া যায় না, পেটের পাশাপাশি দু পায়ে পানি আসে বা পা ফুলে যায়, চরম ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং হঠাৎ ওজন বেড়ে যায় বা কমে যায়, খাওয়ার অরুচি, বমি বমি ভাব, কিংবা ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়।
পেট ফাঁপাকে সামান্য গ্যাস্ট্রিক মনে করে মাসের পর মাস মুড়ির মতো গ্যাসের ওষুধ খাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অতিরিক্ত গ্যাসের ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে পাকস্থলী ও কিডনির নানাবিধ ক্ষতি হতে পারে। যদি দেখেন আপনার পেট ফাঁপার সমস্যাটি টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে, গ্যাসের ওষুধেও কমছে না, কিংবা এর সাথে শরীর বা পা ফোলাভাব অনুভব করছেন তবে আর দেরি করবেন না। একজন লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে পেটের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং প্রয়োজনীয় কিছু রক্তের পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
লিভারের যত্নে আমরা,
লিভার রোগ প্রতিরোধে সচেতন থাকুন।
ডাঃ আনহারুর রহমান
সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি)
কনসালটেন্ট ল্যাপারোস্কপিক, পরিপাকতন্ত্র, হেপাটোবিলিয়ারি, ও প্যানক্রিয়াটিক সার্জারি।