11/02/2026
ভোট কোনো মজা করার বিষয় না। আগামীতে আপনি কেমন থাকবেন, আপনার পরিবার কেমন থাকবে, আপনার সন্তানরা কেমন থাকবে ভোটের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আপনি নিজেই নিবেন।
যেমন ধরেন দৈনন্দিন জিনিসপত্র বেশি না কম দামে খেতে চান সেই সিদ্ধান্ত আপনিই দিবেন। আপনি যদি চাঁদাবাজদের পক্ষে ভোট দেন, তাহলে বেশি দামে খাবেন, কারণ- আমরা সবাই জানি ১০ টাকার পণ্যের দাম কেন শহরে আসতে আসতে ৫০-৬০ টাকা হয়ে যায়।
কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে চায় কিনা- সেই সিদ্ধান্ত এই ভোটের মাধ্যমে কৃষক নিজেই নিবে। মজুতদার ফড়িয়ারা নামমাত্র মূল্যে ফসল কেনে- তারপর বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে, সবাই জানে। কিন্তু তাদের কিচ্ছু হয়না। কারণ তারা জায়গামত বখরা দেয়। কৃষক যদি ফসলের ন্যায্যমূল্য পেতে চায় তাহলে তাকে এমন কাউকে ভোট দিতে হবে যারা ক্ষমতা পেলে আশা করা যায় ফড়িয়াদের টুটি চেপে ধরবে।
নাগরিক যদি চায় যে তার এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, বিল্ডিং এর কাজ মানসম্পন্ন হোক, রডের বদলে বাঁশ না থাকুক- রাস্তার গর্তে এক্সিডেন্ট করে তার সন্তানের মৃত্যু না হোক, তাহলে তাকে টেন্ডারবাজের বিপক্ষে ভোট দিতে হবে। কারণ, টেন্ডারবাজির কারণে ১০০ টাকা বাজেটের কাজ ভাগ বাটোয়ারা শেষে ২০ টাকায় সম্পন্ন করা হয়।
আপনি যদি চান আপনার দরকারি কাজের জন্য সরকারি অফিসে গিয়ে দিনের পর দিন ভোগান্তির শিকার হবেন- তাহলে অবশ্যই তাদের ভোট দিবেন যারা দূর্নীতি করতে ওস্তাদ!
যদি চান অসুস্থ হলে হয় সরকারি হাসপাতালের ফ্লোরে পরে থাকবেন অথবা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে ফতুর হবেন- তাহলে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ ঋণখেলাপীদের ভোট দিবেন। কারণ, স্বাস্থ্যখাত যে নানান সিন্ডিকেটের হাতে বন্দী সেটা আমরা জানি। সেইসব সিন্ডিকেট কারা চালায় সেটাও অজানা নয়।
সুচিকিৎসা চাইলে এমন কাউকে ভোট দিতে হবে যারা সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে সরকারি হাসপাতালের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করবে বলে আশা করা যায়।
সিদ্ধান্ত আপনার নিজের হাতে। ভোট দিবেন চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, ঋণখেলাপি, বেনামাজীকে- আর চাইবেন ভালো কিছু?
তা হবেনা ভাই।
ভোট দেওয়ার পর যা পাবেন- মনে করবেন সেটা আপনার নিজেরই কৃতকর্মের ফল। আল্লাহ আপনাকে জ্ঞান বুদ্ধি সুযোগ দিয়েছিলেন- এরপর আপনি যেরকম কাজ করবেন সেরকম ফলই তো আপনি পাবেন। তাই না?